ঢাকা ১২:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গুমের কারণে মৃত্যু হলে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:৩৬:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬
  • / 7

গুমের অপরাধে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রেখে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের ভেটিং-সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এছাড়া গুমের শিকার ব্যক্তি ও তার পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন এবং রাষ্ট্রীয় আইনগত সহায়তার বিধানও রাখা হয়েছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১৫তম বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মানবাধিকার, মানবিক মর্যাদা, ব্যক্তি-স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গুমকে একটি স্বতন্ত্র, আমলযোগ্য, জামিন-অযোগ্য ও আপস-অযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নতুন আইনটি গুম প্রতিরোধ, দায়ী ব্যক্তিদের বিচার, নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকার, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করার জন্য একটি সমন্বিত আইনগত কাঠামো তৈরি করবে।

আইনে গুম হওয়া ব্যক্তিকে উদ্ধারের জন্য আদালতের মাধ্যমে তল্লাশি পরোয়ানা জারি, অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে বিচার, ডিজিটাল সাক্ষ্যের গ্রহণযোগ্যতা এবং সাক্ষী, অভিযোগকারী, তথ্য প্রকাশকারী ও ভুক্তভোগীর পরিচয় ও নিরাপত্তা সুরক্ষার বিধান রাখা হয়েছে।

এছাড়া ভুক্তভোগীরা তদন্তের অগ্রগতি, ঘটনার প্রকৃত তথ্য এবং গুম হওয়া ব্যক্তির অবস্থান বা পরিণতি জানার অধিকার পাবেন। তাদের জন্য সরকারি আইনগত সহায়তা, চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ তহবিল গঠনের পাশাপাশি দণ্ডিত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তা সম্ভব না হলে রাষ্ট্র ক্ষতিপূরণ দেবে।

আইন অনুযায়ী, গুম হওয়া ব্যক্তির স্ত্রী ও নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্পত্তি ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। এছাড়া পাঁচ বছর পরও নিখোঁজ ব্যক্তিকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা না গেলে উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনের জন্য গুম সনদ প্রদানের বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার সংরক্ষণ এবং গুমসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন আইনে সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে তদন্ত এবং পরবর্তী ১২০ দিনের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করার বিধান রাখা হয়েছে।

সবচেয়ে কঠোর শাস্তির বিষয়ে বলা হয়েছে, গুমের অপরাধে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেয়া যাবে। আর গুমের ফলে মৃত্যু ঘটলে, মরদেহ উদ্ধার হলে অথবা পাঁচ বছর অতিক্রমের পরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব না হলে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

মন্ত্রিসভার আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত
মন্ত্রিসভা ‘The Transfer of Property (Amendment) Act, 2026’-এর খসড়াও নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। এর মাধ্যমে পিতা-মাতা বা দাদা-দাদি সন্তান বা নাতি-নাতনিকে সম্পত্তি দান করলেও নিজেদের জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ভোগ-ব্যবহারের আইনগত অধিকার (Lifetime Usufruct) সংরক্ষণের সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।

এ ছাড়া ‘অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ২০২৬’ এবং ‘ওষুধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি ২০২৬’ বাতিলের প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। সরকার জানিয়েছে, জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদের পরামর্শ ছাড়াই তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি প্রণয়ন করায় তা আইনি জটিলতায় পড়ে। নতুন তালিকা প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত ১৯৯৪ সালের অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা ও সরকারি মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা বহাল থাকবে। পাশাপাশি জনগণের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে নতুনভাবে ঔষধের মূল্য নির্ধারণের উদ্যোগ নেয়া হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

গুমের কারণে মৃত্যু হলে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড

আপডেট সময় : ১১:৩৬:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

গুমের অপরাধে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রেখে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের ভেটিং-সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এছাড়া গুমের শিকার ব্যক্তি ও তার পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন এবং রাষ্ট্রীয় আইনগত সহায়তার বিধানও রাখা হয়েছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১৫তম বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মানবাধিকার, মানবিক মর্যাদা, ব্যক্তি-স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গুমকে একটি স্বতন্ত্র, আমলযোগ্য, জামিন-অযোগ্য ও আপস-অযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নতুন আইনটি গুম প্রতিরোধ, দায়ী ব্যক্তিদের বিচার, নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকার, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করার জন্য একটি সমন্বিত আইনগত কাঠামো তৈরি করবে।

আইনে গুম হওয়া ব্যক্তিকে উদ্ধারের জন্য আদালতের মাধ্যমে তল্লাশি পরোয়ানা জারি, অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে বিচার, ডিজিটাল সাক্ষ্যের গ্রহণযোগ্যতা এবং সাক্ষী, অভিযোগকারী, তথ্য প্রকাশকারী ও ভুক্তভোগীর পরিচয় ও নিরাপত্তা সুরক্ষার বিধান রাখা হয়েছে।

এছাড়া ভুক্তভোগীরা তদন্তের অগ্রগতি, ঘটনার প্রকৃত তথ্য এবং গুম হওয়া ব্যক্তির অবস্থান বা পরিণতি জানার অধিকার পাবেন। তাদের জন্য সরকারি আইনগত সহায়তা, চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ তহবিল গঠনের পাশাপাশি দণ্ডিত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তা সম্ভব না হলে রাষ্ট্র ক্ষতিপূরণ দেবে।

আইন অনুযায়ী, গুম হওয়া ব্যক্তির স্ত্রী ও নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্পত্তি ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। এছাড়া পাঁচ বছর পরও নিখোঁজ ব্যক্তিকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা না গেলে উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনের জন্য গুম সনদ প্রদানের বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার সংরক্ষণ এবং গুমসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন আইনে সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে তদন্ত এবং পরবর্তী ১২০ দিনের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করার বিধান রাখা হয়েছে।

সবচেয়ে কঠোর শাস্তির বিষয়ে বলা হয়েছে, গুমের অপরাধে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেয়া যাবে। আর গুমের ফলে মৃত্যু ঘটলে, মরদেহ উদ্ধার হলে অথবা পাঁচ বছর অতিক্রমের পরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব না হলে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

মন্ত্রিসভার আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত
মন্ত্রিসভা ‘The Transfer of Property (Amendment) Act, 2026’-এর খসড়াও নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। এর মাধ্যমে পিতা-মাতা বা দাদা-দাদি সন্তান বা নাতি-নাতনিকে সম্পত্তি দান করলেও নিজেদের জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ভোগ-ব্যবহারের আইনগত অধিকার (Lifetime Usufruct) সংরক্ষণের সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।

এ ছাড়া ‘অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ২০২৬’ এবং ‘ওষুধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি ২০২৬’ বাতিলের প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। সরকার জানিয়েছে, জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদের পরামর্শ ছাড়াই তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি প্রণয়ন করায় তা আইনি জটিলতায় পড়ে। নতুন তালিকা প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত ১৯৯৪ সালের অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা ও সরকারি মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা বহাল থাকবে। পাশাপাশি জনগণের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে নতুনভাবে ঔষধের মূল্য নির্ধারণের উদ্যোগ নেয়া হবে।