ঢাকা ০৩:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হুতিদের লাগাম টেনে ধরতে ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:৫৩:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 4

সৌদি আরবে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের একের পর এক হামলার মধ্যে তাদের লাগাম টেনে ধরতে ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে পাকিস্তান। সংকট আরও ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সমন্বিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে পাকিস্তান এই বার্তা দিয়েছে বলে সৌদি, পাকিস্তানি ও ইরানি সূত্র জানিয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের ওপর হামলা আরও ছড়িয়ে পড়লে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের যৌথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি পরদিন বুধবার বলেন, গত ১২ ঘণ্টায় সৌদি যুদ্ধবিমান ইয়েমেনের বিভিন্ন প্রদেশে ৫৪টি বিমান হামলা চালিয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এসব হামলার ‘জবাব দেয়া হবে এবং এর শাস্তিও দেয়া হবে’।

বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য হুমকি হয়ে ওঠা এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আরেকটি ফ্রন্ট তৈরি করেছে। এরই মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রও যুদ্ধ শুরুর পর থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলের জাহাজ চলাচলে সবচেয়ে বড় পাল্টাপাল্টি হামলা চালাচ্ছে।

আর এমন অবস্থায় হুতিদের লাগাম টেনে ধরতে ইরানকে এই হুঁশিয়ারি দিলো পাকিস্তান। মূলত সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা চুক্তি থাকায় ইরানের প্রতি ইসলামাবাদের এই সতর্কবার্তা বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

ইসলামাবাদ জানিয়েছে, তাদের সম্ভাব্য সামরিক ভূমিকা সৌদি ভূখণ্ডের প্রতিরক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। তবে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, সৌদি আরবে হামলা আরও ছড়িয়ে পড়লে রিয়াদ, আঙ্কারা ও ইসলামাবাদকে নিয়ে যৌথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে।

পাকিস্তানি টেলিভিশনে দেয়া সাক্ষাৎকারে আসিফ বলেন, ‘একটি দেশের ওপর আগ্রাসনকে তিনটি দেশের ওপর আগ্রাসন হিসেবে বিবেচনা করা হবে’। তিনি আরও বলেন, ‘এ নিয়ে কোনো অস্পষ্টতা বা সন্দেহ নেই। বিনা উসকানিতে আগ্রাসন বা হামলা সৌদি আরবে ছড়িয়ে পড়লে এই চুক্তি অবশ্যই কার্যকর হবে।’

অবশ্য পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সামরিক বাহিনী এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দেয়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

বার্তাসংস্থাটি বলছে, সৌদি আরব ও ইরানের সঙ্গে দীর্ঘদিন ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক রেখে চলা পাকিস্তানের এই উদ্যোগই দেখিয়ে দিচ্ছে, হুতিদের হামলা কতটা গুরুতর হয়ে উঠেছে। সূত্রগুলো বলছে, তেহরানের প্রতি ইসলামাবাদের বার্তাটি পরিষ্কার—হুতিদের নিয়ন্ত্রণ করুন, নইলে প্রক্সি যুদ্ধ আরও বড় আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকটে রূপ নিতে পারে।

এক জ্যেষ্ঠ আঞ্চলিক কূটনীতিক জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় পাকিস্তান ইরানের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। সৌদি আরবে হুতি হামলা বন্ধে তেহরান যেন নিজেদের প্রভাব কাজে লাগায়, সেই আহ্বানও জানানো হয়েছে। ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মঙ্গলবার পাকিস্তান তেহরানের কাছে বার্তাটি পৌঁছে দিয়েছে। এর জবাবে তেহরান জানিয়েছে, ‘হুতিদের ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ নেই’।

তবে দুই ইরানি সূত্র জানিয়েছে, গত সপ্তাহে তেহরানই হুতিদের সৌদি আরবে হামলা চালাতে বলেছিল। তাদের দাবি, ইরান হুতিদের অতিরিক্ত অর্থ ও অস্ত্র দেয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে। এ ছাড়া ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কয়েকজন কমান্ডার হামলার সমন্বয়ে সহায়তা করতে ইয়েমেনে গিয়েছিলেন।

