ঢাকা ০৬:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজ প্রণালিতে এক দিনে ৩ জাহাজে ইরানের হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৮:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
  • / 56

পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে আজ (বুধবার, ২২ এপ্রিল) অন্তত তিনটি কনটেইনার জাহাজ লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে। সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্র এবং যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। হামলায় জাহাজগুলোর সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হলেও সব নাবিক নিরাপদ রয়েছেন বলে জানা গেছে।

এর মধ্যে দুটি জাহাজকে ইরানের এই বাহিনী জব্দ করেছে বলে ইরানের সংবাদমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে।

আইআরজিসির নৌবাহিনীর বিবৃতির বরাত দিয়ে ইরানের অন্যান্য সংবাদমাধ্যম বলেছে, এমএসসি ফ্রান্সেসকা এবং এপামিনোন্ডাস নামের দু’টি জাহাজকে ‘জব্দ’ করা হয়েছে। ওই দুই জাহাজ বর্তমানে ইরানের উপকূলের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

মার্কিন-ইসরায়েলি বোমাবর্ষণের পাল্টা ব্যবস্থা এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধের প্রতিক্রিয়ায় ইরান এই জলপথে জাহাজ চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই এই অঞ্চলে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে।

লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী জাহাজ: ওমানের উত্তর-পূর্ব দিকে লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী একটি কন্টেইনার জাহাজ লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ ও রকেট চালিত গ্রেনেড ছোড়া হয়। এতে জাহাজটির ব্রিজের (চালনা কেন্দ্র) অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাহাজের মাস্টার জানান, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) একটি গানবোট তাদের ধাওয়া করে এবং সতর্কবার্তা ছাড়াই গুলি চালায়।

পানামার পতাকাবাহী জাহাজ: দ্বিতীয় হামলার ঘটনাটি ঘটে ইরান উপকূল থেকে আট নটিক্যাল মাইল পশ্চিমে। পানামার পতাকাবাহী এই কন্টেইনার জাহাজটি লক্ষ্য করে গুলি চালানো হলেও এতে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

তৃতীয় জাহাজ: একই এলাকায় অর্থাৎ ইরান উপকূলের আট নটিক্যাল মাইল পশ্চিমে বহির্মুখী পথে থাকা লাইবেরিয়ার আরও একটি জাহাজ আক্রান্ত হয়। গুলিবর্ষণের পর জাহাজটি সাগরে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে, তবে এর ক্রুরা অক্ষত রয়েছেন।

গ্রিক মালিকানাধীন একটি জাহাজের মাস্টার জানিয়েছেন, হামলার আগে তাদের সাথে কোনো রেডিও যোগাযোগ করা হয়নি। অথচ এর আগে জাহাজটিকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, হামলাকারী ইরানি গানবোটটিতে অন্তত তিনজন সশস্ত্র ব্যক্তি ছিলেন।

হামলার শিকার জাহাজগুলোতে কোনো অগ্নিকাণ্ড বা পরিবেশগত বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেনি বলে নিশ্চিত করেছে সংস্থাগুলো।

২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে বিশ্বের মোট তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হতো। চলমান সংঘাত ও বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা আরও প্রকট হচ্ছে। সূত্র: রয়টার্স

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

হরমুজ প্রণালিতে এক দিনে ৩ জাহাজে ইরানের হামলা

আপডেট সময় : ০৪:৫৮:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে আজ (বুধবার, ২২ এপ্রিল) অন্তত তিনটি কনটেইনার জাহাজ লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে। সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্র এবং যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। হামলায় জাহাজগুলোর সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হলেও সব নাবিক নিরাপদ রয়েছেন বলে জানা গেছে।

এর মধ্যে দুটি জাহাজকে ইরানের এই বাহিনী জব্দ করেছে বলে ইরানের সংবাদমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে।

আইআরজিসির নৌবাহিনীর বিবৃতির বরাত দিয়ে ইরানের অন্যান্য সংবাদমাধ্যম বলেছে, এমএসসি ফ্রান্সেসকা এবং এপামিনোন্ডাস নামের দু’টি জাহাজকে ‘জব্দ’ করা হয়েছে। ওই দুই জাহাজ বর্তমানে ইরানের উপকূলের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

মার্কিন-ইসরায়েলি বোমাবর্ষণের পাল্টা ব্যবস্থা এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধের প্রতিক্রিয়ায় ইরান এই জলপথে জাহাজ চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই এই অঞ্চলে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে।

লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী জাহাজ: ওমানের উত্তর-পূর্ব দিকে লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী একটি কন্টেইনার জাহাজ লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ ও রকেট চালিত গ্রেনেড ছোড়া হয়। এতে জাহাজটির ব্রিজের (চালনা কেন্দ্র) অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাহাজের মাস্টার জানান, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) একটি গানবোট তাদের ধাওয়া করে এবং সতর্কবার্তা ছাড়াই গুলি চালায়।

পানামার পতাকাবাহী জাহাজ: দ্বিতীয় হামলার ঘটনাটি ঘটে ইরান উপকূল থেকে আট নটিক্যাল মাইল পশ্চিমে। পানামার পতাকাবাহী এই কন্টেইনার জাহাজটি লক্ষ্য করে গুলি চালানো হলেও এতে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

তৃতীয় জাহাজ: একই এলাকায় অর্থাৎ ইরান উপকূলের আট নটিক্যাল মাইল পশ্চিমে বহির্মুখী পথে থাকা লাইবেরিয়ার আরও একটি জাহাজ আক্রান্ত হয়। গুলিবর্ষণের পর জাহাজটি সাগরে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে, তবে এর ক্রুরা অক্ষত রয়েছেন।

গ্রিক মালিকানাধীন একটি জাহাজের মাস্টার জানিয়েছেন, হামলার আগে তাদের সাথে কোনো রেডিও যোগাযোগ করা হয়নি। অথচ এর আগে জাহাজটিকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, হামলাকারী ইরানি গানবোটটিতে অন্তত তিনজন সশস্ত্র ব্যক্তি ছিলেন।

হামলার শিকার জাহাজগুলোতে কোনো অগ্নিকাণ্ড বা পরিবেশগত বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেনি বলে নিশ্চিত করেছে সংস্থাগুলো।

২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে বিশ্বের মোট তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হতো। চলমান সংঘাত ও বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা আরও প্রকট হচ্ছে। সূত্র: রয়টার্স