ঢাকা ০৮:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২০৩০ বিশ্বকাপে ফিরতে মরিয়া যে ১০ দল

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৪১:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
  • / 9

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও সবচেয়ে বেশি অংশগ্রহণমূলক আসর। প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ। শুধু তাই নয়, ১০৪ ম্যাচ আয়োজন করা হয় তিনটি দেশে। প্রথমবারের মতো তিন আয়োজক দেশ নিয়ে আয়োজন করা হয় যহাযজ্ঞ।

বড় আয়োজন, বিরাট অংশ নিয়ে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হলেও বিশ্ব ফুটবলের বেশ কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী দল জায়গা করে নিতে পারেনি। সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, ফাইনালিস্ট এবং নিয়মিত বিশ্বকাপ খেলা কয়েকটি দল এবার দর্শক হয়েই ছিল। তবে ২০৩০ সালের শতবর্ষের বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এই দলগুলো আবারও ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে ফেরার লক্ষ্য নিয়েই নিজেদের প্রস্তুত করছে। ফিফার মতে, ২০৩০ বিশ্বকাপে ফেরার জন্য সবচেয়ে মরিয়া থাকবে এই ১০ দল।

ইতালি
চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা পায়নি। ২০১৪ সালের পর থেকে বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলতে পারেনি আজ্জুরিরা। এবার প্লে-অফের ফাইনালে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে টাইব্রেকারে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়। ২০৩০ বিশ্বকাপকে বড় চোখে রাখছে তারা। এরই মধ্যে সময়ের অন্যতম সেরা কোচ পেপ গার্দিওলাকে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় আছে ইতালি।

ডেনমার্ক
১৯৯২ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নরা এবার খুব কাছে এসে সুযোগ হাতছাড়া করেছে। শেষ মুহূর্তে স্কটল্যান্ডের কাছে হেরে সরাসরি বিশ্বকাপের টিকিট হারায়। পরে প্লে-অফেও চেকিয়ার কাছে টাইব্রেকারে বিদায় নেয়। পরের আসরে ডেনমার্ক যে করেই হোক বিশ্বকাপে খেলতে চায়।

পোল্যান্ড
নয়বারের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণকারী পোল্যান্ড প্লে-অফের ফাইনালে সুইডেনের কাছে ৩-২ গোলে হেরে বাদ পড়ে। রবার্ট লেভানডোভস্কির যুগ শেষের পথে হওয়ায় নতুন দল গঠনের চ্যালেঞ্জও অপেক্ষা করছে তাদের সামনে। চার বছর গুছিয়ে নেওয়ার পর্যাপ্ত সময় পাচ্ছে তারা।

হাঙ্গেরি
দুইবারের বিশ্বকাপ রানার্সআপ হাঙ্গেরি ১৯৮৬ সালের পর আর বিশ্বকাপে খেলতে পারেনি। এবারও শেষ ম্যাচে রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ডের কাছে হেরে প্লে-অফে ওঠার সুযোগ হারায়। চার বছর পর হাঙ্গোরি আবার নিজেদের নামটা বিশ্বকাপে তুলতে মারিয়া হয়ে থাকবে।

রোমানিয়া
১৯৯৪ সালে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা রোমানিয়া এবার নেশনস লিগের সুবাদে প্লে-অফে খেললেও সেমিফাইনালে তুরস্কের কাছে ১-০ গোলে হেরে যায়। তাতে বিশ্বকাপের টিকিট পায়নি তারা।

নাইজেরিয়া
তিনবার আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন সুপার ঈগলস টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপে অনুপস্থিত। আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফে ওঠার লড়াইয়ে কঙ্গো ডিআরের কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নেয় তারা। তাতে হৃদয় ভাঙ্গে তাদের।

