ঢাকা ১১:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিনোর বিরূপ প্রভাব: বাড়বে তাপমাত্রা, কমবে বৃষ্টিপাত

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:২১:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
  • / 38

ভৌগলিকভাবেই জলবায়ু পরিবর্তনের উচ্চঝুঁকিতে বাংলাদেশ। বাড়ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা আর উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা। প্রবণতা বেড়েছে নদীভাঙন আর খরার। এমন অবস্থায় আবারও সক্রিয় হয়েছে এল নিনো। প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে গেলে তৈরি হয় এল নিনো পরিস্থিতি। সাধারণত ২ থেকে ৭ বছর পরপর দেখায় যায় এই চরমভাবাপন্নপ্রভাব পরিস্থিতি। স্থায়ীত্ব হয় ১ থেকে ২ বছর।

পরিবেশ বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে ২ ডিগ্রি বৈশ্বিক এভারেজকে ছাপিয়ে এখন ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি তাপমাত্রা পরিবর্তন হতে আমরা লক্ষ্য করছি।

এল নিনোর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশেও। বেড়েছে উষ্ণতা, কমেছে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, দেশে এল নিনোর প্রভাব থাকবে চলতি বছর শেষ পর্যন্ত। এতে বর্ষাকালে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত হবে। ভুগতে হতে পারে স্বাস্থ্য ও কৃষিখাতসহ অন্যান্য খাতকে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, স্বাভাবিক অপেক্ষা ইতোমধ্যে তাপমাত্র ১ থেকে ৬ ডিগ্রি এবং রাতে ১ থেকে ২ ডিগ্রি বেশি আছে। সুতরাং, স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে বর্ষাকাল এবার উষ্ণ থাকবে। গরমের অনুভূতির তীব্রতা থাকবে।

দেশের উত্তর ও দক্ষিণ দুই অঞ্চলেও পড়বে এল নিনোর বিরূপ প্রভাব। খরার প্রবণতার পাশাপাশি মূল ভূখন্ডের মাটিতে বাড়তে পারে লবাণক্ততা।

আবুল কালাম মল্লিক বলেন, রাজশাহী এবং রংপুর বিভাগে যদি বৃষ্টিপাত কম হয়, সেখানে খড়া হতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে দেশ এবং জনগণের সুরক্ষায় সরকারকে আরো উদ্যোগী হবার আহ্বান পরিবেশবিদদের। পরিবেশ বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান আহমেদ বলেন, পুকুর সংরক্ষণ করা, খালগুলো উদ্ধার করা এবং নদীর দখল-দূষণ কমানোর মাধ্যমে সরকার একটি বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। এই গবেষক বলছেন, শুধু সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকলেই চলবে না। ব্যক্তি পর্যায় থেকেও জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় থাকতে হবে তৎপর ও সচেতন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

নিনোর বিরূপ প্রভাব: বাড়বে তাপমাত্রা, কমবে বৃষ্টিপাত

আপডেট সময় : ০৪:২১:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

ভৌগলিকভাবেই জলবায়ু পরিবর্তনের উচ্চঝুঁকিতে বাংলাদেশ। বাড়ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা আর উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা। প্রবণতা বেড়েছে নদীভাঙন আর খরার। এমন অবস্থায় আবারও সক্রিয় হয়েছে এল নিনো। প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে গেলে তৈরি হয় এল নিনো পরিস্থিতি। সাধারণত ২ থেকে ৭ বছর পরপর দেখায় যায় এই চরমভাবাপন্নপ্রভাব পরিস্থিতি। স্থায়ীত্ব হয় ১ থেকে ২ বছর।

পরিবেশ বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে ২ ডিগ্রি বৈশ্বিক এভারেজকে ছাপিয়ে এখন ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি তাপমাত্রা পরিবর্তন হতে আমরা লক্ষ্য করছি।

এল নিনোর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশেও। বেড়েছে উষ্ণতা, কমেছে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, দেশে এল নিনোর প্রভাব থাকবে চলতি বছর শেষ পর্যন্ত। এতে বর্ষাকালে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত হবে। ভুগতে হতে পারে স্বাস্থ্য ও কৃষিখাতসহ অন্যান্য খাতকে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, স্বাভাবিক অপেক্ষা ইতোমধ্যে তাপমাত্র ১ থেকে ৬ ডিগ্রি এবং রাতে ১ থেকে ২ ডিগ্রি বেশি আছে। সুতরাং, স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে বর্ষাকাল এবার উষ্ণ থাকবে। গরমের অনুভূতির তীব্রতা থাকবে।

দেশের উত্তর ও দক্ষিণ দুই অঞ্চলেও পড়বে এল নিনোর বিরূপ প্রভাব। খরার প্রবণতার পাশাপাশি মূল ভূখন্ডের মাটিতে বাড়তে পারে লবাণক্ততা।

আবুল কালাম মল্লিক বলেন, রাজশাহী এবং রংপুর বিভাগে যদি বৃষ্টিপাত কম হয়, সেখানে খড়া হতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে দেশ এবং জনগণের সুরক্ষায় সরকারকে আরো উদ্যোগী হবার আহ্বান পরিবেশবিদদের। পরিবেশ বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান আহমেদ বলেন, পুকুর সংরক্ষণ করা, খালগুলো উদ্ধার করা এবং নদীর দখল-দূষণ কমানোর মাধ্যমে সরকার একটি বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। এই গবেষক বলছেন, শুধু সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকলেই চলবে না। ব্যক্তি পর্যায় থেকেও জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় থাকতে হবে তৎপর ও সচেতন।