ইরান আর লেবানন একই আত্মা, একই জীবন: গালিবাফ

- আপডেট সময় : ০৪:১৬:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬
- / 60
ইরান ও লেবাননের মধ্যকার সম্পর্ককে অবিচ্ছেদ্য বলে উল্লেখ করেছেন ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। সেই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যেকোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে অবশ্যই সব ফ্রন্টে, বিশেষ করে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধের শর্ত অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। মঙ্গলবার (২ জুন) লেবাননের সংসদ স্পিকার নাবিহ বেরির সঙ্গে এক ফোনালাপে গালিবাফ বলেন, ‘আমাদের জীবন এক এবং ইরান ও লেবাননের মধ্যকার বন্ধন অবিচ্ছেদ্য।’
মাতৃভূমি তথা গোটা মুসলিম উম্মাহর সুরক্ষায় প্রতিরোধ গড়ে তোলায় তিনি হিজবুল্লাহ এবং আমাল মুভমেন্টের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনাপ্রক্রিয়ায় ইরানের প্রতিনিধি দলের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা গালিবাফ স্পষ্ট করে জানান, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধ শেষ করতে যদি কোনো চুক্তি হয়, তবে তা সব ফ্রন্টে শত্রুতার অবসান ঘটাবে, যেখানে লেবাননকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। তিনি ইসরায়েলকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘গত ৪৮ ঘণ্টা ধরে আমরা গুরুত্বের সাথে ইসরায়েলি হামলা বন্ধের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। যদি এই অপরাধ চলতেই থাকে, তবে আমরা কেবল আলোচনাই স্থগিত করব না, বরং ইহুদিবাদী এই শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধেও রুখে দাঁড়াব।’ তিনি পুরো লেবাননে, বিশেষ করে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে তেহরানের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
লেবাননের স্পিকার নাবিহ বেরি ইসরায়েলি নৃশংসতা বন্ধে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টার জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এই সংকটময় মুহূর্তে ইরানের ইতিবাচক ও সহযোগিতাপূর্ণ অবস্থান লেবানন কখনোই ভুলবে না।
এর আগে সোমবার (১ জুন) ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বৈরুতের শিয়া-অধ্যুষিত দক্ষিণ শহরতলি ‘দাহিয়াহ’ এলাকায় সামরিক বাহিনীকে হামলার নির্দেশ দেন এবং পুরো জেলা খালি করার নির্দেশ জারি করেন।
ইসরায়েলের এই হুমকির জবাবে ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড পাল্টা সতর্কবার্তা দেয়। তারা জানায়, ইসরায়েল যদি দক্ষিণ বৈরুতে বোমাবর্ষণের হুমকি কার্যকর করে, তবে ইরানি বাহিনীও অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনের উত্তরাঞ্চলীয় ইসরায়েলি এলাকায় জোরালো পাল্টা আঘাত হানবে। একই সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘোষণা করে যে, তেহরান লেবাননকে এই ‘অবৈধ আগ্রাসন’ মোকাবিলায় সহায়তা করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, লেবাননে যুদ্ধবিরতির বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো চূড়ান্ত চুক্তির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।
উল্লেখ্য, গত এপ্রিলের শুরু থেকে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ইসরায়েল প্রতিনিয়ত লেবাননে হামলা চালিয়ে তা লঙ্ঘন করে আসছিল। তবে ইরান শুরু থেকেই অনড় অবস্থানে রয়েছে যে, যেকোনো শান্তি চুক্তিকে অবশ্যই লেবাননসহ সব ফ্রন্টে বিস্তৃত হতে হবে। সূত্র: প্রেস টিভি






















