ঢাকা ১২:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নির্বাচনের জন্য সরকার পূর্ণ প্রস্তুত : প্রেস সচিব

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:৫৮:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 135
156

আসন্ন নির্বাচনের জন্য সরকার রাজনৈতিক, প্রশাসনিক এবং নিরাপত্তার সব ক্ষেত্রেই পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেছেন, ‘নির্বাচনের মাত্র ৩৭ দিন বাকি, আমাদের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ। যারা নির্বাচন নিয়ে এখনও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন, তাদের প্রোফাইল আমাদের কাছে স্পষ্ট।’

আজ মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

প্রেস সচিব আরও বলেন, ‘সিকিউরিটি ফোর্স—পুলিশ, মিলিটারি ও বিজিপি—আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। সম্প্রতি দেশে তিনটি বড় ইভেন্ট—ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদির জানাজা, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের দেশে ফেরা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা—বৃহৎ জনসমাগমসহ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই ধরনের এত বড় ইভেন্ট একই সময়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে আগে হয়নি এবং আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী এগুলো সুচারুভাবে পরিচালনা করেছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘ সাধারণত এই ধরনের নির্বাচনে অবজারভার পাঠায় না, তাই অভ্যন্তরীণভাবে সব প্রস্তুতি নিশ্চিত করা হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন করা।’

নির্বাচনের পর দেশের উন্নয়ন নিয়ে বিএনপির ভাবনা জানতে চেয়েছে ইইউ : নজরুল ইসলাম খান

শফিকুল আলম বলেন, জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে পোস্টাল ব্যালটে ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮২ জন তালিকাভুক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দেশে ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৪০ জন এবং বিদেশে ৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৪২ জন রয়েছেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের পোস্টাল ব্যালটের মডেল নিয়ে ইইউ, ইউএনডিপি, শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশ আগ্রহ দেখিয়েছে। এটি বর্তমান সরকারের অন্যতম সাফল্য।

তার মতে, গণভোট নিয়ে দেশের সাধারণ মানুষের অভূতপূর্ব সাড়ার কারণে ভোটের গাড়ির সংখ্যা ১০ থেকে ৩০টি করা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার পর থেকে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়া শুরু হবে। প্রেস সচিব বলেন, এবারের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে প্রবাসী ভোট আরও বিস্তৃত করার সুযোগ রয়েছে। বিভিন্ন হিসাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের প্রবাসী জনসংখ্যা দেড় কোটির কাছাকাছি। তাঁদের সবাইকে ভোটের আওতায় আনাই সরকারের লক্ষ্য।

শফিকুল আলম আরও বলেন, দেশের অর্থনীতি যে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল, সেই প্রবাসী নাগরিকদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে অতীতে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। প্রথমবারের মতো সে ঘাটতি পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিন থেকেই প্রধান উপদেষ্টা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নিচ্ছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রেস সচিব জানিয়েছেন, গণভোটের বিষয়ে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে ইমামদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধান উপদেষ্টা। অন্যান্য ধর্মের যাজকদের মাধ্যমে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে বৈঠক হয়েছে।

প্রেস সচিব জানান, আজকের বৈঠকে দেশের ইমাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও মক্তবগুলোর ভূমিকাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাংলাদেশে প্রাক-প্রাথমিক স্তরে ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া হয়— এমন প্রায় ৭৭ হাজার মক্তব রয়েছে, যেখানে মূলত ইমামরাই পাঠদান করেন। গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে মক্তবের এসব শিক্ষককে সম্পৃক্ত করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় চার লাখ মসজিদ রয়েছে, যার মধ্যে ঢাকায় রয়েছে প্রায় চার হাজার। এসব মসজিদের ইমামকে কীভাবে গণভোটের বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে উৎসাহিত করা যায়, তা নিয়েও আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে হিন্দু, খ্রিস্টানসহ অন্যান্য ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মন্দির, গির্জা ও উপাসনালয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে গণভোটে অংশ নিতে উদ্বুদ্ধ করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

শফিকুল আলম জানান, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ধর্ম উপদেষ্টা, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গণভোট সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে হাজার হাজার লিফলেট ছাপানো হচ্ছে বলে জানান প্রেস সচিব। এসব লিফলেট সারা দেশে বিতরণ করা হবে, যাতে গণভোট ও জুলাই সনদ সম্পর্কে জনগণের ধারণা আরও স্পষ্ট হয়।

ব্রিফিংয়ে শফিকুল আলম আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং সপ্তাহে তিনদিন সংবাদ সম্মেলন করবে। এতে নির্বাচন ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে আপডেট তথ্য দেয়া হবে। নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় শীর্ষ নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ জোর দেবে অন্তর্বর্তী সরকার। প্রয়োজন সাপেক্ষে সরকারের পক্ষ থেকে প্রার্থীদের গানম্যানও দেয়া হয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

