ঢাকা ০৪:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেষ মুহূর্তে রেল, সড়ক ও নৌ-পথে ঢাকা ছাড়ছেন কর্মজীবী মানুষ

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:২৫:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬
  • / 85
102

ঈদুল ফিতর সামনে রেখে শেষ মুহূর্তে ঢাকা ছাড়ছেন কর্মজীবী মানুষ। শুক্রবার (২০ মার্চ) ভোর থেকেই বাস, ট্রেন, লঞ্চসহ বিভিন্ন যানবহনে বাড়ি ফিরছেন হাজার হাজার মানুষ। রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে আজও ঘরমুখো মানুষের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে।

রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, ঘরমুখো মানুষের উপচেপড়া ভিড়। তবে আজও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে ট্রেনে গ্রামের পথে রওনা হচ্ছেন।

সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে হাজারো যাত্রী স্টেশনে ভিড় করেন। শেষ মুহূর্তে বাড়ি ফেরার চাপ থাকলেও অন্যান্য দিনের তুলনায় যাত্রীর সংখ্যা বেশি হলেও কোনো ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় ঘটেনি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, যাত্রীরা সুশৃঙ্খলভাবে প্ল্যাটফর্মে অবস্থান নিয়ে নির্ধারিত ট্রেনে উঠছেন। অনেক ক্ষেত্রে বগির নির্ধারিত আসনের বাইরে দাঁড়িয়েও যাত্রীদের যাতায়াত করতে দেখা গেছে।

সৌদির সাথে মিল রেখে নারায়ণগঞ্জে ঈদ

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের পূর্ব প্রস্তুতির কারণে অধিকাংশ ট্রেন সময়মতো ছেড়ে গেছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও রেলওয়ে কর্মীরাও ছিল সক্রিয় অবস্থানে।

কিশোরগঞ্জের উদ্দেশ্যে যাত্রার অপেক্ষায় থাকা এগারসিন্দুর প্রভাতী ট্রেনে উঠেছেন সবজি বিক্রেতা আতাউর রহমান। তিনি জানান, তিনদিন আগে আনা সবজি গতকাল দুপুরেই বিক্রি শেষ হয়েছে। সবচেয়ে ভালো লাগছে ট্রেন অনেকটাই ফাঁকা। অন্য প্ল্যাটফর্মগুলোতেও যাত্রী উপস্থিতি কম। কোনো ভোগান্তি নেই।

রাজধানীর গাবতলী, মহাখালীসহ বিভিন্ন বাস টার্মিনালেও যাত্রীদের ভিড় করতে দেখা গেছে। তবে গত কয়েকদিনের তুলনায় যাত্রীর চাপ অনেকটা কম। পাশাপাশি সড়কে গাড়ির চাপও কম রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

নেই স্বাভাবিক যাত্রীর চাপ, সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও কম নিয়েও মিলছে না পর্যাপ্ত যাত্রী। অর্ধেকের বেশি ফাঁকা বাস নিয়েই টার্মিনাল ছাড়ছে একাধিক পরিবহন। নির্ধারিত সময়েই ছেড়ে যাচ্ছে বাসগুলো।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দূরপাল্লার পরিবহনগুলো পড়েছে যাত্রী সংকটে। অনেক নগরবাসী আগেভাগেই ঢাকা ছেড়ে যাওয়ায় এখন টার্মিনাল অনেকটাই ফাঁকা। ফলে বাসগুলো অর্ধেক বা প্রায় খালি নিয়েই ছেড়ে যাচ্ছে গন্তব্যের উদ্দেশে।

যাত্রী টানতে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও কম ভাড়া নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাতেও খুব একটা সাড়া মিলছে না। এতে আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কার কথা জানাচ্ছেন চালক ও হেলপাররা।

অন্যদিকে, যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে এবং অতিরিক্ত ভাড়ার বিষয়টি নজরদারিতে রাখতে সক্রিয় রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী । সার্বক্ষণিক নজরদারির পাশাপাশি টার্মিনালে স্থাপন করা হয়েছে পুলিশ কন্ট্রোল রুম।

