ঢাকা ০১:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাতারবাড়ি-পায়রাতে আরও দুই কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:২৭:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
  • / 3

পায়রা ও মাতারাবাড়িতে নতুন দুই কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা করছে সরকার। সার্ভাইভ (বাঁচতে) করতে হলে কয়লাতে যাওয়া ছাড়া বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ খাতকে বাঁচাতে হলে কয়লাতে যেতেই হবে। গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন বাড়ানো যাচ্ছে না। আমাদের হাতে বিকল্প রয়েছে কয়লা এবং তেল। কয়লা দিয়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ হয় ৬ থেকে ৭ টাকা, আর তেলে খরচ পড়ে ২২ টাকার মতো।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মাতারবাড়ি ও পায়রায় একাধিক কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিকল্পনা আগেই ছিল। ভূমি উন্নয়নসহ বেশকিছু কাজ আগে থেকেই করা রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের জুনে কয়লা ভিত্তিক ১০টি বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল ঘোষণা করা হয়। এগুলোর মধ্যে ছিল পটুয়াখালী ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, উত্তরবঙ্গ ১২০০ মেগাওয়াট সুপার থারমাল পাওয়ার প্লান্ট, মাওয়া ৫২২ মেগাওয়াট কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, ঢাকা ২৮২, মাওয়া ৫২২ মেগাওয়াট কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, ঢাকা ২৮২ মেগাওয়াট কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, চট্টগ্রাম ২৮২ মেগাওয়াট কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, খুলনা ৫৬৫ মেগাওয়াট কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, মহেশখালী ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, মহেশখালী (২) ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর ৭০০ মেগাওয়াট আল্ট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প ও সিপিজিসিবিএল-সুমিতোমো ১২০০ মেগাওয়াট আল্ট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প।

এরমধ্যে সিপিজিসিবিএল-সুমিতোমো প্রস্তাবিত বিদ্যুৎ প্রকল্পটি মাতারবাড়ি দ্বিতীয় ধাপে ছিল। প্রথমটি চলমান রাখা হলেও দ্বিতীয় ইউনিটের পরিকল্পনা বাতিলসহ নানা কারণে সরে যায় জাপান।

এক প্রশ্নের জবাবে বিপিডিবি চেয়ারম্যান বলেন, পায়রাতে বেশকিছু পাইলিংয়ের কাজও হয়েছে। কয়লা খালাসের জেটি, যোগাযোগ অবকাঠামো, বিদ্যুৎ সঞ্চালনসহ অনেক কাজ এগিয়ে রয়েছে। আমরা মনে করছি সাড়ে ৩ থেকে ৪ বছরের মধ্যে উৎপাদনে আনা সম্ভব। মাতারবাড়ির বিষয়ে সিপিজিসিবিএল (কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি) নিজে বাস্তবায়ন করতে চায়। আর পায়রার বিষয়ে চীনা কোম্পানির সঙ্গে কথা হয়েছে, তারা আগ্রহ দেখিয়েছে। পায়রার বর্তমান বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ মালিকানায় পরিচালত হচ্ছে।

কয়লা নিয়ে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এবং পরিবেশ দূষণ প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, বৈশ্বিক পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে আমেরিকা, জাপান, জার্মানির মতো দেশ নতুন করে কয়লা বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াচ্ছে। ভারতে ২০ হাজার মেগাওয়াটের বেশি কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে।

তিনি বলেন, নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হলে এখনও কয়লার বিকল্প নেই। আমরা নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে যাচ্ছি, তারপরও কয়লা লাগবে। না হলে সিস্টেম পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়বে।

উদাহরণ টেনে বলেন, একদিন দুপুর ১২টায় দেখলাম সৌর থেকে ৫২৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। ঠিক এক ঘণ্টা পরেই ৩৫৬ এবং বেলা ২টায় মেঘলা আকাশের কারণে ১৭৭ মেগাওয়াটে নেমেছে। এমন পরিস্থিতিতে সঞ্চালন সিস্টেম ঠিক রাখতে হলে বেজডলোড লাগবে। আর বেজডলোডের জন্য আমাদের হাতে এখনও কয়লার বিকল্প নেই।

