ঢাকা ০৭:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বয়সসীমা নির্ধারণের উদ্যোগ ভারতের

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:৪১:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 132
157

অস্ট্রেলিয়ার মতো ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা ভাবছে ভারত। এর মধ্যে এটি বাস্তবায়নে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে গোয়া ও অন্ধ্রপ্রদেশের সরকার। প্রস্তাবটি এখনও কার্যকর না হলেও, এটিকে স্বাগত জানিয়েছে ভারতের শিক্ষার্থীরা।

গেল বছর বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে অস্ট্রেলিয়া সরকার। মডেলটি আগামীতে অন্যান্য দেশগুলো প্রয়োগ করবে বলে সেসময় জানান অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ।

এবার ওশেনিয়া মহাদেশের দেশটির দেখানো পথে হাঁটছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ডেনমার্ক ও গ্রিস। সোমবার ফ্রান্সের সংসদ ১৫ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার বন্ধের উত্থাপিত বিলকে সমর্থন করেছে। সবশেষ এ তালিকায় যুক্ত হলো ভারতের নাম। বৃহস্পতিবার ভারতের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ভি. অনন্ত নাগেশ্বরন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে বয়সসীমা নির্ধারণের পরামর্শ দিয়েছেন। জানান, স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে বেশ কয়েকটি রাজ্যের ক্রমবর্ধমান প্রচেষ্টার ভিত্তিতে এটি নিয়ে নতুন করে ভাবছে নয়াদিল্লি।

আসছে বিধ্বংসী ‘বোম্ব সাইক্লোন’ : বিপর্যস্ত হতে পারে ২ কোটি ৮০ লাখ মানুষ

ভারতের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ভি. অনন্ত নাগেশ্বরন বলেন, ‘এটা অত্যন্ত খুশির বিষয় যে অন্ধ্রপ্রদেশ ও গোয়া সরকার ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহার সীমিত করার বিষয়ে ভাবছে। আমরা দুটি সমীক্ষা পর্যালোচনায় দেখেছি, অতিরিক্ত স্ক্রিনটাইমের ফলে মানুষের মধ্যে বিষণ্ণতা ও হতাশা বাড়ছে। তবে আমরা কোনো বিষয়ই জনগণের ওপর চাপিয়ে দিতে চাই না। শুধু বলতে চাই, অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার, কিশোরদের মধ্যে উদ্বিগ্নতা ও আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়াচ্ছে।’

এখনও কার্যকর না হলেও , প্রস্তাবটিকে স্বাগত জানিয়েছে ভারতের শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘এটি যৌক্তিক। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের বয়সের সীমাবদ্ধতা জরুরি। কেননা শিশুরা মাত্রারিক্ত সোশ্যাল মিডিয়ার মধ্যে ঝুঁকছে। বেশিরভাগ সময়ই গেমিং ও অন্যের সাথে মেসেজিং করে কাটিয়ে দিচ্ছে। এতে তাদের দৃষ্টিশক্তিসহ সার্বিক স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।’

অন্য একজন বলেন, ‘আমার মতে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম চালানোর আদর্শ বয়স হওয়া উচিত ১৬ থেকে ১৮। কেননা এসময়ে একজন তরুণ তরুণী মানসিকভাবে অনেক শক্তিশালী হয় এবং আবেগের বশবর্তী না হয়ে বাস্তবতার নিরিখে সিদ্ধান্ত নেয়।’

তবে বয়সভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা ভারতের জন্য ইতিবাচক নাও হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। কেননা এতে পরিচয়পত্র জালিয়াতি করে সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে পারে শিশু- কিশোররা। এর চেয়ে নিরাপদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে শিশু ও অভিভাবকদের সতর্ক করতে কর্তৃপক্ষকে পরামর্শ দিয়েছে বিশেষজ্ঞরা।

ভারতে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৭৫ কোটি। এছাড়া দেশটির অন্তত এক বিলিয়ন মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বয়সসীমা নির্ধারণের উদ্যোগ ভারতের