সকাল থেকেই ঘরমুখো মানুষের ভিড়ে সরগরম পুরো সদরঘাট। কেউ কাঁধে ব্যাগ, কেউ পরিবারের হাত ধরে ছুটছেন লঞ্চের দিকে। দীর্ঘদিনের নিস্তব্ধতা ভেঙে যেন আবার চেনা ছন্দে ফিরেছে বৃহৎ এই লঞ্চ টার্মিনাল। ‎

লঞ্চ শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঢাকা-বরিশাল রুটে ডেক ভাড়া ৩০০ টাকা, সিঙ্গেল কেবিন ১ হাজার ২০০ টাকা এবং ডাবল কেবিন ২ হাজার ৪০০ টাকা। ভিআইপি কেবিনের ভাড়া ৬ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া ঢাকা-মুলাদি ও ভাসানচর রুটে ডেক ভাড়া ৪০০ টাকা এবং কেবিন ভাড়া ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকা। চাঁদপুর রুটে ডেক ভাড়া ২০০ টাকা এবং কেবিন ভাড়া ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকার মধ্যে রয়েছে। ‎

ঈদযাত্রায় পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের ভোগান্তির খবর পাওয়া যায়নি।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত এই দুই নৌরুটে যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক রাখতে সমন্বিতভাবে কাজ করছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি), জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বিআইডব্লিউটিসি ডিজিএম আব্দুস সালাম জানান, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে বর্তমানে ১৭টি ফেরি চলাচল করছে। অন্যদিকে আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে রয়েছে পাঁচটি ফেরি। এছাড়া যাত্রী পারাপার নির্বিঘ্ন রাখতে ৩৫টি লঞ্চও চালু রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। এই প্রেক্ষিতে, আজ ২০ মার্চ শুক্রবার পবিত্র রমজান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হবে। আগামীকাল শনিবার (২১ মার্চ) থেকে শাওয়াল মাস গণনা শুরু হবে এবং এদিন সারাদেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

শেষ মুহূর্তে রেল, সড়ক ও নৌ-পথে ঢাকা ছাড়ছেন কর্মজীবী মানুষ

আপডেট সময় : ১২:২৫:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬
102

ঈদুল ফিতর সামনে রেখে শেষ মুহূর্তে ঢাকা ছাড়ছেন কর্মজীবী মানুষ। শুক্রবার (২০ মার্চ) ভোর থেকেই বাস, ট্রেন, লঞ্চসহ বিভিন্ন যানবহনে বাড়ি ফিরছেন হাজার হাজার মানুষ। রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে আজও ঘরমুখো মানুষের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে।

রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, ঘরমুখো মানুষের উপচেপড়া ভিড়। তবে আজও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে ট্রেনে গ্রামের পথে রওনা হচ্ছেন।

সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে হাজারো যাত্রী স্টেশনে ভিড় করেন। শেষ মুহূর্তে বাড়ি ফেরার চাপ থাকলেও অন্যান্য দিনের তুলনায় যাত্রীর সংখ্যা বেশি হলেও কোনো ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় ঘটেনি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, যাত্রীরা সুশৃঙ্খলভাবে প্ল্যাটফর্মে অবস্থান নিয়ে নির্ধারিত ট্রেনে উঠছেন। অনেক ক্ষেত্রে বগির নির্ধারিত আসনের বাইরে দাঁড়িয়েও যাত্রীদের যাতায়াত করতে দেখা গেছে।

সৌদির সাথে মিল রেখে নারায়ণগঞ্জে ঈদ

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের পূর্ব প্রস্তুতির কারণে অধিকাংশ ট্রেন সময়মতো ছেড়ে গেছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও রেলওয়ে কর্মীরাও ছিল সক্রিয় অবস্থানে।