সৌর থেকে স্টোরেজে সমস্যা কোথায়! এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমরা দিনে কমবেশি ৪ ঘণ্টার মতো সৌর বিদ্যুৎ পাই। যদি ২০ ঘণ্টা ব্যাটারি স্টোরেজ রাখতে হয়, সেই খরচ সামাল দেওয়া সম্ভব না। তাতে তেলের চেয়েও অনেক বেশি খরচ পড়ে যাবে। খুব বেশি হলে সান্ধ্যকালীন পিকের জন্য তিন থেকে চার ঘণ্টা ব্যাটারি স্টোরেজ থাকতে পারে। এর বেশি এই মুহূর্তে বাণিজ্যিকভাবে সফল বিবেচিত নয়। তবে ভবিষ্যতে ব্যাটারির দাম যদি কমে আসে তখন ভিন্ন কথা।

প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, বর্তমানে কয়লা থেকে ৬ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে। ৫ হাজার ৭০০ থেকে ৬ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। গ্যাসে ১২ হাজার ১৫৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। জ্বালানি সংকটের কারণে বেশিরভাগ বন্ধ থেকেছে। এতে করে লোডশেডিং সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, ২৫ আগস্ট বিদ্যুৎ উৎপাদনে ২ হাজার ৫২৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ দেওয়া হয়েছে ৮৮৯ মিলিয়ন ঘনফুট। হিসাব বলছে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের সময়েও দুই-তৃতীয়াংশ গ্যাস ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বেকার পড়েছিল।

বিপিডিবির তথ্য অনুযায়ী, ২৫ আগস্ট গ্যাস ভিত্তিক ১২ হাজার ৯৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের মধ্যে উৎপাদনে ছিল মাত্র ৫ হাজার ১৪৮ মেগাওয়াট। আগামী দিনগুলোতে গ্যাস সংকট আরও বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

বিপিডিবি চেয়ারম্যান বলেন, আরেকটি বিষয় রয়েছে, দেশীয় উৎস থেকে কমদামে পাওয়া গ্যাসের সঙ্গে আমদানি মিলিয়ে গড় করার পরও ভর্তুকি দরে দিচ্ছে। প্রতি ঘনমিটার গ্যাস পাচ্ছি ১৬ টাকা দরে, যদি এলএনজি আমদানির মূল্য ধরা হয়, তাহলে ৬০ টাকার ওপরে পড়বে। ভবিষ্যতে গ্যাসের আমদানি বাড়বে, তখন খরচও বেড়ে যাবে। নানা কারণে কয়লার দিকে যাওয়া ছাড়া উপযুক্ত বিকল্প নেই। অন্তত সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে চাইলে।

পেট্রোবাংলা তথ্য অনুযায়ী, আমদানিকৃত এলএনজি দাম যোগ করার পর গত অর্থবছরের প্রথম ৮ মাস (জুলাই-মার্চ) গড় ক্রয়মূল্য পড়েছে ২৭.৬৪ টাকা। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর (এপ্রিল-জুন ২০২৬) গড় ক্রয়মূল্য উঠেছে ৪৫.৭৯ টাকায়। এতে করে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পেট্রোবাংলার ঘাটতি হয়েছে প্রায় ১৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। যে কারণে বিদ্যুতে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়ে রেখেছে।

প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের পাইকারি দাম (গড়) ৮.২০ টাকা। এতে করে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিপিডিবির প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা লোকসান প্রাক্কলন করা হয়েছে। এখন যত বেশি তেল ব্যবহার হবে লোকসান তত বেড়ে যাবে।

বিপিডিবির তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে ২৯ হাজার ৫৯৩ মেগাওয়াট। এর মধ্যে ১২ হাজার ৪৭২ মেগাওয়াট (৪২.১৫ শতাংশ) গ্যাসভিত্তিক এবং ৮ হাজার ৪২৩ মেগাওয়াট (২৮.৪৬ শতাংশ) কয়লাভিত্তিক (আদানিসহ), ফার্নেস অয়েল ভিত্তিক ৫ হাজার ৬৪১ মেগাওয়াট (১৯.০৬ শতাংশ), ডিজেলভিত্তিক ৭৮৬ মেগাওয়াট (২.৬৭ শতাংশ), সৌর বিদ্যুৎ ৭৯৭ মেগাওয়াট (২.৭৭ শতাংশ), জলবিদ্যুৎ ২৩০ মেগাওয়াট (.৮০ শতাংশ), বায়ু বিদ্যুৎ ৬২ মেগাওয়াট (.২২ শতাংশ)। এর বাইরে রয়েছে ভারত ও নেপাল থেকে আমদানি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

মাতারবাড়ি-পায়রাতে আরও দুই কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা

আপডেট সময় : ০১:২৭:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

পায়রা ও মাতারাবাড়িতে নতুন দুই কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা করছে সরকার। সার্ভাইভ (বাঁচতে) করতে হলে কয়লাতে যাওয়া ছাড়া বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ খাতকে বাঁচাতে হলে কয়লাতে যেতেই হবে। গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন বাড়ানো যাচ্ছে না। আমাদের হাতে বিকল্প রয়েছে কয়লা এবং তেল। কয়লা দিয়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ হয় ৬ থেকে ৭ টাকা, আর তেলে খরচ পড়ে ২২ টাকার মতো।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মাতারবাড়ি ও পায়রায় একাধিক কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিকল্পনা আগেই ছিল। ভূমি উন্নয়নসহ বেশকিছু কাজ আগে থেকেই করা রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের জুনে কয়লা ভিত্তিক ১০টি বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল ঘোষণা করা হয়। এগুলোর মধ্যে ছিল পটুয়াখালী ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, উত্তরবঙ্গ ১২০০ মেগাওয়াট সুপার থারমাল পাওয়ার প্লান্ট, মাওয়া ৫২২ মেগাওয়াট কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, ঢাকা ২৮২, মাওয়া ৫২২ মেগাওয়াট কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, ঢাকা ২৮২ মেগাওয়াট কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, চট্টগ্রাম ২৮২ মেগাওয়াট কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, খুলনা ৫৬৫ মেগাওয়াট কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, মহেশখালী ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, মহেশখালী (২) ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর ৭০০ মেগাওয়াট আল্ট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প ও সিপিজিসিবিএল-সুমিতোমো ১২০০ মেগাওয়াট আল্ট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প।

এরমধ্যে সিপিজিসিবিএল-সুমিতোমো প্রস্তাবিত বিদ্যুৎ প্রকল্পটি মাতারবাড়ি দ্বিতীয় ধাপে ছিল। প্রথমটি চলমান রাখা হলেও দ্বিতীয় ইউনিটের পরিকল্পনা বাতিলসহ নানা কারণে সরে যায় জাপান।

এক প্রশ্নের জবাবে বিপিডিবি চেয়ারম্যান বলেন, পায়রাতে বেশকিছু পাইলিংয়ের কাজও হয়েছে। কয়লা খালাসের জেটি, যোগাযোগ অবকাঠামো, বিদ্যুৎ সঞ্চালনসহ অনেক কাজ এগিয়ে রয়েছে। আমরা মনে করছি সাড়ে ৩ থেকে ৪ বছরের মধ্যে উৎপাদনে আনা সম্ভব। মাতারবাড়ির বিষয়ে সিপিজিসিবিএল (কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি) নিজে বাস্তবায়ন করতে চায়। আর পায়রার বিষয়ে চীনা কোম্পানির সঙ্গে কথা হয়েছে, তারা আগ্রহ দেখিয়েছে। পায়রার বর্তমান বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ মালিকানায় পরিচালত হচ্ছে।

কয়লা নিয়ে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এবং পরিবেশ দূষণ প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, বৈশ্বিক পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে আমেরিকা, জাপান, জার্মানির মতো দেশ নতুন করে কয়লা বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াচ্ছে। ভারতে ২০ হাজার মেগাওয়াটের বেশি কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে।

তিনি বলেন, নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হলে এখনও কয়লার বিকল্প নেই। আমরা নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে যাচ্ছি, তারপরও কয়লা লাগবে। না হলে সিস্টেম পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়বে।

উদাহরণ টেনে বলেন, একদিন দুপুর ১২টায় দেখলাম সৌর থেকে ৫২৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। ঠিক এক ঘণ্টা পরেই ৩৫৬ এবং বেলা ২টায় মেঘলা আকাশের কারণে ১৭৭ মেগাওয়াটে নেমেছে। এমন পরিস্থিতিতে সঞ্চালন সিস্টেম ঠিক রাখতে হলে বেজডলোড লাগবে। আর বেজডলোডের জন্য আমাদের হাতে এখনও কয়লার বিকল্প নেই।

