ঢাকা ০১:২৮ অপরাহ্ন, রোববার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসরায়েলের পথে আরও ১০ মার্কিন রিফুয়েলিং বিমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:৩৯:০৩ পূর্বাহ্ন, রোববার, ২ অগাস্ট ২০২৬
  • / 7

ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের প্রধান বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের উদ্দেশে আরও ১০টি মার্কিন আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী (এয়ার রিফুয়েলিং) উড়োজাহাজ রওনা হয়েছে বলে জানিয়েছে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদুলু এজেন্সি।

এগুলো পৌঁছালে বিমানবন্দরটিতে অবস্থানরত মার্কিন রিফুয়েলিং উড়োজাহাজের সংখ্যা বেড়ে ৪০-এ দাঁড়াবে।

শনিবার (১ আগস্ট) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ইসরায়েলি দৈনিক ক্যালকালিস্ট জানায়, নতুন ১০টি উড়োজাহাজ ইতোমধ্যে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে অবস্থান করা ৩০টি মার্কিন রিফুয়েলিং উড়োজাহাজের সঙ্গে যোগ দেবে।

প্রতিবেদনে ইসরায়েল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে বলা হয়, এত বিপুল সংখ্যক সামরিক উড়োজাহাজের উপস্থিতিতে বিমানবন্দরের পরিচালনায় উল্লেখযোগ্য চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বেসামরিক ফ্লাইট গড়ে প্রায় দুই ঘণ্টা বিলম্বিত হচ্ছে। নতুন উড়োজাহাজগুলো পৌঁছানোর পর এই ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে, জুলাই ও আগস্টকে ইসরায়েলের বিমান চলাচলের সবচেয়ে ব্যস্ত সময় হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, এমন সময়ে অতিরিক্ত সামরিক কার্যক্রম বেসামরিক বিমান পরিচালনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

এর আগে, গত ১৫ জুলাই, ইসরায়েলের পরিবহন মন্ত্রণালয় জানায়, ২১ জুলাইয়ের মধ্যে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে অবস্থানরত মার্কিন রিফুয়েলিং উড়োজাহাজের সংখ্যা ২০-এ নামিয়ে আনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতা হয়েছে। বাকি উড়োজাহাজগুলো ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর বিভিন্ন ঘাঁটিতে স্থানান্তরের কথা ছিল।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরসহ ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন রিফুয়েলিং উড়োজাহাজ মোতায়েন রয়েছে।

এদিকে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যেই ইসরায়েলি গণমাধ্যমে সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে একের পর এক প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে। শনিবার দেশটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানায়, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য বড় ধরনের হামলার আশঙ্কায় তেলআবিবের প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলো প্রস্তুতি জোরদার করছে।

গত শুক্রবার (৩১ জুলাই) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর ‘খুব কঠোর’ হামলা চালাবে।

এমন ঘোষণার মাত্র দুই দিনের মাথায়, ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত বাতিল করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। রোববার (২ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘দ্রুত’ একটি চুক্তিতে সম্মত হওয়ার শর্তে, ইরানের ওপর হামলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন তিনি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ইসরায়েলের পথে আরও ১০ মার্কিন রিফুয়েলিং বিমান

আপডেট সময় : ১১:৩৯:০৩ পূর্বাহ্ন, রোববার, ২ অগাস্ট ২০২৬

ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের প্রধান বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের উদ্দেশে আরও ১০টি মার্কিন আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী (এয়ার রিফুয়েলিং) উড়োজাহাজ রওনা হয়েছে বলে জানিয়েছে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদুলু এজেন্সি।

এগুলো পৌঁছালে বিমানবন্দরটিতে অবস্থানরত মার্কিন রিফুয়েলিং উড়োজাহাজের সংখ্যা বেড়ে ৪০-এ দাঁড়াবে।

শনিবার (১ আগস্ট) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ইসরায়েলি দৈনিক ক্যালকালিস্ট জানায়, নতুন ১০টি উড়োজাহাজ ইতোমধ্যে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে অবস্থান করা ৩০টি মার্কিন রিফুয়েলিং উড়োজাহাজের সঙ্গে যোগ দেবে।

প্রতিবেদনে ইসরায়েল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে বলা হয়, এত বিপুল সংখ্যক সামরিক উড়োজাহাজের উপস্থিতিতে বিমানবন্দরের পরিচালনায় উল্লেখযোগ্য চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বেসামরিক ফ্লাইট গড়ে প্রায় দুই ঘণ্টা বিলম্বিত হচ্ছে। নতুন উড়োজাহাজগুলো পৌঁছানোর পর এই ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে, জুলাই ও আগস্টকে ইসরায়েলের বিমান চলাচলের সবচেয়ে ব্যস্ত সময় হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, এমন সময়ে অতিরিক্ত সামরিক কার্যক্রম বেসামরিক বিমান পরিচালনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

এর আগে, গত ১৫ জুলাই, ইসরায়েলের পরিবহন মন্ত্রণালয় জানায়, ২১ জুলাইয়ের মধ্যে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে অবস্থানরত মার্কিন রিফুয়েলিং উড়োজাহাজের সংখ্যা ২০-এ নামিয়ে আনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতা হয়েছে। বাকি উড়োজাহাজগুলো ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর বিভিন্ন ঘাঁটিতে স্থানান্তরের কথা ছিল।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরসহ ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন রিফুয়েলিং উড়োজাহাজ মোতায়েন রয়েছে।

এদিকে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যেই ইসরায়েলি গণমাধ্যমে সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে একের পর এক প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে। শনিবার দেশটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানায়, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য বড় ধরনের হামলার আশঙ্কায় তেলআবিবের প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলো প্রস্তুতি জোরদার করছে।

গত শুক্রবার (৩১ জুলাই) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর ‘খুব কঠোর’ হামলা চালাবে।

এমন ঘোষণার মাত্র দুই দিনের মাথায়, ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত বাতিল করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। রোববার (২ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘দ্রুত’ একটি চুক্তিতে সম্মত হওয়ার শর্তে, ইরানের ওপর হামলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন তিনি।