ক্যামেরুন
আফ্রিকার সবচেয়ে বেশি (৮ বার) বিশ্বকাপ খেলা দল ক্যামেরুনও এবার মূলপর্বে উঠতে পারেনি। বাছাইপর্বে কাবো ভার্দের পেছনে থেকে পরে প্লে-অফে কঙ্গো ডিআরের কাছে হেরে যায়। সামনের চার বছর তাদের বিশাল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।

চিলি
১৯৬২ সালের তৃতীয় স্থান অর্জনকারী চিলি টানা তৃতীয় বিশ্বকাপে জায়গা করতে ব্যর্থ হয়েছে। দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইয়ে মাত্র দুটি জয় নিয়ে তারা সবার নিচে ছিল। সেই ব্যর্থতা পেছনে ফিলে চিলি আবারও বিশ্বকাপ মঞ্চে ফেরার অপেক্ষায়।

পেরু
২০১৮ সালে ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরলেও পরের দুই আসরে ব্যর্থ হয়েছে পেরু। এবার বাছাইয়ে ১৮ ম্যাচে মাত্র দুই জয় ও ছয় গোল করে নবম স্থানে শেষ করে তারা। ২০৩০ বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব পেরিয়ে আবার বড় আসবে খেলবে পেরু এমনটাই বিশ্বাস করেন তারা।

কোস্টারিকা
২০১৪ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালিস্ট কোস্টারিকা এবার কনকাকাফ বাছাইয়ে ব্যর্থ হয়ে আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফেও জায়গা পায়নি। এখন নতুন প্রজন্ম গড়ে ২০৩০ বিশ্বকাপে ফেরার লক্ষ্য তাদের। শতবর্ষের ২০৩০ বিশ্বকাপকে ঘিরে ইতোমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। বিশ্ব ফুটবলের এই ঐতিহ্যবাহী দলগুলো হারানো গৌরব ফিরে পেতে আগামী চার বছর নিজেদের নতুন করে গড়ে তোলার চেষ্টা করবে। মরক্কো, পর্তুগাল, স্পেন এই তিনটি দেশে আয়োজন করা হবে বিশ্বকাপ।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

২০৩০ বিশ্বকাপে ফিরতে মরিয়া যে ১০ দল

আপডেট সময় : ১১:৪১:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও সবচেয়ে বেশি অংশগ্রহণমূলক আসর। প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ। শুধু তাই নয়, ১০৪ ম্যাচ আয়োজন করা হয় তিনটি দেশে। প্রথমবারের মতো তিন আয়োজক দেশ নিয়ে আয়োজন করা হয় যহাযজ্ঞ।

বড় আয়োজন, বিরাট অংশ নিয়ে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হলেও বিশ্ব ফুটবলের বেশ কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী দল জায়গা করে নিতে পারেনি। সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, ফাইনালিস্ট এবং নিয়মিত বিশ্বকাপ খেলা কয়েকটি দল এবার দর্শক হয়েই ছিল। তবে ২০৩০ সালের শতবর্ষের বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এই দলগুলো আবারও ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে ফেরার লক্ষ্য নিয়েই নিজেদের প্রস্তুত করছে। ফিফার মতে, ২০৩০ বিশ্বকাপে ফেরার জন্য সবচেয়ে মরিয়া থাকবে এই ১০ দল।

ইতালি
চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা পায়নি। ২০১৪ সালের পর থেকে বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলতে পারেনি আজ্জুরিরা। এবার প্লে-অফের ফাইনালে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে টাইব্রেকারে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়। ২০৩০ বিশ্বকাপকে বড় চোখে রাখছে তারা। এরই মধ্যে সময়ের অন্যতম সেরা কোচ পেপ গার্দিওলাকে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় আছে ইতালি।

ডেনমার্ক
১৯৯২ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নরা এবার খুব কাছে এসে সুযোগ হাতছাড়া করেছে। শেষ মুহূর্তে স্কটল্যান্ডের কাছে হেরে সরাসরি বিশ্বকাপের টিকিট হারায়। পরে প্লে-অফেও চেকিয়ার কাছে টাইব্রেকারে বিদায় নেয়। পরের আসরে ডেনমার্ক যে করেই হোক বিশ্বকাপে খেলতে চায়।

পোল্যান্ড
নয়বারের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণকারী পোল্যান্ড প্লে-অফের ফাইনালে সুইডেনের কাছে ৩-২ গোলে হেরে বাদ পড়ে। রবার্ট লেভানডোভস্কির যুগ শেষের পথে হওয়ায় নতুন দল গঠনের চ্যালেঞ্জও অপেক্ষা করছে তাদের সামনে। চার বছর গুছিয়ে নেওয়ার পর্যাপ্ত সময় পাচ্ছে তারা।

হাঙ্গেরি
দুইবারের বিশ্বকাপ রানার্সআপ হাঙ্গেরি ১৯৮৬ সালের পর আর বিশ্বকাপে খেলতে পারেনি। এবারও শেষ ম্যাচে রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ডের কাছে হেরে প্লে-অফে ওঠার সুযোগ হারায়। চার বছর পর হাঙ্গোরি আবার নিজেদের নামটা বিশ্বকাপে তুলতে মারিয়া হয়ে থাকবে।

রোমানিয়া
১৯৯৪ সালে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা রোমানিয়া এবার নেশনস লিগের সুবাদে প্লে-অফে খেললেও সেমিফাইনালে তুরস্কের কাছে ১-০ গোলে হেরে যায়। তাতে বিশ্বকাপের টিকিট পায়নি তারা।

নাইজেরিয়া
তিনবার আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন সুপার ঈগলস টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপে অনুপস্থিত। আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফে ওঠার লড়াইয়ে কঙ্গো ডিআরের কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নেয় তারা। তাতে হৃদয় ভাঙ্গে তাদের।

ক্যামেরুন
আফ্রিকার সবচেয়ে বেশি (৮ বার) বিশ্বকাপ খেলা দল ক্যামেরুনও এবার মূলপর্বে উঠতে পারেনি। বাছাইপর্বে কাবো ভার্দের পেছনে থেকে পরে প্লে-অফে কঙ্গো ডিআরের কাছে হেরে যায়। সামনের চার বছর তাদের বিশাল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।

চিলি
১৯৬২ সালের তৃতীয় স্থান অর্জনকারী চিলি টানা তৃতীয় বিশ্বকাপে জায়গা করতে ব্যর্থ হয়েছে। দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইয়ে মাত্র দুটি জয় নিয়ে তারা সবার নিচে ছিল। সেই ব্যর্থতা পেছনে ফিলে চিলি আবারও বিশ্বকাপ মঞ্চে ফেরার অপেক্ষায়।

পেরু
২০১৮ সালে ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরলেও পরের দুই আসরে ব্যর্থ হয়েছে পেরু। এবার বাছাইয়ে ১৮ ম্যাচে মাত্র দুই জয় ও ছয় গোল করে নবম স্থানে শেষ করে তারা। ২০৩০ বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব পেরিয়ে আবার বড় আসবে খেলবে পেরু এমনটাই বিশ্বাস করেন তারা।

কোস্টারিকা
২০১৪ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালিস্ট কোস্টারিকা এবার কনকাকাফ বাছাইয়ে ব্যর্থ হয়ে আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফেও জায়গা পায়নি। এখন নতুন প্রজন্ম গড়ে ২০৩০ বিশ্বকাপে ফেরার লক্ষ্য তাদের। শতবর্ষের ২০৩০ বিশ্বকাপকে ঘিরে ইতোমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। বিশ্ব ফুটবলের এই ঐতিহ্যবাহী দলগুলো হারানো গৌরব ফিরে পেতে আগামী চার বছর নিজেদের নতুন করে গড়ে তোলার চেষ্টা করবে। মরক্কো, পর্তুগাল, স্পেন এই তিনটি দেশে আয়োজন করা হবে বিশ্বকাপ।