আঞ্চলিক ওই কূটনীতিক বলেন, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই হুতিদের নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে ইসলামাবাদ, যেখানে রিয়াদ পাকিস্তানকে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় আরও সক্রিয় ভূমিকা নেয়ার আহ্বান জানাতে পারে। ওই কূটনীতিক রয়টার্সকে বলেন, ‘সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের একটি চুক্তি রয়েছে। তবে আমি আশা করছি, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যাবে না যে পাকিস্তানকে বাস্তবে যুদ্ধে নামতে হবে। আপাতত তারা কূটনৈতিক সমাধানের পথেই থাকবে।’

অন্যদিকে পাকিস্তানি এক সূত্র জানান, সৌদি কর্মকর্তারা রিয়াদে পাকিস্তান ও তুরস্কের জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে পাল্টা ব্যবস্থা নিয়ে সমন্বয় করেছেন। তিন দেশ একমত হয়েছে যে তাদের সেনারা ইয়েমেনে প্রবেশ করবে না এবং যেকোনো পাল্টা ব্যবস্থা সৌদি ভূখণ্ড থেকেই চালানো হবে।

আরেক পাকিস্তানি সূত্র জানান, পাল্টা হামলায় অংশ নেয়ার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রিয়াদের সঙ্গে পাকিস্তানের সামরিক চুক্তিটি প্রতিরক্ষামূলক এবং সৌদি ভূখণ্ড সুরক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। ওই সূত্রের ভাষ্য, পাকিস্তানি বাহিনী সৌদি আরবের ভেতরে সামরিক, কারিগরি, স্থল বা বিমান সহায়তা দিতে পারে। তবে বিদেশের মাটিতে কোনো যুদ্ধ অভিযানে অংশ নেবে না।

আঞ্চলিক ওই কূটনীতিক বলেন, ইরান ও হুতিদের এই চাপ প্রয়োগের কৌশল তেহরানের উদ্দেশ্যের বিপরীত ফল বয়ে আনতে পারে।

রয়টার্স বলছে, ইরানের বন্দর অবরোধ তুলে নিতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ বাড়াতে উপসাগরীয় অঞ্চলে হামলা চালাচ্ছে তেহরান। তবে এতে উল্টো সৌদি আরব, পাকিস্তান, তুরস্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো আরও কাছাকাছি আসতে পারে। ফলে তাদের মধ্যে বিভেদ তৈরি হওয়ার বদলে নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও বাড়তে পারে।

আঞ্চলিক কর্মকর্তারাও মনে করছেন, ওয়াশিংটন এখনই নিজের অবস্থান থেকে সরে আসার কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছে না।

ওই কূটনীতিক বলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় না পৌঁছানো পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর মার্কিন অবরোধ বজায় রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে মনে হচ্ছে। এদিকে কাতার নীরবে এমন কিছু নতুন প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে, যার মাধ্যমে দুই পক্ষকে আবার আলোচনায় ফেরানো যায়।

আরেক আঞ্চলিক সূত্র জানায়, সৌদি আরবের সামরিক জবাব ইরানের বিরুদ্ধে নয়, মূলত হুতিদের লক্ষ্য করেই থাকবে। সৌদি কর্মকর্তারাও মনে করেন না, হুতিদের হামলার মাধ্যমে ইরানের ওপর জারি থাকা মার্কিন অবরোধ তুলে নেয়ার বৃহত্তর লক্ষ্য অর্জিত হবে।

ওই সূত্র বলেন, সৌদি আরব ওয়াশিংটনকে অবরোধ তুলে নেয়ার জন্য চাপ দেবে—এমনটা মনে করা হচ্ছে না। কারণ ট্রাম্প মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক চাপই ইরানকে আলোচনায় আনতে সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

সূত্রটি বলেন, ‘প্রশ্ন হলো, ইরান কতটা চাপ সহ্য করতে পারবে এবং কত দিন পর্যন্ত তা সহ্য করতে পারবে। ট্রাম্প সামরিক সমাধান চান না। তিনি অবরোধের মাধ্যমে তাদের (ইরানের) ওপর চাপ বাড়াতে চান।’

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

হুতিদের লাগাম টেনে ধরতে ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের

আপডেট সময় : ০২:৫৩:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সৌদি আরবে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের একের পর এক হামলার মধ্যে তাদের লাগাম টেনে ধরতে ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে পাকিস্তান। সংকট আরও ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সমন্বিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে পাকিস্তান এই বার্তা দিয়েছে বলে সৌদি, পাকিস্তানি ও ইরানি সূত্র জানিয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের ওপর হামলা আরও ছড়িয়ে পড়লে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের যৌথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি পরদিন বুধবার বলেন, গত ১২ ঘণ্টায় সৌদি যুদ্ধবিমান ইয়েমেনের বিভিন্ন প্রদেশে ৫৪টি বিমান হামলা চালিয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এসব হামলার ‘জবাব দেয়া হবে এবং এর শাস্তিও দেয়া হবে’।

বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য হুমকি হয়ে ওঠা এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আরেকটি ফ্রন্ট তৈরি করেছে। এরই মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রও যুদ্ধ শুরুর পর থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলের জাহাজ চলাচলে সবচেয়ে বড় পাল্টাপাল্টি হামলা চালাচ্ছে।

আর এমন অবস্থায় হুতিদের লাগাম টেনে ধরতে ইরানকে এই হুঁশিয়ারি দিলো পাকিস্তান। মূলত সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা চুক্তি থাকায় ইরানের প্রতি ইসলামাবাদের এই সতর্কবার্তা বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

ইসলামাবাদ জানিয়েছে, তাদের সম্ভাব্য সামরিক ভূমিকা সৌদি ভূখণ্ডের প্রতিরক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। তবে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, সৌদি আরবে হামলা আরও ছড়িয়ে পড়লে রিয়াদ, আঙ্কারা ও ইসলামাবাদকে নিয়ে যৌথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে।

পাকিস্তানি টেলিভিশনে দেয়া সাক্ষাৎকারে আসিফ বলেন, ‘একটি দেশের ওপর আগ্রাসনকে তিনটি দেশের ওপর আগ্রাসন হিসেবে বিবেচনা করা হবে’। তিনি আরও বলেন, ‘এ নিয়ে কোনো অস্পষ্টতা বা সন্দেহ নেই। বিনা উসকানিতে আগ্রাসন বা হামলা সৌদি আরবে ছড়িয়ে পড়লে এই চুক্তি অবশ্যই কার্যকর হবে।’

অবশ্য পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সামরিক বাহিনী এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দেয়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

বার্তাসংস্থাটি বলছে, সৌদি আরব ও ইরানের সঙ্গে দীর্ঘদিন ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক রেখে চলা পাকিস্তানের এই উদ্যোগই দেখিয়ে দিচ্ছে, হুতিদের হামলা কতটা গুরুতর হয়ে উঠেছে। সূত্রগুলো বলছে, তেহরানের প্রতি ইসলামাবাদের বার্তাটি পরিষ্কার—হুতিদের নিয়ন্ত্রণ করুন, নইলে প্রক্সি যুদ্ধ আরও বড় আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকটে রূপ নিতে পারে।

এক জ্যেষ্ঠ আঞ্চলিক কূটনীতিক জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় পাকিস্তান ইরানের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। সৌদি আরবে হুতি হামলা বন্ধে তেহরান যেন নিজেদের প্রভাব কাজে লাগায়, সেই আহ্বানও জানানো হয়েছে। ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মঙ্গলবার পাকিস্তান তেহরানের কাছে বার্তাটি পৌঁছে দিয়েছে। এর জবাবে তেহরান জানিয়েছে, ‘হুতিদের ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ নেই’।

তবে দুই ইরানি সূত্র জানিয়েছে, গত সপ্তাহে তেহরানই হুতিদের সৌদি আরবে হামলা চালাতে বলেছিল। তাদের দাবি, ইরান হুতিদের অতিরিক্ত অর্থ ও অস্ত্র দেয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে। এ ছাড়া ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কয়েকজন কমান্ডার হামলার সমন্বয়ে সহায়তা করতে ইয়েমেনে গিয়েছিলেন।

