ঢাকা ০১:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাজারে সরবরাহ বাড়লেও দাম কমেনি সবজি-ইলিশের

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:২৯:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
  • / 1

সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাবে রাজধানীর বাজারে সপ্তাহ ব্যবধানে বেড়েছে অধিকাংশ সবজির দাম। বাজারে সবজির দামে যেন আগুন। আর শিম এখন সবচেয়ে দামি সবজি। বিপরীতে ৩০ টাকা কেজি দরে মিলছে পেঁপে। এ ছাড়া বেশিরভাগ সবজি কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে অন্তত ৭০ টাকা। তবে সবজির দামের ঊর্ধ্বমুখী চাপের মধ্যেও চলতি সপ্তাহে মাছ, মাংস ও ডিমের বাজারে বড় কোনো পরিবর্তন নেই। ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে কেজি ১৮০ টাকায়।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, রামপুরা বাজার ও মালিবাগ বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, বেগুন, করলা, বরবটি, ঢ্যাঁড়স, পটল ও কাঁকরোলসহ বেশির ভাগ সাধারণ সবজি বিক্রি হচ্ছে কেজি ৭০ থেকে ১২০ টাকা দরে। শসা তুলনামূলক কম দামে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে। তবে দেশি শসার দাম ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি।

শীতের আগাম সবজি শিম বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজিতে। আর সবচেয়ে কম দামে পেঁপে পাওয়া যাচ্ছে, কেজি ৩০ টাকা। সবজির উচ্চমূল্যের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি এসেছে কাঁচা মরিচের বাজারে। কয়েক সপ্তাহ আগে কেজিপ্রতি ২০০ টাকা পর্যন্ত ওঠা কাঁচা মরিচ এখন সরবরাহ বাড়ায় মানভেদে ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

দাম বেশি এমন সবজির মধ্যে লম্বা বেগুন ১০০ টাকা, গোল বেগুন ১২০ টাকা এবং টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বরবটি, ঝিঙে ও করলার কেজি ৮০ টাকা। লাউ প্রতি পিস ৫০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে কচুর লতি ৮০ টাকা, কচুরমুখি ৫০ থেকে ৬০, শসা ৭০ থেকে ৮০, বরবটি ৬০ থেকে ৮০ এবং মিষ্টি কুমড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লেবু এক হালি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, কাঁচা কলা এক হালি ৪০ টাকা এবং চালকুমড়া প্রতি পিস ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে লাল শাক এক আঁটি ১৫ টাকা, লাউ শাক ৫০, কলমি শাক দুই আঁটি ২০, পুঁই শাক ৪০ এবং ডাঁটা শাক দুই আঁটি ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

সবজি ক্রেতা রাশেদুল বলেন, ‘আজ টমেটো কিনেছি ১২০, করলা ৮০ টাকা, ছোট লাউ ৫০ টাকা ও মরিচ কিনেছি ১২০ টাকায়। সব কিছুর দাম বেশি।’

মুরগির বাজারেও দামে তেমন পরিবর্তন নেই। রাজধানীর বাজারে ব্রয়লার মুরগি কেজি ১৮০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দামও আগের উচ্চমূল্যেই রয়েছে। প্রতি ডজন ডিম ১৫৫ টাকা এবং চারটি ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে ইলিশের সরবরাহ বাড়লেও দাম কমেনি। ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা, ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রামের ইলিশ ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা এবং ১ কেজি ওজনের ইলিশ ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে ইলিশের সরবরাহ ভালো রয়েছে। তবে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন খরচ বেড়েছে, যার প্রভাব মাছের দামে পড়েছে।

মাছের বাজারে তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, রুই-কাতলা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা এবং চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ট্যাংরা ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

আকারভেদে চাষের শিং মাছ ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি আকারের রুই পাওয়া যাচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায়। এ ছাড়া রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে গেলে কেজিপ্রতি ১ হাজার টাকার বেশি গুনতে হচ্ছে।

বাজার করতে আসা ক্রেতা রহমান মিয়া বলেন, ‘সবজির দাম শুনতে কিছুটা কম মনে হলেও একসঙ্গে কয়েক ধরনের সবজি কিনলে বেশ ভালোই টাকা চলে যাচ্ছে। শিম, মরিচ, গাজরের মতো সবজির দাম অনেক বেশি। মাছ ও ডিমের দামও কম নয়।’

বিক্রেতারা বলছেন, শীতের সবজির সরবরাহ বাড়লে বাজারে দাম আরও কিছুটা কমতে পারে। তবে বর্তমানে চাহিদা ও সরবরাহ, পরিবহন খরচ এবং বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে প্রতিদিনই কিছু পণ্যের দামে পরিবর্তন হচ্ছে। ফলে নিত্যপণ্যের বাজারে ক্রেতাদের স্বস্তি এখনও পুরোপুরি ফেরেনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

বাজারে সরবরাহ বাড়লেও দাম কমেনি সবজি-ইলিশের

আপডেট সময় : ১২:২৯:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাবে রাজধানীর বাজারে সপ্তাহ ব্যবধানে বেড়েছে অধিকাংশ সবজির দাম। বাজারে সবজির দামে যেন আগুন। আর শিম এখন সবচেয়ে দামি সবজি। বিপরীতে ৩০ টাকা কেজি দরে মিলছে পেঁপে। এ ছাড়া বেশিরভাগ সবজি কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে অন্তত ৭০ টাকা। তবে সবজির দামের ঊর্ধ্বমুখী চাপের মধ্যেও চলতি সপ্তাহে মাছ, মাংস ও ডিমের বাজারে বড় কোনো পরিবর্তন নেই। ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে কেজি ১৮০ টাকায়।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, রামপুরা বাজার ও মালিবাগ বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, বেগুন, করলা, বরবটি, ঢ্যাঁড়স, পটল ও কাঁকরোলসহ বেশির ভাগ সাধারণ সবজি বিক্রি হচ্ছে কেজি ৭০ থেকে ১২০ টাকা দরে। শসা তুলনামূলক কম দামে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে। তবে দেশি শসার দাম ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি।

শীতের আগাম সবজি শিম বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজিতে। আর সবচেয়ে কম দামে পেঁপে পাওয়া যাচ্ছে, কেজি ৩০ টাকা। সবজির উচ্চমূল্যের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি এসেছে কাঁচা মরিচের বাজারে। কয়েক সপ্তাহ আগে কেজিপ্রতি ২০০ টাকা পর্যন্ত ওঠা কাঁচা মরিচ এখন সরবরাহ বাড়ায় মানভেদে ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

দাম বেশি এমন সবজির মধ্যে লম্বা বেগুন ১০০ টাকা, গোল বেগুন ১২০ টাকা এবং টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বরবটি, ঝিঙে ও করলার কেজি ৮০ টাকা। লাউ প্রতি পিস ৫০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে কচুর লতি ৮০ টাকা, কচুরমুখি ৫০ থেকে ৬০, শসা ৭০ থেকে ৮০, বরবটি ৬০ থেকে ৮০ এবং মিষ্টি কুমড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লেবু এক হালি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, কাঁচা কলা এক হালি ৪০ টাকা এবং চালকুমড়া প্রতি পিস ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে লাল শাক এক আঁটি ১৫ টাকা, লাউ শাক ৫০, কলমি শাক দুই আঁটি ২০, পুঁই শাক ৪০ এবং ডাঁটা শাক দুই আঁটি ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

সবজি ক্রেতা রাশেদুল বলেন, ‘আজ টমেটো কিনেছি ১২০, করলা ৮০ টাকা, ছোট লাউ ৫০ টাকা ও মরিচ কিনেছি ১২০ টাকায়। সব কিছুর দাম বেশি।’

মুরগির বাজারেও দামে তেমন পরিবর্তন নেই। রাজধানীর বাজারে ব্রয়লার মুরগি কেজি ১৮০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দামও আগের উচ্চমূল্যেই রয়েছে। প্রতি ডজন ডিম ১৫৫ টাকা এবং চারটি ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে ইলিশের সরবরাহ বাড়লেও দাম কমেনি। ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা, ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রামের ইলিশ ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা এবং ১ কেজি ওজনের ইলিশ ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে ইলিশের সরবরাহ ভালো রয়েছে। তবে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন খরচ বেড়েছে, যার প্রভাব মাছের দামে পড়েছে।

মাছের বাজারে তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, রুই-কাতলা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা এবং চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ট্যাংরা ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

আকারভেদে চাষের শিং মাছ ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি আকারের রুই পাওয়া যাচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায়। এ ছাড়া রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে গেলে কেজিপ্রতি ১ হাজার টাকার বেশি গুনতে হচ্ছে।

বাজার করতে আসা ক্রেতা রহমান মিয়া বলেন, ‘সবজির দাম শুনতে কিছুটা কম মনে হলেও একসঙ্গে কয়েক ধরনের সবজি কিনলে বেশ ভালোই টাকা চলে যাচ্ছে। শিম, মরিচ, গাজরের মতো সবজির দাম অনেক বেশি। মাছ ও ডিমের দামও কম নয়।’

বিক্রেতারা বলছেন, শীতের সবজির সরবরাহ বাড়লে বাজারে দাম আরও কিছুটা কমতে পারে। তবে বর্তমানে চাহিদা ও সরবরাহ, পরিবহন খরচ এবং বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে প্রতিদিনই কিছু পণ্যের দামে পরিবর্তন হচ্ছে। ফলে নিত্যপণ্যের বাজারে ক্রেতাদের স্বস্তি এখনও পুরোপুরি ফেরেনি।