ঢাকা ০২:৪৫ পূর্বাহ্ন, রোববার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশে শেষজীবন কাটানোর ইচ্ছে কবীর সুমনের! কটাক্ষ তসলিমার

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:১০:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 249
265

কবীর সুমন এবং তসলিমা নাসরিন—এর সম্পর্ক বরাবরই আদায়-কাঁচকলায়। কবীর সুমনকে ‘হিপোক্রিট’ বলেই মনে করেন তসলিমা। দুজনের তিক্ত সম্পর্কের প্রমাণ ফের মিলল লেখিকার ফেসবুক পোস্টে। সম্প্রতি কবীর সুমনের কিছু পুরনো অবস্থান এবং তাঁর বর্তমান ‘মতাদর্শ’ নিয়ে ফেসবুকে এক বিস্ফোরক পোস্ট করলেন নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। কবীর সুমনকে সরাসরি ‘জিহাদি’ বলে কটাক্ষ করতেও পিছপা হলেন না তসলিমা। যা ঘিরে তুঙ্গে উঠেছে বিতর্ক।

কবীর সুমন বছর খানেক আগে নিজের শেষজীবনটা বাংলাদেশে কাটানোর ইচ্ছেপ্রকাশ করেছিলেন। সেই সংক্রান্ত একটি তথ্য শেয়ার করে তসলিমার অভিযোগ, কবীর সুমন এক সময় প্রকাশ্যেই বলেছিলেন যে তসলিমার ভারতবর্ষে থাকার কোনও অধিকার নেই। লেখিকার কথায়, ‘তিনি তো বলেছিলেন তসলিমা বাংলাদেশের মানুষ, কলকাতায় তো নয়ই, এমনকি ভারতবর্ষের কোথাও বাস করার কোনও অধিকার তাঁর নেই।’ তসলিমা মনে করিয়ে দিয়েছেন, যার যে দেশে জন্ম, তাকে সেখানেই থাকতে হবে— সুমনের এই যুক্তির আড়ালে আসলে মৌলবাদীদের সুরই প্রতিধ্বনিত হয়েছিল।

ফের ভূমিকম্পে কাঁপল দেশ

তসলিমা তাঁর পোস্টে আরও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। কলকাতার টিপু সুলতান মসজিদের ইমাম যখন তসলিমার মাথার দাম ‘আনলিমিটেড’ ঘোষণা করেছিলেন, লেখিকার দাবি অনুযায়ী, কবীর সুমন সেই ফতোয়ার পক্ষেই দাঁড়িয়েছিলেন। সুমনের এই অবস্থানকে ‘জিহাদি মানসিকতা’ হিসেবে ব্যাখ্যা করে তসলিমা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন— ‘এই জিহাদি মানসিকতা নিয়ে কি তিনি বাংলাদেশের জিহাদিদের সঙ্গেই শেষ জীবন কাটাতে চান?’

কবীর সুমন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার পর থেকেই তসলিমা তাঁর কড়া সমালোচকে পরিণত হন। তসলিমার মতে, যে সুমন এক সময় প্রগতিশীলতার কথা বলতেন, তিনি এখন মৌলবাদের পৃষ্ঠপোষকতা করছেন। অন্য দিকে, সুমনের ভক্তদের দাবি, কবীর সুমন সবসময়ই তাঁর নাগরিক অধিকার এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলেছেন। তসলিমার এই পোস্টকে তাঁরা ‘অমানবিক’ এবং ‘বিদ্বেষমূলক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

তসলিমার এই পোস্টের নিচে মন্তব্যের বন্যা বয়ে গিয়েছে। কেউ লিখেছেন, ‘তসলিমা সঠিক সত্যটাই তুলে ধরেছেন’, আবার কেউ সুমনের অসুস্থতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে লিখেছেন, ‘এই সময়ে এমন ব্যক্তিগত আক্রমণ করা ঠিক নয়।’ সব মিলিয়ে, সৃজনশীল জগতের দুই দিকপালের এই সংঘাত এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় চর্চার হট টপিক।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশে শেষজীবন কাটানোর ইচ্ছে কবীর সুমনের! কটাক্ষ তসলিমার

আপডেট সময় : ১২:১০:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
265

কবীর সুমন এবং তসলিমা নাসরিন—এর সম্পর্ক বরাবরই আদায়-কাঁচকলায়। কবীর সুমনকে ‘হিপোক্রিট’ বলেই মনে করেন তসলিমা। দুজনের তিক্ত সম্পর্কের প্রমাণ ফের মিলল লেখিকার ফেসবুক পোস্টে। সম্প্রতি কবীর সুমনের কিছু পুরনো অবস্থান এবং তাঁর বর্তমান ‘মতাদর্শ’ নিয়ে ফেসবুকে এক বিস্ফোরক পোস্ট করলেন নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। কবীর সুমনকে সরাসরি ‘জিহাদি’ বলে কটাক্ষ করতেও পিছপা হলেন না তসলিমা। যা ঘিরে তুঙ্গে উঠেছে বিতর্ক।

কবীর সুমন বছর খানেক আগে নিজের শেষজীবনটা বাংলাদেশে কাটানোর ইচ্ছেপ্রকাশ করেছিলেন। সেই সংক্রান্ত একটি তথ্য শেয়ার করে তসলিমার অভিযোগ, কবীর সুমন এক সময় প্রকাশ্যেই বলেছিলেন যে তসলিমার ভারতবর্ষে থাকার কোনও অধিকার নেই। লেখিকার কথায়, ‘তিনি তো বলেছিলেন তসলিমা বাংলাদেশের মানুষ, কলকাতায় তো নয়ই, এমনকি ভারতবর্ষের কোথাও বাস করার কোনও অধিকার তাঁর নেই।’ তসলিমা মনে করিয়ে দিয়েছেন, যার যে দেশে জন্ম, তাকে সেখানেই থাকতে হবে— সুমনের এই যুক্তির আড়ালে আসলে মৌলবাদীদের সুরই প্রতিধ্বনিত হয়েছিল।

ফের ভূমিকম্পে কাঁপল দেশ

তসলিমা তাঁর পোস্টে আরও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। কলকাতার টিপু সুলতান মসজিদের ইমাম যখন তসলিমার মাথার দাম ‘আনলিমিটেড’ ঘোষণা করেছিলেন, লেখিকার দাবি অনুযায়ী, কবীর সুমন সেই ফতোয়ার পক্ষেই দাঁড়িয়েছিলেন। সুমনের এই অবস্থানকে ‘জিহাদি মানসিকতা’ হিসেবে ব্যাখ্যা করে তসলিমা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন— ‘এই জিহাদি মানসিকতা নিয়ে কি তিনি বাংলাদেশের জিহাদিদের সঙ্গেই শেষ জীবন কাটাতে চান?’

কবীর সুমন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার পর থেকেই তসলিমা তাঁর কড়া সমালোচকে পরিণত হন। তসলিমার মতে, যে সুমন এক সময় প্রগতিশীলতার কথা বলতেন, তিনি এখন মৌলবাদের পৃষ্ঠপোষকতা করছেন। অন্য দিকে, সুমনের ভক্তদের দাবি, কবীর সুমন সবসময়ই তাঁর নাগরিক অধিকার এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলেছেন। তসলিমার এই পোস্টকে তাঁরা ‘অমানবিক’ এবং ‘বিদ্বেষমূলক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

তসলিমার এই পোস্টের নিচে মন্তব্যের বন্যা বয়ে গিয়েছে। কেউ লিখেছেন, ‘তসলিমা সঠিক সত্যটাই তুলে ধরেছেন’, আবার কেউ সুমনের অসুস্থতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে লিখেছেন, ‘এই সময়ে এমন ব্যক্তিগত আক্রমণ করা ঠিক নয়।’ সব মিলিয়ে, সৃজনশীল জগতের দুই দিকপালের এই সংঘাত এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় চর্চার হট টপিক।