আপডেট সময় : ১০:৪১:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
157

অস্ট্রেলিয়ার মতো ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা ভাবছে ভারত। এর মধ্যে এটি বাস্তবায়নে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে গোয়া ও অন্ধ্রপ্রদেশের সরকার। প্রস্তাবটি এখনও কার্যকর না হলেও, এটিকে স্বাগত জানিয়েছে ভারতের শিক্ষার্থীরা।

গেল বছর বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে অস্ট্রেলিয়া সরকার। মডেলটি আগামীতে অন্যান্য দেশগুলো প্রয়োগ করবে বলে সেসময় জানান অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ।

এবার ওশেনিয়া মহাদেশের দেশটির দেখানো পথে হাঁটছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ডেনমার্ক ও গ্রিস। সোমবার ফ্রান্সের সংসদ ১৫ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার বন্ধের উত্থাপিত বিলকে সমর্থন করেছে। সবশেষ এ তালিকায় যুক্ত হলো ভারতের নাম। বৃহস্পতিবার ভারতের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ভি. অনন্ত নাগেশ্বরন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে বয়সসীমা নির্ধারণের পরামর্শ দিয়েছেন। জানান, স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে বেশ কয়েকটি রাজ্যের ক্রমবর্ধমান প্রচেষ্টার ভিত্তিতে এটি নিয়ে নতুন করে ভাবছে নয়াদিল্লি।

আসছে বিধ্বংসী ‘বোম্ব সাইক্লোন’ : বিপর্যস্ত হতে পারে ২ কোটি ৮০ লাখ মানুষ

ভারতের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ভি. অনন্ত নাগেশ্বরন বলেন, ‘এটা অত্যন্ত খুশির বিষয় যে অন্ধ্রপ্রদেশ ও গোয়া সরকার ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহার সীমিত করার বিষয়ে ভাবছে। আমরা দুটি সমীক্ষা পর্যালোচনায় দেখেছি, অতিরিক্ত স্ক্রিনটাইমের ফলে মানুষের মধ্যে বিষণ্ণতা ও হতাশা বাড়ছে। তবে আমরা কোনো বিষয়ই জনগণের ওপর চাপিয়ে দিতে চাই না। শুধু বলতে চাই, অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার, কিশোরদের মধ্যে উদ্বিগ্নতা ও আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়াচ্ছে।’

এখনও কার্যকর না হলেও , প্রস্তাবটিকে স্বাগত জানিয়েছে ভারতের শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘এটি যৌক্তিক। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের বয়সের সীমাবদ্ধতা জরুরি। কেননা শিশুরা মাত্রারিক্ত সোশ্যাল মিডিয়ার মধ্যে ঝুঁকছে। বেশিরভাগ সময়ই গেমিং ও অন্যের সাথে মেসেজিং করে কাটিয়ে দিচ্ছে। এতে তাদের দৃষ্টিশক্তিসহ সার্বিক স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।’

অন্য একজন বলেন, ‘আমার মতে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম চালানোর আদর্শ বয়স হওয়া উচিত ১৬ থেকে ১৮। কেননা এসময়ে একজন তরুণ তরুণী মানসিকভাবে অনেক শক্তিশালী হয় এবং আবেগের বশবর্তী না হয়ে বাস্তবতার নিরিখে সিদ্ধান্ত নেয়।’

তবে বয়সভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা ভারতের জন্য ইতিবাচক নাও হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। কেননা এতে পরিচয়পত্র জালিয়াতি করে সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে পারে শিশু- কিশোররা। এর চেয়ে নিরাপদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে শিশু ও অভিভাবকদের সতর্ক করতে কর্তৃপক্ষকে পরামর্শ দিয়েছে বিশেষজ্ঞরা।

ভারতে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৭৫ কোটি। এছাড়া দেশটির অন্তত এক বিলিয়ন মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে।