ঢাকা ০২:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পারস্য উপসাগরে মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে ইরানের ফের হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:২২:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬
  • / 62

পারস্য উপসাগরে একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করাকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। দক্ষিণ ইরানে একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ারে মার্কিন হামলার জবাবে এবার যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমান ঘাঁটিতে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানের এলিট ফোর্স ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। সোমবার (১ জুন) সকালে আইআরজিসি’র পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত রবিবার গভীর রাতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, তারা ইরানের হরমুজগান প্রদেশের গোরুক শহর এবং কেশম দ্বীপে অবস্থিত ইরানি রাডার ও ড্রোন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে আত্মরক্ষামূলক হামলা চালিয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় ওড়ার সময় ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-১ প্রিডেটর ড্রোন ভূপাতিত করার জবাবে তারা এই পরিমিত ও পরিকল্পিত হামলা চালায়।

মার্কিন এই হামলার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পাল্টা আঘাত হানে ইরানের আইআরজিসি’র অ্যারোস্পেস ফোর্স। তারা হরমুজগান প্রদেশের সিরিক দ্বীপের টেলিকম টাওয়ারে হামলা চালাতে ব্যবহৃত মার্কিন বিমান ঘাঁটিটিকে লক্ষ্যবস্তু করে।

আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে জানায়, আগ্রাসী মার্কিন সামরিক বাহিনী কর্তৃক আমাদের সিরিক দ্বীপের যোগাযোগ টাওয়ারে হামলার পর, আইআরজিসি’র অ্যারোস্পেস ফোর্সের যোদ্ধারা সেই মার্কিন বিমান ঘাঁটিটিকে সফলভাবে লক্ষ্যবস্তু করেছে যেখান থেকে হামলাটি চালানো হয়েছিল। পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে।

এর আগে আইআরজিসি’র জনসংযোগ বিভাগ থেকে জানানো হয়, রবিবার ভোরে পারস্য উপসাগরে ইরানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক ও দীর্ঘস্থায়ী ক্ষমতাসম্পন্ন মাল্টি-মিশন এমকিউ-১ প্রিডেটর ড্রোন শনাক্তের পর তা ভূপাতিত করে ইরানি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। তবে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, ড্রোনটি আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় ছিল।

এই ঘটনার পর মার্কিন প্রশাসনকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের অ্যারোস্পেস ফোর্স। তারা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি পুনরায় কোনো ধরনের আগ্রাসন চালানোর চেষ্টা করে, তবে এর পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ।

বিবৃতিতে বলা হয়, আইআরজিসি অ্যারোস্পেস ফোর্স সতর্ক করছে যে, এই আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি হলে ইরানের জবাব হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির এবং এর সমস্ত দায়ভার এই আগ্রাসী ও শিশুহত্যাকারী মার্কিন প্রশাসনকেই নিতে হবে।

সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, এই হামলার পর পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চরম যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে এবং দুই পক্ষই হাই-অ্যালার্ট বা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সূত্র: প্রেস টিভি

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

পারস্য উপসাগরে মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে ইরানের ফের হামলা

আপডেট সময় : ০৯:২২:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬

পারস্য উপসাগরে একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করাকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। দক্ষিণ ইরানে একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ারে মার্কিন হামলার জবাবে এবার যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমান ঘাঁটিতে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানের এলিট ফোর্স ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। সোমবার (১ জুন) সকালে আইআরজিসি’র পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত রবিবার গভীর রাতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, তারা ইরানের হরমুজগান প্রদেশের গোরুক শহর এবং কেশম দ্বীপে অবস্থিত ইরানি রাডার ও ড্রোন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে আত্মরক্ষামূলক হামলা চালিয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় ওড়ার সময় ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-১ প্রিডেটর ড্রোন ভূপাতিত করার জবাবে তারা এই পরিমিত ও পরিকল্পিত হামলা চালায়।

মার্কিন এই হামলার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পাল্টা আঘাত হানে ইরানের আইআরজিসি’র অ্যারোস্পেস ফোর্স। তারা হরমুজগান প্রদেশের সিরিক দ্বীপের টেলিকম টাওয়ারে হামলা চালাতে ব্যবহৃত মার্কিন বিমান ঘাঁটিটিকে লক্ষ্যবস্তু করে।

আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে জানায়, আগ্রাসী মার্কিন সামরিক বাহিনী কর্তৃক আমাদের সিরিক দ্বীপের যোগাযোগ টাওয়ারে হামলার পর, আইআরজিসি’র অ্যারোস্পেস ফোর্সের যোদ্ধারা সেই মার্কিন বিমান ঘাঁটিটিকে সফলভাবে লক্ষ্যবস্তু করেছে যেখান থেকে হামলাটি চালানো হয়েছিল। পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে।

এর আগে আইআরজিসি’র জনসংযোগ বিভাগ থেকে জানানো হয়, রবিবার ভোরে পারস্য উপসাগরে ইরানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক ও দীর্ঘস্থায়ী ক্ষমতাসম্পন্ন মাল্টি-মিশন এমকিউ-১ প্রিডেটর ড্রোন শনাক্তের পর তা ভূপাতিত করে ইরানি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। তবে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, ড্রোনটি আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় ছিল।

এই ঘটনার পর মার্কিন প্রশাসনকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের অ্যারোস্পেস ফোর্স। তারা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি পুনরায় কোনো ধরনের আগ্রাসন চালানোর চেষ্টা করে, তবে এর পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ।

বিবৃতিতে বলা হয়, আইআরজিসি অ্যারোস্পেস ফোর্স সতর্ক করছে যে, এই আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি হলে ইরানের জবাব হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির এবং এর সমস্ত দায়ভার এই আগ্রাসী ও শিশুহত্যাকারী মার্কিন প্রশাসনকেই নিতে হবে।

সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, এই হামলার পর পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চরম যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে এবং দুই পক্ষই হাই-অ্যালার্ট বা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সূত্র: প্রেস টিভি