ঢাকা ০৫:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দফায় দফায় মিসাইল হামলায় কেঁপে উঠল ইসরায়েল

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:৪৮:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬
  • / 54

আলী লারিজানি হত্যাকাণ্ডের চরম প্রতিশোধ হিসেবে ইসরায়েলে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এই আকস্মিক হামলায় কেঁপে উঠেছে মধ্য ও দক্ষিণ ইসরায়েল, যেখানে একাধিক বিস্ফোরণের পাশাপাশি প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিছু ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করলেও ধ্বংসাবশেষের আঘাতে এবং সরাসরি হামলায় বেশ কিছু এলাকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তেল আবিব জেলার রামাত গান এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে এক নারী ও এক পুরুষ নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া মধ্য ইসরায়েলের কাফর কাসেম শহরের অন্তত চারটি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানায় ব্যাপক সম্পদের ক্ষতি হয়েছে এবং আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে পড়া দুজনকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, হোলোন শহরে হামলায় বেশ কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং সেগুলোতে আগুন ধরে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সতর্কতা জারির পর মধ্য ইসরায়েলের গুশ দান এলাকায় অন্তত একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর এর ভেঙে পড়া ওয়ারহেডের কারণেও বিস্ফোরণ ঘটে।

ইরানের পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার তথ্য নিশ্চিত করল জাতিসংঘ

হামলার পরপরই ইসরায়েলজুড়ে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করার পর সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বিয়ারশেবা শহরসহ নেগেভ অঞ্চলে হামলার সতর্কতা সাইরেন বাজানো হয়। তবে দক্ষিণ ইসরায়েলের দিকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে এবং সেখানে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২।

এদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ফার্স সংবাদ সংস্থায় দেওয়া এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, লারিজানি ও তাঁর সহযোগীদের হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে তারা ইসরায়েলের কেন্দ্রস্থলে ১০০টিরও বেশি সামরিক ও নিরাপত্তা লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হেনেছে। ইসরায়েলের বহুস্তরবিশিষ্ট অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে এই হামলা সফল হয়েছে বলে দাবি তাদের। এই বিধ্বংসী হামলায় খোররামশহর-৪, কদর, এমাদ এবং খাইবারশাকান মডেলের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলেও আইআরজিসি নিশ্চিত করেছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

দফায় দফায় মিসাইল হামলায় কেঁপে উঠল ইসরায়েল

আপডেট সময় : ০১:৪৮:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬

আলী লারিজানি হত্যাকাণ্ডের চরম প্রতিশোধ হিসেবে ইসরায়েলে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এই আকস্মিক হামলায় কেঁপে উঠেছে মধ্য ও দক্ষিণ ইসরায়েল, যেখানে একাধিক বিস্ফোরণের পাশাপাশি প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিছু ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করলেও ধ্বংসাবশেষের আঘাতে এবং সরাসরি হামলায় বেশ কিছু এলাকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তেল আবিব জেলার রামাত গান এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে এক নারী ও এক পুরুষ নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া মধ্য ইসরায়েলের কাফর কাসেম শহরের অন্তত চারটি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানায় ব্যাপক সম্পদের ক্ষতি হয়েছে এবং আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে পড়া দুজনকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, হোলোন শহরে হামলায় বেশ কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং সেগুলোতে আগুন ধরে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সতর্কতা জারির পর মধ্য ইসরায়েলের গুশ দান এলাকায় অন্তত একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর এর ভেঙে পড়া ওয়ারহেডের কারণেও বিস্ফোরণ ঘটে।

ইরানের পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার তথ্য নিশ্চিত করল জাতিসংঘ

হামলার পরপরই ইসরায়েলজুড়ে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করার পর সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বিয়ারশেবা শহরসহ নেগেভ অঞ্চলে হামলার সতর্কতা সাইরেন বাজানো হয়। তবে দক্ষিণ ইসরায়েলের দিকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে এবং সেখানে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২।

এদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ফার্স সংবাদ সংস্থায় দেওয়া এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, লারিজানি ও তাঁর সহযোগীদের হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে তারা ইসরায়েলের কেন্দ্রস্থলে ১০০টিরও বেশি সামরিক ও নিরাপত্তা লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হেনেছে। ইসরায়েলের বহুস্তরবিশিষ্ট অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে এই হামলা সফল হয়েছে বলে দাবি তাদের। এই বিধ্বংসী হামলায় খোররামশহর-৪, কদর, এমাদ এবং খাইবারশাকান মডেলের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলেও আইআরজিসি নিশ্চিত করেছে।