নির্বাচনের জন্য সরকার পূর্ণ প্রস্তুত : প্রেস সচিব

আপডেট সময় : ১০:৫৮:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬
156

আসন্ন নির্বাচনের জন্য সরকার রাজনৈতিক, প্রশাসনিক এবং নিরাপত্তার সব ক্ষেত্রেই পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেছেন, ‘নির্বাচনের মাত্র ৩৭ দিন বাকি, আমাদের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ। যারা নির্বাচন নিয়ে এখনও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন, তাদের প্রোফাইল আমাদের কাছে স্পষ্ট।’

আজ মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

প্রেস সচিব আরও বলেন, ‘সিকিউরিটি ফোর্স—পুলিশ, মিলিটারি ও বিজিপি—আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। সম্প্রতি দেশে তিনটি বড় ইভেন্ট—ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদির জানাজা, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের দেশে ফেরা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা—বৃহৎ জনসমাগমসহ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই ধরনের এত বড় ইভেন্ট একই সময়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে আগে হয়নি এবং আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী এগুলো সুচারুভাবে পরিচালনা করেছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘ সাধারণত এই ধরনের নির্বাচনে অবজারভার পাঠায় না, তাই অভ্যন্তরীণভাবে সব প্রস্তুতি নিশ্চিত করা হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন করা।’

নির্বাচনের পর দেশের উন্নয়ন নিয়ে বিএনপির ভাবনা জানতে চেয়েছে ইইউ : নজরুল ইসলাম খান

শফিকুল আলম বলেন, জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে পোস্টাল ব্যালটে ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮২ জন তালিকাভুক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দেশে ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৪০ জন এবং বিদেশে ৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৪২ জন রয়েছেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের পোস্টাল ব্যালটের মডেল নিয়ে ইইউ, ইউএনডিপি, শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশ আগ্রহ দেখিয়েছে। এটি বর্তমান সরকারের অন্যতম সাফল্য।

তার মতে, গণভোট নিয়ে দেশের সাধারণ মানুষের অভূতপূর্ব সাড়ার কারণে ভোটের গাড়ির সংখ্যা ১০ থেকে ৩০টি করা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার পর থেকে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়া শুরু হবে। প্রেস সচিব বলেন, এবারের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে প্রবাসী ভোট আরও বিস্তৃত করার সুযোগ রয়েছে। বিভিন্ন হিসাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের প্রবাসী জনসংখ্যা দেড় কোটির কাছাকাছি। তাঁদের সবাইকে ভোটের আওতায় আনাই সরকারের লক্ষ্য।

শফিকুল আলম আরও বলেন, দেশের অর্থনীতি যে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল, সেই প্রবাসী নাগরিকদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে অতীতে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। প্রথমবারের মতো সে ঘাটতি পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিন থেকেই প্রধান উপদেষ্টা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নিচ্ছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রেস সচিব জানিয়েছেন, গণভোটের বিষয়ে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে ইমামদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধান উপদেষ্টা। অন্যান্য ধর্মের যাজকদের মাধ্যমে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে বৈঠক হয়েছে।

প্রেস সচিব জানান, আজকের বৈঠকে দেশের ইমাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও মক্তবগুলোর ভূমিকাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাংলাদেশে প্রাক-প্রাথমিক স্তরে ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া হয়— এমন প্রায় ৭৭ হাজার মক্তব রয়েছে, যেখানে মূলত ইমামরাই পাঠদান করেন। গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে মক্তবের এসব শিক্ষককে সম্পৃক্ত করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় চার লাখ মসজিদ রয়েছে, যার মধ্যে ঢাকায় রয়েছে প্রায় চার হাজার। এসব মসজিদের ইমামকে কীভাবে গণভোটের বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে উৎসাহিত করা যায়, তা নিয়েও আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে হিন্দু, খ্রিস্টানসহ অন্যান্য ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মন্দির, গির্জা ও উপাসনালয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে গণভোটে অংশ নিতে উদ্বুদ্ধ করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

শফিকুল আলম জানান, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ধর্ম উপদেষ্টা, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গণভোট সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে হাজার হাজার লিফলেট ছাপানো হচ্ছে বলে জানান প্রেস সচিব। এসব লিফলেট সারা দেশে বিতরণ করা হবে, যাতে গণভোট ও জুলাই সনদ সম্পর্কে জনগণের ধারণা আরও স্পষ্ট হয়।

ব্রিফিংয়ে শফিকুল আলম আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং সপ্তাহে তিনদিন সংবাদ সম্মেলন করবে। এতে নির্বাচন ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে আপডেট তথ্য দেয়া হবে। নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় শীর্ষ নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ জোর দেবে অন্তর্বর্তী সরকার। প্রয়োজন সাপেক্ষে সরকারের পক্ষ থেকে প্রার্থীদের গানম্যানও দেয়া হয়েছে।