দেড় লাখের বেশি কর্মী নিচ্ছে ইতালি, বাংলাদেশিদের জন্য রয়েছে সম্ভাবনা

- আপডেট সময় : ০৩:৪৭:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
- / 3
ইতালিতে কাজের স্বপ্ন দেখা বাংলাদেশিদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে। দেশটির ২০২৬ থেকে ২০২৮ মেয়াদের ‘ডিক্রেতো ফ্লুসি’ কর্মসূচির আওতায় ২০২৭ সালে বিভিন্ন খাতে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫০ জন বিদেশি কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই কোটায় বাংলাদেশসহ নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের নাগরিকদের জন্যও আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
ইতালির সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মোট কোটার মধ্যে ৭৬ হাজার ২০০ জনকে অমৌসুমি কাজে নেওয়া হবে। এ ছাড়া কৃষি ও পর্যটন খাতে মৌসুমি কাজের জন্য ৮৯ হাজার এবং স্বনিয়োজিত কাজের জন্য আরও ৬৫০ জনের সুযোগ থাকবে।
কেয়ারগিভিং খাতেও থাকছে সুযোগ
বাংলাদেশসহ বিদেশি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বিশেষ আগ্রহের একটি খাত হতে পারে পরিবারভিত্তিক পরিচর্যা বা কেয়ারগিভিং। ২০২৭ সালের অমৌসুমি কর্মী কোটার মধ্যে এই খাতে ১৪ হাজার পদ সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন ও নেপালসহ কয়েকটি দেশের নাগরিকরা নির্ধারিত কোটার আওতায় আবেদন করার সুযোগ পাবেন। ফলে ইতালিতে কাজের জন্য যেতে আগ্রহী বাংলাদেশিদের কাছে এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তিন বছরে প্রায় ৫ লাখ বিদেশি কর্মী নেবে ইতালি
ইতালির এই কর্মী নিয়োগ পরিকল্পনা শুধু ২০২৭ সালের জন্য নয়। ২০২৬ থেকে ২০২৮—এই তিন বছরে মোট ৪ লাখ ৯৭ হাজার ৫৫০ জন বিদেশি কর্মী নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর মধ্যে ২০২৬ সালে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮৫০ জন, ২০২৭ সালে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫০ জন এবং ২০২৮ সালেও একই সংখ্যক অর্থাৎ ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫০ জন কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
বাংলাদেশ থেকে সরাসরি আবেদন করা যাবে না
ইতালির এই কর্মী কোটার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, চাকরিপ্রার্থী নিজে সরাসরি আবেদন করতে পারবেন না। ইতালিতে বৈধভাবে অবস্থানরত কোনো নিয়োগকর্তা বা অনুমোদিত প্রতিনিধি সংশ্লিষ্ট বিদেশি কর্মীর জন্য কাজের অনুমোদন বা ‘নুল্লা ওস্তা’র আবেদন করবেন।
‘নুল্লা ওস্তা’ অনুমোদিত হলে এরপর নিজ দেশে থাকা ইতালীয় দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে ভিসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। অর্থাৎ চাকরিপ্রার্থীর জন্য প্রথম ধাপ হলো বৈধ নিয়োগকর্তা ও প্রকৃত চাকরির সুযোগ নিশ্চিত করা।
কখন শুরু হবে প্রাক্-আবেদন
২০২৭ সালের কর্মী কোটার জন্য ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘পোর্তালে সার্ভিজি আলি’ প্ল্যাটফর্মে ২০২৬ সালের ২৩ অক্টোবর সকাল ৯টা থেকে আবেদনপত্রের প্রাক্-পূরণ বা প্রিকম্পাইলেশন শুরু হবে। এই প্রক্রিয়া চলবে ৭ ডিসেম্বর ২০২৬ রাত ৮টা পর্যন্ত।
এই সময়ে নিয়োগকর্তারা প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে আবেদন প্রস্তুত করতে পারবেন। এরপর নির্ধারিত ‘ক্লিক ডে’তে সংশ্লিষ্ট আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে।
২০২৭ সালের গুরুত্বপূর্ণ ‘ক্লিক ডে’
খাতভেদে ২০২৭ সালের আবেদন শুরুর তারিখ আলাদা করা হয়েছে। কৃষি খাতের মৌসুমি কর্মীদের জন্য ১২ জানুয়ারি ২০২৭, পর্যটন খাতের মৌসুমি কর্মীদের জন্য ৯ ফেব্রুয়ারি, অমৌসুমি কর্মীদের জন্য ১৬ ফেব্রুয়ারি এবং পরিবারভিত্তিক পরিচর্যা বা কেয়ারগিভিং খাতের জন্য ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ আবেদন গ্রহণ শুরু হবে।
ইতালির স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় এসব আবেদন গ্রহণ শুরু করার কথা রয়েছে। নির্ধারিত কোটায় আসন খালি থাকা সাপেক্ষে আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
দালালচক্র থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ
ইতালিতে কাজের সুযোগের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতারণার ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তাই চাকরিপ্রার্থীদের বৈধ নিয়োগকর্তা ও নির্ধারিত সরকারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এগোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কোনো ব্যক্তি বা দালালকে অর্থ দেওয়ার আগে নিয়োগপত্র, নিয়োগকর্তার পরিচয় ও বৈধতা এবং ‘নুল্লা ওস্তা’র সত্যতা যাচাই করা জরুরি। শুধু টাকা দিলেই ইতালিতে চাকরি বা ভিসা নিশ্চিত হবে—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।
বাংলাদেশি চাকরিপ্রার্থীদের তাই নির্ধারিত তারিখ, আবেদন প্রক্রিয়া এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে সরকারি তথ্য যাচাই করে প্রস্তুতি নেওয়া উচিত। বিশেষ করে ‘ডিক্রেতো ফ্লুসি’ কর্মসূচির আওতায় সুযোগ থাকলেও ভিসা পাওয়ার আগে বৈধ চাকরি, নিয়োগকর্তার আবেদন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি অনুমোদন—প্রতিটি ধাপ সঠিকভাবে সম্পন্ন হওয়া গুরুত্বপূর্ণ।























