ঢাকা ০৩:১৪ অপরাহ্ন, রোববার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জোড়াতালি ইঞ্জিনে চলছে রেল, অচল এক-তৃতীয়াংশ

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:১৮:৪৪ অপরাহ্ন, রোববার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
  • / 7

বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ের ট্রেনের প্রধান চালিকাশক্তি লোকোমোটিভ বা ইঞ্জিন। রেলওয়ের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ইঞ্জিনই এখন অচল। সচল থাকা অনেক ইঞ্জিনও জোড়াতালি দিয়ে চালানো হচ্ছে। এতে ট্রেনের সময়সূচি ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে দুর্ভোগ বাড়ছে। বারবার বিব্রত হতে হচ্ছে রেল কর্তৃপক্ষকে।

রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চল মিলিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের লোকোমোটিভ রয়েছে প্রায় ২৭০টি। এর মধ্যে প্রায় ১৫০টি মিটারগেজ এবং ১২০টি ব্রডগেজ ইঞ্জিন। এসব ইঞ্জিনের মধ্যে ৮০টির বেশি বর্তমানে অচল। ফলে পুরোনো এবং মেরামত করে সচল রাখা ইঞ্জিন দিয়েই যাত্রী ও পণ্য পরিবহন চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ১৫ বছরে রেল খাতে এক লাখ কোটি টাকার বেশি ব্যয় করা হলেও নতুন লোকোমোটিভ সংগ্রহে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। একের পর এক নতুন রেললাইন নির্মাণ করা হলেও পর্যাপ্ত ইঞ্জিন না থাকায় এসব রুটে কাঙ্ক্ষিত গতিতে ট্রেন পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।

দীর্ঘদিনের এই সংকট মোকাবিলায় নতুন ৬০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকার ও এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের (এআইআইবি) যৌথ অর্থায়নে প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩০টি মিটারগেজ ইঞ্জিন কেনার চূড়ান্ত প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

এ ছাড়া এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ঋণে চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথ রূপান্তর প্রকল্পের আওতায় আরও ৩০টি মিটারগেজ ইঞ্জিন সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের টেন্ডার বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (রোলিং স্টক) ফকির মো. মহিউদ্দীন বলেন, এডিবির কাছ থেকে টেন্ডার ডকুমেন্টের সম্মতি পাওয়ার পর প্রকল্প পরিচালক দরপত্র আহ্বান করবেন। চুক্তি সম্পন্ন হলে নতুন ইঞ্জিন তৈরি ও সরবরাহ করতে প্রায় দুই বছর সময় লাগবে।

তবে লোকোমোটিভ সংকটের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে পণ্য পরিবহনে। শুধু পূর্বাঞ্চলেই প্রতিদিন ১৩টি পণ্যবাহী ইঞ্জিনের প্রয়োজন হলেও পাওয়া যাচ্ছে মাত্র তিন থেকে চারটি। এতে নির্ধারিত সময়ে পণ্য পরিবহন করা সম্ভব হচ্ছে না। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রেলের আয়ও।

বুয়েটের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. এম. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, রেলওয়ের ইঞ্জিনের সক্ষমতা আরও বাড়ানো দরকার। এতে ইঞ্জিন কেনার সময়ও সুফল পাওয়া যাবে। তা না হলে সরবরাহকারীদের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

জীর্ণ ও পুরোনো ইঞ্জিনের ওপর নির্ভর করেই বাংলাদেশ রেলওয়ে প্রতি বছর প্রায় ১০ কোটি যাত্রী ও ৪০ লাখ টন পণ্য পরিবহন করছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন লোকোমোটিভ সংগ্রহের উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন করা না গেলে ভবিষ্যতেও রেলের পরিবহন সক্ষমতার সংকট থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

জোড়াতালি ইঞ্জিনে চলছে রেল, অচল এক-তৃতীয়াংশ

আপডেট সময় : ০১:১৮:৪৪ অপরাহ্ন, রোববার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ের ট্রেনের প্রধান চালিকাশক্তি লোকোমোটিভ বা ইঞ্জিন। রেলওয়ের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ইঞ্জিনই এখন অচল। সচল থাকা অনেক ইঞ্জিনও জোড়াতালি দিয়ে চালানো হচ্ছে। এতে ট্রেনের সময়সূচি ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে দুর্ভোগ বাড়ছে। বারবার বিব্রত হতে হচ্ছে রেল কর্তৃপক্ষকে।

রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চল মিলিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের লোকোমোটিভ রয়েছে প্রায় ২৭০টি। এর মধ্যে প্রায় ১৫০টি মিটারগেজ এবং ১২০টি ব্রডগেজ ইঞ্জিন। এসব ইঞ্জিনের মধ্যে ৮০টির বেশি বর্তমানে অচল। ফলে পুরোনো এবং মেরামত করে সচল রাখা ইঞ্জিন দিয়েই যাত্রী ও পণ্য পরিবহন চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ১৫ বছরে রেল খাতে এক লাখ কোটি টাকার বেশি ব্যয় করা হলেও নতুন লোকোমোটিভ সংগ্রহে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। একের পর এক নতুন রেললাইন নির্মাণ করা হলেও পর্যাপ্ত ইঞ্জিন না থাকায় এসব রুটে কাঙ্ক্ষিত গতিতে ট্রেন পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।

দীর্ঘদিনের এই সংকট মোকাবিলায় নতুন ৬০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকার ও এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের (এআইআইবি) যৌথ অর্থায়নে প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩০টি মিটারগেজ ইঞ্জিন কেনার চূড়ান্ত প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

এ ছাড়া এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ঋণে চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথ রূপান্তর প্রকল্পের আওতায় আরও ৩০টি মিটারগেজ ইঞ্জিন সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের টেন্ডার বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (রোলিং স্টক) ফকির মো. মহিউদ্দীন বলেন, এডিবির কাছ থেকে টেন্ডার ডকুমেন্টের সম্মতি পাওয়ার পর প্রকল্প পরিচালক দরপত্র আহ্বান করবেন। চুক্তি সম্পন্ন হলে নতুন ইঞ্জিন তৈরি ও সরবরাহ করতে প্রায় দুই বছর সময় লাগবে।

তবে লোকোমোটিভ সংকটের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে পণ্য পরিবহনে। শুধু পূর্বাঞ্চলেই প্রতিদিন ১৩টি পণ্যবাহী ইঞ্জিনের প্রয়োজন হলেও পাওয়া যাচ্ছে মাত্র তিন থেকে চারটি। এতে নির্ধারিত সময়ে পণ্য পরিবহন করা সম্ভব হচ্ছে না। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রেলের আয়ও।

বুয়েটের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. এম. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, রেলওয়ের ইঞ্জিনের সক্ষমতা আরও বাড়ানো দরকার। এতে ইঞ্জিন কেনার সময়ও সুফল পাওয়া যাবে। তা না হলে সরবরাহকারীদের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

জীর্ণ ও পুরোনো ইঞ্জিনের ওপর নির্ভর করেই বাংলাদেশ রেলওয়ে প্রতি বছর প্রায় ১০ কোটি যাত্রী ও ৪০ লাখ টন পণ্য পরিবহন করছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন লোকোমোটিভ সংগ্রহের উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন করা না গেলে ভবিষ্যতেও রেলের পরিবহন সক্ষমতার সংকট থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন হবে।