কিশোরগঞ্জের উদ্দেশ্যে যাত্রার অপেক্ষায় থাকা এগারসিন্দুর প্রভাতী ট্রেনে উঠেছেন সবজি বিক্রেতা আতাউর রহমান। তিনি জানান, তিনদিন আগে আনা সবজি গতকাল দুপুরেই বিক্রি শেষ হয়েছে। সবচেয়ে ভালো লাগছে ট্রেন অনেকটাই ফাঁকা। অন্য প্ল্যাটফর্মগুলোতেও যাত্রী উপস্থিতি কম। কোনো ভোগান্তি নেই।

রাজধানীর গাবতলী, মহাখালীসহ বিভিন্ন বাস টার্মিনালেও যাত্রীদের ভিড় করতে দেখা গেছে। তবে গত কয়েকদিনের তুলনায় যাত্রীর চাপ অনেকটা কম। পাশাপাশি সড়কে গাড়ির চাপও কম রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

নেই স্বাভাবিক যাত্রীর চাপ, সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও কম নিয়েও মিলছে না পর্যাপ্ত যাত্রী। অর্ধেকের বেশি ফাঁকা বাস নিয়েই টার্মিনাল ছাড়ছে একাধিক পরিবহন। নির্ধারিত সময়েই ছেড়ে যাচ্ছে বাসগুলো।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দূরপাল্লার পরিবহনগুলো পড়েছে যাত্রী সংকটে। অনেক নগরবাসী আগেভাগেই ঢাকা ছেড়ে যাওয়ায় এখন টার্মিনাল অনেকটাই ফাঁকা। ফলে বাসগুলো অর্ধেক বা প্রায় খালি নিয়েই ছেড়ে যাচ্ছে গন্তব্যের উদ্দেশে।

যাত্রী টানতে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও কম ভাড়া নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাতেও খুব একটা সাড়া মিলছে না। এতে আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কার কথা জানাচ্ছেন চালক ও হেলপাররা।

অন্যদিকে, যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে এবং অতিরিক্ত ভাড়ার বিষয়টি নজরদারিতে রাখতে সক্রিয় রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী । সার্বক্ষণিক নজরদারির পাশাপাশি টার্মিনালে স্থাপন করা হয়েছে পুলিশ কন্ট্রোল রুম।

সকাল থেকেই ঘরমুখো মানুষের ভিড়ে সরগরম পুরো সদরঘাট। কেউ কাঁধে ব্যাগ, কেউ পরিবারের হাত ধরে ছুটছেন লঞ্চের দিকে। দীর্ঘদিনের নিস্তব্ধতা ভেঙে যেন আবার চেনা ছন্দে ফিরেছে বৃহৎ এই লঞ্চ টার্মিনাল। ‎

লঞ্চ শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঢাকা-বরিশাল রুটে ডেক ভাড়া ৩০০ টাকা, সিঙ্গেল কেবিন ১ হাজার ২০০ টাকা এবং ডাবল কেবিন ২ হাজার ৪০০ টাকা। ভিআইপি কেবিনের ভাড়া ৬ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া ঢাকা-মুলাদি ও ভাসানচর রুটে ডেক ভাড়া ৪০০ টাকা এবং কেবিন ভাড়া ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকা। চাঁদপুর রুটে ডেক ভাড়া ২০০ টাকা এবং কেবিন ভাড়া ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকার মধ্যে রয়েছে। ‎

ঈদযাত্রায় পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের ভোগান্তির খবর পাওয়া যায়নি।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত এই দুই নৌরুটে যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক রাখতে সমন্বিতভাবে কাজ করছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি), জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বিআইডব্লিউটিসি ডিজিএম আব্দুস সালাম জানান, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে বর্তমানে ১৭টি ফেরি চলাচল করছে। অন্যদিকে আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে রয়েছে পাঁচটি ফেরি। এছাড়া যাত্রী পারাপার নির্বিঘ্ন রাখতে ৩৫টি লঞ্চও চালু রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। এই প্রেক্ষিতে, আজ ২০ মার্চ শুক্রবার পবিত্র রমজান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হবে। আগামীকাল শনিবার (২১ মার্চ) থেকে শাওয়াল মাস গণনা শুরু হবে এবং এদিন সারাদেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে।