ঢাকা ০৯:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টাইটানিকের স্মৃতি ফেরাল বিপর্যস্ত চেলসি

স্পোটর্স ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:৩২:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
  • / 30

১০০ কোটি ডলারের সুনিপুণ কারুকার্যে গড়া এক ফুটবলীয় সাম্রাজ্য আজ যেন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে। ঠিক যেমনটা ১১৪ বছর আগে ১৯১২ সালের হিসেবে প্রায় ৭৫ লক্ষ ডলার ব্যয়ে নির্মিত সেই ‘টাইটানিক’ জন্ম দিয়েছিল এক অতলস্পর্শী ট্র্যাজেডির, যা দম্ভ আর প্রাচুর্যের সব সমীকরণকে এক নিমিষেই ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছিল। বিশাল অংকের মুদ্রায় বিলাসিতার চূড়ান্ত শিখর যেমন এক বিন্দু নিরাপত্তা কিনতে পারেনি। তেমনি কাড়াকাড়ি অর্থ ঢেলেও গভীর সংকট থেকে মুক্তি মিলছে না চেলসিরও।

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে গতকাল ব্রাইটনের বিপক্ষে ৩-০ গোলে হেরেছে চেলসি। লিগে এ নিয়ে ক্লাবটি টানা পাঁচটি ম্যাচ হারল একটি গোলও না করে, যা আবার ফিরিয়ে আনল টাইটানিকের স্মৃতি। ১১৪ বছর আগে, ১৯১২ সালের নভেম্বরের পর এই প্রথম ‘ব্লুজ’রা লিগে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হলো, যে বছর ঘটেছিল টাইটাইনিক ট্রেজেড্রিও।

সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এটি চেলসির শেষ আট ম্যাচের মধ্যে সপ্তম হার। এক বছরেরও কম সময় আগে যারা ক্লাব বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, একই ক্লাবই শেষ নয়টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটিতে জিতেছে। প্যারিস সেন্ট-জার্মেইর কাছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে বিদায়সহ তাদের পুরো মৌসুমই লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। আগামী রোববার লিডসের বিপক্ষে এফএ কাপের সেমিফাইনালে খেলবে চেলসি। এই একটি শিরোপা জেতার আশা ছাড়া আর কিছুই বাকি নেই ‘ব্লুজদের’।

ব্রাইটনের মাঠে এই হারের পর চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা নিশ্চিত করা থেকেও অনেকটা ছিটকে গেল চেলসি। ৩৪ ম্যাচে ৪৮ পয়েন্ট নিয়ে লিগে সপ্তম স্থানে রয়েছে লিয়াম রোসেনিওরের দল। এক ম্যাচ বেশি খেলে পঞ্চম স্থানে থাকা লিভারপুলের চেয়ে সাত পয়েন্টে পিছিয়ে আছে। এবার প্রিমিয়ার লিগে শীর্ষ পাঁচটি দল চ্যাম্পিয়ন্স লিগের জন্য যোগ্যতা অর্জন করবে। মৌসুমের মাত্র চারটি রাউন্ড বাকি থাকায় চেলসিকে বাকি সবক’টি ম্যাচ জয়ের সঙ্গে অন্যদের পয়েন্ট হারানোর দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে।

বিপরীতে অ্যামেক্স স্টেডিয়ামে ফের্দি কাদিওলু, জ্যাক হিনশেলউড এবং ড্যানি ওয়েলবেকের গোলে জয় পাওয়া ব্রাইটন চেলসিকে টপকে টেবিলের ষষ্ঠ স্থানে উঠে এসেছে। আগামী মৌসুমে ইউরোপীয় ফুটবলের লড়াইয়ে তাদের অবস্থান আরও সুসংহত হলো।

ব্রাইটনের বিপক্ষে পুরো ম্যাচে মাত্র ছয়টি শট নেওয়া চেলসি লক্ষ্যে রাখতে পারেনি একটি শটও। এমন হতশ্রী পারফরম্যান্সে ক্ষুব্ধ হয়ে সমর্থকদের রোষাণলে পড়ে চেলসি। ম্যাচ শেষে হতাশ চেলসি কোচ রোসেনিওর স্কাই স্পোর্টসকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত এটাই (পারফরম্যান্স) নিকৃষ্ট। এটি খেলার প্রতিটি দিক থেকে অগ্রহণযোগ্য ছিল, আমাদের এমন মানসিকতা অগ্রহণযোগ্য।’

রোসেনিওর আরও বলেন, ‘আমি বারবার এখানে আসি এবং খেলোয়াড়দের রক্ষা করি। আজকের রাতের ওই পারফরম্যান্সটি ক্ষমার অযোগ্য। আমরা যেভাবে গোলগুলো খেয়েছি, যতগুলো ডুয়েল হেরেছি এবং দলে তীব্রতার যে অভাব ছিল—সবকিছুতে এখনই আমূল পরিবর্তন আসা দরকার।’

রোসেয়ারের মতে, ‘পেশাদারিত্বের অভাব ছিল। এটি একটি সত্যিই কঠিন রাত। শুধু এই মহৎ ফুটবল ক্লাবেই নয়, বরং আমার পুরো ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত এটিই সবচেয়ে কঠিন রাত। আজ আমি যা প্রত্যক্ষ করেছি তার কিছু জিনিস আমি আর কখনও দেখতে চাই না।’

চোটের কারণে আক্রমণভাগের তিন তারকা কোল পামার, এস্তেভাও এবং জোয়াও পেদ্রোকে ছাড়াই খেলতে নামে চেলসি। তবে শুরুর একাদশে অধিকাংশ খেলোয়াড়দের নিবেদনের অভাব দেখছেন রোসেনিওর, ‘আমাদের নিজেদের আয়নায় দেখা উচিত; আমার নিজেকে আয়নায় দেখা উচিত। কিন্তু যা দেখছি তা আমি বারবার এখানে এসে সমর্থন করতে পারি না। একাদশের হয়তো তিন-চারজন বাদে বাকি সবার মধ্যে সাধারণ দৃষ্টিভঙ্গি, জেদ এবং সংকল্পের অভাব ছিল।’

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

টাইটানিকের স্মৃতি ফেরাল বিপর্যস্ত চেলসি

আপডেট সময় : ১২:৩২:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

১০০ কোটি ডলারের সুনিপুণ কারুকার্যে গড়া এক ফুটবলীয় সাম্রাজ্য আজ যেন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে। ঠিক যেমনটা ১১৪ বছর আগে ১৯১২ সালের হিসেবে প্রায় ৭৫ লক্ষ ডলার ব্যয়ে নির্মিত সেই ‘টাইটানিক’ জন্ম দিয়েছিল এক অতলস্পর্শী ট্র্যাজেডির, যা দম্ভ আর প্রাচুর্যের সব সমীকরণকে এক নিমিষেই ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছিল। বিশাল অংকের মুদ্রায় বিলাসিতার চূড়ান্ত শিখর যেমন এক বিন্দু নিরাপত্তা কিনতে পারেনি। তেমনি কাড়াকাড়ি অর্থ ঢেলেও গভীর সংকট থেকে মুক্তি মিলছে না চেলসিরও।

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে গতকাল ব্রাইটনের বিপক্ষে ৩-০ গোলে হেরেছে চেলসি। লিগে এ নিয়ে ক্লাবটি টানা পাঁচটি ম্যাচ হারল একটি গোলও না করে, যা আবার ফিরিয়ে আনল টাইটানিকের স্মৃতি। ১১৪ বছর আগে, ১৯১২ সালের নভেম্বরের পর এই প্রথম ‘ব্লুজ’রা লিগে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হলো, যে বছর ঘটেছিল টাইটাইনিক ট্রেজেড্রিও।

সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এটি চেলসির শেষ আট ম্যাচের মধ্যে সপ্তম হার। এক বছরেরও কম সময় আগে যারা ক্লাব বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, একই ক্লাবই শেষ নয়টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটিতে জিতেছে। প্যারিস সেন্ট-জার্মেইর কাছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে বিদায়সহ তাদের পুরো মৌসুমই লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। আগামী রোববার লিডসের বিপক্ষে এফএ কাপের সেমিফাইনালে খেলবে চেলসি। এই একটি শিরোপা জেতার আশা ছাড়া আর কিছুই বাকি নেই ‘ব্লুজদের’।

ব্রাইটনের মাঠে এই হারের পর চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা নিশ্চিত করা থেকেও অনেকটা ছিটকে গেল চেলসি। ৩৪ ম্যাচে ৪৮ পয়েন্ট নিয়ে লিগে সপ্তম স্থানে রয়েছে লিয়াম রোসেনিওরের দল। এক ম্যাচ বেশি খেলে পঞ্চম স্থানে থাকা লিভারপুলের চেয়ে সাত পয়েন্টে পিছিয়ে আছে। এবার প্রিমিয়ার লিগে শীর্ষ পাঁচটি দল চ্যাম্পিয়ন্স লিগের জন্য যোগ্যতা অর্জন করবে। মৌসুমের মাত্র চারটি রাউন্ড বাকি থাকায় চেলসিকে বাকি সবক’টি ম্যাচ জয়ের সঙ্গে অন্যদের পয়েন্ট হারানোর দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে।

বিপরীতে অ্যামেক্স স্টেডিয়ামে ফের্দি কাদিওলু, জ্যাক হিনশেলউড এবং ড্যানি ওয়েলবেকের গোলে জয় পাওয়া ব্রাইটন চেলসিকে টপকে টেবিলের ষষ্ঠ স্থানে উঠে এসেছে। আগামী মৌসুমে ইউরোপীয় ফুটবলের লড়াইয়ে তাদের অবস্থান আরও সুসংহত হলো।

ব্রাইটনের বিপক্ষে পুরো ম্যাচে মাত্র ছয়টি শট নেওয়া চেলসি লক্ষ্যে রাখতে পারেনি একটি শটও। এমন হতশ্রী পারফরম্যান্সে ক্ষুব্ধ হয়ে সমর্থকদের রোষাণলে পড়ে চেলসি। ম্যাচ শেষে হতাশ চেলসি কোচ রোসেনিওর স্কাই স্পোর্টসকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত এটাই (পারফরম্যান্স) নিকৃষ্ট। এটি খেলার প্রতিটি দিক থেকে অগ্রহণযোগ্য ছিল, আমাদের এমন মানসিকতা অগ্রহণযোগ্য।’

রোসেনিওর আরও বলেন, ‘আমি বারবার এখানে আসি এবং খেলোয়াড়দের রক্ষা করি। আজকের রাতের ওই পারফরম্যান্সটি ক্ষমার অযোগ্য। আমরা যেভাবে গোলগুলো খেয়েছি, যতগুলো ডুয়েল হেরেছি এবং দলে তীব্রতার যে অভাব ছিল—সবকিছুতে এখনই আমূল পরিবর্তন আসা দরকার।’

রোসেয়ারের মতে, ‘পেশাদারিত্বের অভাব ছিল। এটি একটি সত্যিই কঠিন রাত। শুধু এই মহৎ ফুটবল ক্লাবেই নয়, বরং আমার পুরো ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত এটিই সবচেয়ে কঠিন রাত। আজ আমি যা প্রত্যক্ষ করেছি তার কিছু জিনিস আমি আর কখনও দেখতে চাই না।’

চোটের কারণে আক্রমণভাগের তিন তারকা কোল পামার, এস্তেভাও এবং জোয়াও পেদ্রোকে ছাড়াই খেলতে নামে চেলসি। তবে শুরুর একাদশে অধিকাংশ খেলোয়াড়দের নিবেদনের অভাব দেখছেন রোসেনিওর, ‘আমাদের নিজেদের আয়নায় দেখা উচিত; আমার নিজেকে আয়নায় দেখা উচিত। কিন্তু যা দেখছি তা আমি বারবার এখানে এসে সমর্থন করতে পারি না। একাদশের হয়তো তিন-চারজন বাদে বাকি সবার মধ্যে সাধারণ দৃষ্টিভঙ্গি, জেদ এবং সংকল্পের অভাব ছিল।’