ঢাকা ১১:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবার প্রত্যাহার

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:৪০:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 65

নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় কূটনীতিকদের জন্য ‘নন-ফ্যামিলি পোস্টিং’ ঘোষণা করেছে ভারত। তবে ঢাকাসহ দেশের পাঁচটি ভারতীয় কূটনৈতিক মিশন পূর্ণ শক্তিতে কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। খবর হিন্দুস্থান টাইমস

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) হিন্দুস্থান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে দীর্ঘদিন ধরেই এই সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়াধীন ছিল। এর অংশ হিসেবে ঢাকার হাইকমিশন ও চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী ও সিলেটের চারটি সহকারী হাইকমিশনে কর্মরত কর্মকর্তাদের পরিবার-পরিজনদের ভারতে ফিরে যেতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কবে নাগাদ কূটনীতিকদের পরিবার প্রত্যাবর্তন করবে-সে বিষয়ে এখনও নির্দিষ্ট সময়সূচি ঠিক হয়নি। নিরাপত্তার কারণে বাংলাদেশে কর্মরত ভারতীয় কূটনীতিকদের সংখ্যা সম্পর্কেও বিস্তারিত জানানও হয়নি।

জোট ছেড়ে আসা ইসলামী আন্দোলনের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ

ভারতীয় কূটনীতিকদের জন্য ‘নন-ফ্যামিলি পোস্টিং’ সবচেয়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলোর একটি। বর্তমানে পাকিস্তানেও অনুরূপভাবে ‘নো চিলড্রেন পোস্টিং’ চালু রয়েছে।

ভারতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বাংলাদেশে উগ্র ও চরমপন্থী গোষ্ঠীর তৎপরতা বেড়েছে এবং পাকিস্তান-সংশ্লিষ্ট উপাদানগুলো তুলনামূলকভাবে বেশি সুযোগ পাচ্ছে। এ কারণে কূটনীতিকদের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও তীব্র হয়েছে।

এর আগে ভারত বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করলেও ঢাকা তা প্রত্যাখ্যান করেছে। একই সঙ্গে ভারত সরকার উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান না নেয়ার অভিযোগও তুলেছে।

২০২৪ সালের আগস্টে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের টানাপোড়েন বাড়তে থাকে। সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ও সহিংস ঘটনার পর ঢাকায় ও নয়াদিল্লিতে উভয় দেশের কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গত মাসে চট্টগ্রামে ভারতীয় মিশনের বাইরে সহিংস বিক্ষোভের ঘটনাও ঘটে।

তবে একই সময়ে ভারত বিএনপির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে দলটি সবচেয়ে বড় দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সম্প্রতি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নেন এবং তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, যা রাজনৈতিক মহলে সম্পর্কোন্নয়ের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবার প্রত্যাহার

আপডেট সময় : ১০:৪০:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় কূটনীতিকদের জন্য ‘নন-ফ্যামিলি পোস্টিং’ ঘোষণা করেছে ভারত। তবে ঢাকাসহ দেশের পাঁচটি ভারতীয় কূটনৈতিক মিশন পূর্ণ শক্তিতে কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। খবর হিন্দুস্থান টাইমস

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) হিন্দুস্থান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে দীর্ঘদিন ধরেই এই সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়াধীন ছিল। এর অংশ হিসেবে ঢাকার হাইকমিশন ও চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী ও সিলেটের চারটি সহকারী হাইকমিশনে কর্মরত কর্মকর্তাদের পরিবার-পরিজনদের ভারতে ফিরে যেতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কবে নাগাদ কূটনীতিকদের পরিবার প্রত্যাবর্তন করবে-সে বিষয়ে এখনও নির্দিষ্ট সময়সূচি ঠিক হয়নি। নিরাপত্তার কারণে বাংলাদেশে কর্মরত ভারতীয় কূটনীতিকদের সংখ্যা সম্পর্কেও বিস্তারিত জানানও হয়নি।

জোট ছেড়ে আসা ইসলামী আন্দোলনের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ

ভারতীয় কূটনীতিকদের জন্য ‘নন-ফ্যামিলি পোস্টিং’ সবচেয়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলোর একটি। বর্তমানে পাকিস্তানেও অনুরূপভাবে ‘নো চিলড্রেন পোস্টিং’ চালু রয়েছে।

ভারতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বাংলাদেশে উগ্র ও চরমপন্থী গোষ্ঠীর তৎপরতা বেড়েছে এবং পাকিস্তান-সংশ্লিষ্ট উপাদানগুলো তুলনামূলকভাবে বেশি সুযোগ পাচ্ছে। এ কারণে কূটনীতিকদের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও তীব্র হয়েছে।

এর আগে ভারত বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করলেও ঢাকা তা প্রত্যাখ্যান করেছে। একই সঙ্গে ভারত সরকার উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান না নেয়ার অভিযোগও তুলেছে।

২০২৪ সালের আগস্টে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের টানাপোড়েন বাড়তে থাকে। সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ও সহিংস ঘটনার পর ঢাকায় ও নয়াদিল্লিতে উভয় দেশের কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গত মাসে চট্টগ্রামে ভারতীয় মিশনের বাইরে সহিংস বিক্ষোভের ঘটনাও ঘটে।

তবে একই সময়ে ভারত বিএনপির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে দলটি সবচেয়ে বড় দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সম্প্রতি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নেন এবং তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, যা রাজনৈতিক মহলে সম্পর্কোন্নয়ের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।