সৌর থেকে স্টোরেজে সমস্যা কোথায়! এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমরা দিনে কমবেশি ৪ ঘণ্টার মতো সৌর বিদ্যুৎ পাই। যদি ২০ ঘণ্টা ব্যাটারি স্টোরেজ রাখতে হয়, সেই খরচ সামাল দেওয়া সম্ভব না। তাতে তেলের চেয়েও অনেক বেশি খরচ পড়ে যাবে। খুব বেশি হলে সান্ধ্যকালীন পিকের জন্য তিন থেকে চার ঘণ্টা ব্যাটারি স্টোরেজ থাকতে পারে। এর বেশি এই মুহূর্তে বাণিজ্যিকভাবে সফল বিবেচিত নয়। তবে ভবিষ্যতে ব্যাটারির দাম যদি কমে আসে তখন ভিন্ন কথা।

প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, বর্তমানে কয়লা থেকে ৬ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে। ৫ হাজার ৭০০ থেকে ৬ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। গ্যাসে ১২ হাজার ১৫৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। জ্বালানি সংকটের কারণে বেশিরভাগ বন্ধ থেকেছে। এতে করে লোডশেডিং সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, ২৫ আগস্ট বিদ্যুৎ উৎপাদনে ২ হাজার ৫২৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ দেওয়া হয়েছে ৮৮৯ মিলিয়ন ঘনফুট। হিসাব বলছে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের সময়েও দুই-তৃতীয়াংশ গ্যাস ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বেকার পড়েছিল।

বিপিডিবির তথ্য অনুযায়ী, ২৫ আগস্ট গ্যাস ভিত্তিক ১২ হাজার ৯৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের মধ্যে উৎপাদনে ছিল মাত্র ৫ হাজার ১৪৮ মেগাওয়াট। আগামী দিনগুলোতে গ্যাস সংকট আরও বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

বিপিডিবি চেয়ারম্যান বলেন, আরেকটি বিষয় রয়েছে, দেশীয় উৎস থেকে কমদামে পাওয়া গ্যাসের সঙ্গে আমদানি মিলিয়ে গড় করার পরও ভর্তুকি দরে দিচ্ছে। প্রতি ঘনমিটার গ্যাস পাচ্ছি ১৬ টাকা দরে, যদি এলএনজি আমদানির মূল্য ধরা হয়, তাহলে ৬০ টাকার ওপরে পড়বে। ভবিষ্যতে গ্যাসের আমদানি বাড়বে, তখন খরচও বেড়ে যাবে। নানা কারণে কয়লার দিকে যাওয়া ছাড়া উপযুক্ত বিকল্প নেই। অন্তত সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে চাইলে।

পেট্রোবাংলা তথ্য অনুযায়ী, আমদানিকৃত এলএনজি দাম যোগ করার পর গত অর্থবছরের প্রথম ৮ মাস (জুলাই-মার্চ) গড় ক্রয়মূল্য পড়েছে ২৭.৬৪ টাকা। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর (এপ্রিল-জুন ২০২৬) গড় ক্রয়মূল্য উঠেছে ৪৫.৭৯ টাকায়। এতে করে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পেট্রোবাংলার ঘাটতি হয়েছে প্রায় ১৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। যে কারণে বিদ্যুতে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়ে রেখেছে।

প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের পাইকারি দাম (গড়) ৮.২০ টাকা। এতে করে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিপিডিবির প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা লোকসান প্রাক্কলন করা হয়েছে। এখন যত বেশি তেল ব্যবহার হবে লোকসান তত বেড়ে যাবে।

বিপিডিবির তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে ২৯ হাজার ৫৯৩ মেগাওয়াট। এর মধ্যে ১২ হাজার ৪৭২ মেগাওয়াট (৪২.১৫ শতাংশ) গ্যাসভিত্তিক এবং ৮ হাজার ৪২৩ মেগাওয়াট (২৮.৪৬ শতাংশ) কয়লাভিত্তিক (আদানিসহ), ফার্নেস অয়েল ভিত্তিক ৫ হাজার ৬৪১ মেগাওয়াট (১৯.০৬ শতাংশ), ডিজেলভিত্তিক ৭৮৬ মেগাওয়াট (২.৬৭ শতাংশ), সৌর বিদ্যুৎ ৭৯৭ মেগাওয়াট (২.৭৭ শতাংশ), জলবিদ্যুৎ ২৩০ মেগাওয়াট (.৮০ শতাংশ), বায়ু বিদ্যুৎ ৬২ মেগাওয়াট (.২২ শতাংশ)। এর বাইরে রয়েছে ভারত ও নেপাল থেকে আমদানি।