ঢাকা ০৬:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মার্কিন বাহিনীর ‘অবস্থান জানিয়ে’ ইরানকে সহায়তা করছে রাশিয়া: প্রতিবেদন

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৬:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬
  • / 70

মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলা চালাতে ইরানকে ‘লক্ষ্যবস্তু-সংক্রান্ত’ গোয়েন্দা তথ্য দিচ্ছে রাশিয়া। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে এমন তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই রাশিয়া ইরানকে মার্কিন সামরিক সম্পদের অবস্থান জানিয়ে আসছে। এর মধ্যে যুদ্ধজাহাজ, সামরিক বিমান এবং অন্যান্য সামরিক স্থাপনার অবস্থানও রয়েছে। সংবেদনশীল বিষয় হওয়ায় কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব তথ্য দিয়েছেন।

কর্মকর্তাদের একজন বলেন, এটি ‘বেশ বিস্তৃত একটি প্রচেষ্টা’ বলে মনে হচ্ছে।

ওয়াশিংটনে রাশিয়ান দূতাবাস এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে মস্কো এই সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানিয়ে এটিকে ‘অপ্ররোচিত সশস্ত্র আগ্রাসন’ বলে উল্লেখ করেছে।

প্রতিবেদন বলছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে ইরানের নিজস্বভাবে মার্কিন বাহিনীর অবস্থান শনাক্ত করার সক্ষমতা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে উন্নত গোয়েন্দা সক্ষমতা সম্পন্ন রাশিয়ার সহায়তা তেহরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১,৩৩২

এর আগে, গত সপ্তাহে (রোববার) কুয়েতে ইরানের ড্রোন হামলায় ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হন। একই সময়ে ইরান হাজার হাজার একমুখী আক্রমণ ড্রোন এবং শত শত ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, দূতাবাস ও অন্যান্য লক্ষ্যবস্তুতে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ অভিযানে ইরানের দুই হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এসব হামলায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, নৌসম্পদ এবং দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেন, ইরানি শাসনব্যবস্থা এখন চরম চাপে রয়েছে। তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা কমে যাচ্ছে, নৌবাহিনী ধ্বংস হচ্ছে এবং সামরিক উৎপাদন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে রাশিয়ার সহায়তার বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

এদিকে, সিআইএ ও পেন্টাগনও বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সাম্প্রতিক হামলাগুলো অত্যন্ত নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হচ্ছে; বিশেষ করে রাডার, কমান্ড ও কন্ট্রোল অবকাঠামো এবং সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে। এতে উন্নত গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহারের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের নিজস্ব স্যাটেলাইট সক্ষমতা সীমিত। ফলে রাশিয়ার উন্নত মহাকাশ নজরদারি ও স্যাটেলাইট চিত্র তেহরানের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান হতে পারে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, মস্কো সরাসরি এই যুদ্ধে জড়াচ্ছে না। কারণ তাদের ‘প্রধান অগ্রাধিকার’ এখনো ইউক্রেন যুদ্ধ।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

মার্কিন বাহিনীর ‘অবস্থান জানিয়ে’ ইরানকে সহায়তা করছে রাশিয়া: প্রতিবেদন

আপডেট সময় : ০৯:৪৬:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলা চালাতে ইরানকে ‘লক্ষ্যবস্তু-সংক্রান্ত’ গোয়েন্দা তথ্য দিচ্ছে রাশিয়া। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে এমন তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই রাশিয়া ইরানকে মার্কিন সামরিক সম্পদের অবস্থান জানিয়ে আসছে। এর মধ্যে যুদ্ধজাহাজ, সামরিক বিমান এবং অন্যান্য সামরিক স্থাপনার অবস্থানও রয়েছে। সংবেদনশীল বিষয় হওয়ায় কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব তথ্য দিয়েছেন।

কর্মকর্তাদের একজন বলেন, এটি ‘বেশ বিস্তৃত একটি প্রচেষ্টা’ বলে মনে হচ্ছে।

ওয়াশিংটনে রাশিয়ান দূতাবাস এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে মস্কো এই সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানিয়ে এটিকে ‘অপ্ররোচিত সশস্ত্র আগ্রাসন’ বলে উল্লেখ করেছে।

প্রতিবেদন বলছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে ইরানের নিজস্বভাবে মার্কিন বাহিনীর অবস্থান শনাক্ত করার সক্ষমতা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে উন্নত গোয়েন্দা সক্ষমতা সম্পন্ন রাশিয়ার সহায়তা তেহরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১,৩৩২

এর আগে, গত সপ্তাহে (রোববার) কুয়েতে ইরানের ড্রোন হামলায় ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হন। একই সময়ে ইরান হাজার হাজার একমুখী আক্রমণ ড্রোন এবং শত শত ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, দূতাবাস ও অন্যান্য লক্ষ্যবস্তুতে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ অভিযানে ইরানের দুই হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এসব হামলায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, নৌসম্পদ এবং দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেন, ইরানি শাসনব্যবস্থা এখন চরম চাপে রয়েছে। তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা কমে যাচ্ছে, নৌবাহিনী ধ্বংস হচ্ছে এবং সামরিক উৎপাদন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে রাশিয়ার সহায়তার বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

এদিকে, সিআইএ ও পেন্টাগনও বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সাম্প্রতিক হামলাগুলো অত্যন্ত নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হচ্ছে; বিশেষ করে রাডার, কমান্ড ও কন্ট্রোল অবকাঠামো এবং সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে। এতে উন্নত গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহারের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের নিজস্ব স্যাটেলাইট সক্ষমতা সীমিত। ফলে রাশিয়ার উন্নত মহাকাশ নজরদারি ও স্যাটেলাইট চিত্র তেহরানের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান হতে পারে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, মস্কো সরাসরি এই যুদ্ধে জড়াচ্ছে না। কারণ তাদের ‘প্রধান অগ্রাধিকার’ এখনো ইউক্রেন যুদ্ধ।