আঞ্চলিক ওই কূটনীতিক বলেন, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই হুতিদের নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে ইসলামাবাদ, যেখানে রিয়াদ পাকিস্তানকে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় আরও সক্রিয় ভূমিকা নেয়ার আহ্বান জানাতে পারে। ওই কূটনীতিক রয়টার্সকে বলেন, ‘সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের একটি চুক্তি রয়েছে। তবে আমি আশা করছি, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যাবে না যে পাকিস্তানকে বাস্তবে যুদ্ধে নামতে হবে। আপাতত তারা কূটনৈতিক সমাধানের পথেই থাকবে।’

অন্যদিকে পাকিস্তানি এক সূত্র জানান, সৌদি কর্মকর্তারা রিয়াদে পাকিস্তান ও তুরস্কের জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে পাল্টা ব্যবস্থা নিয়ে সমন্বয় করেছেন। তিন দেশ একমত হয়েছে যে তাদের সেনারা ইয়েমেনে প্রবেশ করবে না এবং যেকোনো পাল্টা ব্যবস্থা সৌদি ভূখণ্ড থেকেই চালানো হবে।

আরেক পাকিস্তানি সূত্র জানান, পাল্টা হামলায় অংশ নেয়ার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রিয়াদের সঙ্গে পাকিস্তানের সামরিক চুক্তিটি প্রতিরক্ষামূলক এবং সৌদি ভূখণ্ড সুরক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। ওই সূত্রের ভাষ্য, পাকিস্তানি বাহিনী সৌদি আরবের ভেতরে সামরিক, কারিগরি, স্থল বা বিমান সহায়তা দিতে পারে। তবে বিদেশের মাটিতে কোনো যুদ্ধ অভিযানে অংশ নেবে না।

আঞ্চলিক ওই কূটনীতিক বলেন, ইরান ও হুতিদের এই চাপ প্রয়োগের কৌশল তেহরানের উদ্দেশ্যের বিপরীত ফল বয়ে আনতে পারে।

রয়টার্স বলছে, ইরানের বন্দর অবরোধ তুলে নিতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ বাড়াতে উপসাগরীয় অঞ্চলে হামলা চালাচ্ছে তেহরান। তবে এতে উল্টো সৌদি আরব, পাকিস্তান, তুরস্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো আরও কাছাকাছি আসতে পারে। ফলে তাদের মধ্যে বিভেদ তৈরি হওয়ার বদলে নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও বাড়তে পারে।

আঞ্চলিক কর্মকর্তারাও মনে করছেন, ওয়াশিংটন এখনই নিজের অবস্থান থেকে সরে আসার কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছে না।

ওই কূটনীতিক বলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় না পৌঁছানো পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর মার্কিন অবরোধ বজায় রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে মনে হচ্ছে। এদিকে কাতার নীরবে এমন কিছু নতুন প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে, যার মাধ্যমে দুই পক্ষকে আবার আলোচনায় ফেরানো যায়।

আরেক আঞ্চলিক সূত্র জানায়, সৌদি আরবের সামরিক জবাব ইরানের বিরুদ্ধে নয়, মূলত হুতিদের লক্ষ্য করেই থাকবে। সৌদি কর্মকর্তারাও মনে করেন না, হুতিদের হামলার মাধ্যমে ইরানের ওপর জারি থাকা মার্কিন অবরোধ তুলে নেয়ার বৃহত্তর লক্ষ্য অর্জিত হবে।

ওই সূত্র বলেন, সৌদি আরব ওয়াশিংটনকে অবরোধ তুলে নেয়ার জন্য চাপ দেবে—এমনটা মনে করা হচ্ছে না। কারণ ট্রাম্প মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক চাপই ইরানকে আলোচনায় আনতে সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

সূত্রটি বলেন, ‘প্রশ্ন হলো, ইরান কতটা চাপ সহ্য করতে পারবে এবং কত দিন পর্যন্ত তা সহ্য করতে পারবে। ট্রাম্প সামরিক সমাধান চান না। তিনি অবরোধের মাধ্যমে তাদের (ইরানের) ওপর চাপ বাড়াতে চান।’