ইসলামাবাদে শাহবাজ শরীফের সঙ্গে ইরানি প্রতিনিধিদের সাক্ষাৎ

- আপডেট সময় : ০১:৫৭:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
- / 50
ইসলামাবাদে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের সঙ্গে ইরানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থতার বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপন করা হয়।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে পাকিস্তানে নিযুক্ত তাসনিম নিউজের বিশেষ প্রতিনিধি ইরানের প্রতিনিধি দলের সর্বশেষ পরিকল্পনা সম্পর্কে এই তথ্য জানিয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের সঙ্গে বৈঠকে ইরানি প্রতিনিধিরা যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
আমেরিকার সঙ্গে যেকোনো আনুষ্ঠানিক সংলাপ শুরুর আগে ইরান বেশ কিছু পূর্বশর্ত দিয়েছিল। এর মধ্যে প্রধান দুটি শর্ত হলো- বিদেশে জব্দ করা ইরানের সমস্ত সম্পদ অবমুক্ত করা এবং লেবাননে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা।
মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে পাকিস্তানকে আমেরিকা আশ্বস্ত করেছিল যে, তারা ইরানের এই শর্তসমূহ এবং অন্যান্য কিছু শর্ত মেনে নিতে রাজি। তবে ইরানের দাবি, এখন পর্যন্ত আমেরিকা এই বিষয়গুলো বাস্তবায়নে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। আজকের অধিবেশনে ইরানি প্রতিনিধি দল মার্কিন অবস্থান এবং তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণের অগ্রগতি মূল্যায়ন করবে। এই মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করেই আমেরিকার সঙ্গে আলোচনার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনি এবং বেশ কয়েকজন সামরিক কমান্ডারকে হত্যার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে। এর কঠোর জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এ অঞ্চলে এবং অধিকৃত ভূখণ্ডে মার্কিন ও ইসরায়েলি অবস্থানে সুনির্দিষ্ট হামলা চালায়।
আগ্রাসীদের দ্রুত বিজয়ের প্রত্যাশাকে নস্যাৎ করে দিয়ে টানা ৪০ দিন ধরে ইরানের শক্তিশালী পাল্টা হামলায় মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক সরঞ্জাম ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
অস্থিতিশীল পরিস্থিতি শান্ত করতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল একটি দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা বর্তমানে কার্যকর রয়েছে। এই চুক্তির অধীনেই ইসলামাবাদে আলোচনার পথ প্রশস্ত হয়েছে। ইরান এই আলোচনার জন্য একটি ‘দশ দফা পরিকল্পনা’ পেশ করেছে। যার উল্লেখযোগ্য দাবিসমূহ হলো- মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, ইরানের ওপর থেকে সমস্ত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, কৌশলগত হরমুজ প্রণালী’র ওপর ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা।
ইরান সরকার স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তারা আমেরিকার ওপর কোনো আস্থা রাখছে না। তেহরানের মতে, এই আলোচনার উদ্দেশ্য সংঘাতের চূড়ান্ত সমাধান নয়, বরং যুদ্ধের ময়দানকে সাময়িকভাবে কূটনৈতিক অঙ্গনে স্থানান্তরিত করা। সূত্র: তাসনিম নিউজ

























