হোঁচট খেয়ে বছর শুরু সিটি-লিভারপুলের

- আপডেট সময় : ০২:২১:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬
- / 134
জয়ের ধারায় ছিল ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দুই জায়ান্ট ম্যানচেস্টার সিটি ও লিভারপুল। সান্ডারল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে টানা আট ম্যাচে জয় ছিল সিটির। আর সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা চার ম্যাচ জিতে ফিরে আসার আভাস দিচ্ছিল অল রেডরা। তবে গোলশূন্য ড্র করে হোঁচট খেয়েই নতুন বছরটা শুরু হলো দুই দলের।
লিগ জয়ের দৌড়ে আর্সেনালের সঙ্গে সমানতালে লড়ছিল ম্যান সিটি। তবে সান্ডারল্যান্ডের মাঠে গোলশূন্য ড্র করে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা গানারদের সঙ্গে ব্যবধান কমাতে ব্যর্থ হয় পেপ গার্দিওলার দল। প্রতিপক্ষের জমাট রক্ষণভাগ আর অসাধারণ গোলকিপিং হতাশ করে সিটিজেনদের।
এই ড্রয়ের পর ১৯ ম্যাচে ৪১ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে ম্যানচেস্টার সিটি। ৪ পয়েন্ট বেশি নিয়ে এক নম্বরে আর্সেনাল। সমান ম্যাচে ২৯ পয়েন্ট নিয়ে সাত নম্বরে অবস্থান করছে সান্ডারল্যান্ড। প্রিমিয়ার লিগে চলতি মৌসুমে ঘরের মাঠে অপরাজিত থাকার ধারা ধরে রাখল দ্বিতীয় সারির লিগ থেকে উঠে আসা ক্লাবটি।
জল্পনা-কল্পনার ইতি ঘটিয়ে অবসরের ঘোষণা খাজার
বছরের শুরুর দিনের ম্যাচে দারুণ লড়াইয়ে দুই দলই গোলের সুযোগ তৈরি করে। তবে শুধু জালে বল পাঠাতেই ব্যর্থ হয় সিটি-সান্ডারল্যান্ড। অবশ্য ৬ মিনিটেই লিড নেওয়ার উদযাপনে মেতে উঠেছিল সিটি। রায়ান চেরকির কর্নার থেকে আর্লিং হলান্ডের হালকা ছোঁয়ায় বল পেয়ে লক্ষ্যভেদ করেন বার্নার্দো সিলভা। তবে আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। সহকারী রেফারির পতাকা তুলে জানিয়ে দেয়, অফসাইড ছিলেন সিটির অধিনায়ক।
প্রতি-আক্রমণে সিটির রক্ষণে বেশ ভয় ধরিয়ে দিচ্ছিল সান্ডারল্যান্ড। এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগও এসেছিল স্বাগতিকদের। তবে দুর্দান্ত সেভ করে সিটিকে সে দফা বাঁচান জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা।
ম্যাচে মোট ১৪টি শট নিয়ে চারটি লক্ষ্যে রাখা ম্যান সিটির হোঁচট খাওয়ার রাতে নিষ্প্রভ ছিলেন হলান্ড। প্রিমিয়ার লিগে এখন পর্যন্ত একমাত্র দল হিসেবে সান্ডারল্যান্ডই সিটির নম্বর নাইনকে গোলবিহীন রাখতে পেরেছে। প্রতিযোগিতায় মুখোমুখি হওয়া বাকি ২৩ দলের বিপক্ষেই জাল খুঁজে পেয়েছিলেন নরওয়েজিয়ান ফরোয়ার্ড। সান্ডারল্যান্ডের সংগঠিত রক্ষণভাগ হলান্ডকে কোনো সুযোগই দেয়নি।
সিটির বিপক্ষে মোট চারটি সেভ করেন রবিন রোয়েফস। এতে চলতি মৌসুমে লিগে তাঁর মোট সেভ দাঁড়াল ৬৭। এ মৌসুমে কেবল বার্নলির গোলকিপার মার্টিন দুব্রাভকা (৬৯) তাঁর চেয়ে বেশি সেভ করেছেন।
রাতের আরেক ম্যাচে ঘরের মাঠ এনফিল্ডে হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়ে লিভারপুল। পয়েন্ট টেবিলের নিচের দিকের দল লিডস ইউনাইটেডের সঙ্গে গোলশূন্য ড্রয়ে আর্নে স্লটের দলের টানা চার ম্যাচের জয়যাত্রা থেমে যায়। একই সঙ্গে এই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে রেডসদের ২০ ম্যাচের গোল করার ধারাও শেষ হলো।
চরম হতাশাজনক মৌসুম শুরুর পর ঘুরে দাড়ানোর ইঙ্গিত দেওয়া লিভারপুল এই ড্রয়ের পর ১৯ ম্যাচে ৩৩ পয়েন্ট নিয়ে চারে আছে। সমান ম্যাচে ২১ পয়েন্ট নিয়ে ১৬ নম্বরে লিডস।
গোলের জন্য আপ্রাণ চেষ্টাই চালায় লিভারপুল। অল রেডরা ১৯টি শট নিয়ে চারটি গোলমুখে রাখে। যেখানে প্রতিপক্ষ লিডসের শট ছিল মাত্র চারটি।
ফ্লোরিয়ান ভির্টজ প্রায় জট খুলে দিচ্ছিলেন। হুগো একিতিকের শট লিডসের গোলকিপার লুকাস পেরির হাত ফসকে বেরিয়ে যায়। তবে সফরকারীদের পাঁচজনের রক্ষণভাগ পুরো ম্যাচজুড়েই দৃঢ়তা দেখায়।
লিডস সোনালি সুযোগ পায়, যখন লিভারপুলের ব্রাজিলিয়ান গোলকিপার আলিসন বেকারের দুর্বল ক্লিয়ারেন্স গিয়ে পড়ে ইথান আম্পাদুর পায়ে। কিন্তু পুরো গোলপোস্ট খালি পেয়েও দুর্বল শট নেন তিনি, শেষ পর্যন্ত সহজেই ঠেকান আলিসন।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের ছন্দ কমে যায়। দুই দলের জন্যই স্পষ্ট সুযোগ ছিল হাতে গোনা। ভার্জিল ফন ডাইকের একটি হেডার লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়, আর শেষদিকে একিতিকে ও কোডি গাকপো চারটি সেভ করা লিডসের গোলকিপারকে তেমন কোনো সমস্যায় ফেলতে পারেননি। এক প্রান্তে জেরেমি ফ্রিমপংয়ের সঙ্গে ইলিয়া গ্রুয়েভ ও অন্য প্রান্তে অ্যান্ড্রু রবার্টসনের সঙ্গে জেমস জাস্টিনের লড়াই ছিল চোখে পড়ার মতো।
অ্যান ফিল্ডের পুরো গ্যালারি এক মুহূর্তের জন্য হঠাৎ স্তব্ধ হয়ে যায়, যখন লিডসের বদলি নামা ক্যালভার্ট-লুইন বল জালে জড়ান। তবে অফসাইডের পতাকা লিভারপুলকে স্বস্তি দেয়। শেষ পর্যন্ত স্বাগতিকতের ডেরা থেকে এক পয়েন্ট ছিনিয়ে নেওয়ার আনন্দ নিয়েই মাঠ ছাড়ে লিডস। বিপরীতে নতুন বছরের শুরুটা মোটেও আশাব্যঞ্জক হলো না লিভারপুলের।






















