ঢাকা ০১:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শুধু টাকার জন্য এমন কাজ করতে চাই না: শবনম ফারিয়া

বিনোদন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:০৮:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 3

একসময় অভিনয়কেই জীবনের মূল লক্ষ্য মনে করতেন অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া। ক্যারিয়ার মানেই অভিনয় এবং নিয়মিত কাজ করাই সাফল্যের মাপকাঠি, এমন ধারণা থাকলেও সময়ের সঙ্গে বদলেছে তার অগ্রাধিকার। এখন অভিনয়ের পাশাপাশি পরিবার, নিজের ঘর, ব্যক্তিগত জীবন ও পছন্দের কাজকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক পোস্টে ব্যক্তিজীবন, অভিনয়, প্রচারণামূলক কনটেন্ট তৈরি এবং কাজ বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে নিজের সীমারেখা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন শবনম ফারিয়া।

দীর্ঘ ওই পোস্টের শুরুতে অভিনেত্রী লেখেন, ‘অনেকদিন পর্যন্ত আমার মনে হতো, আমার জীবনটা বোধহয় অভিনয়কে ঘিরেই হতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘অভিনয় ভালোবেসেই শুরু করেছিলাম। একটা সময় মনে হতো, ক্যারিয়ার মানেই অভিনয়, আর নিয়মিত কাজ করাটাই হয়তো সফলতার মাপকাঠি। কিন্তু জীবন বদলায়, মানুষের অগ্রাধিকার বদলায়, আর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমরাও নিজেদের নতুন করে চিনতে শিখি।’

অনেক বছরের সংগ্রামের পর এখন নিজের কাঙ্ক্ষিত জীবন পেয়েছেন বলেও জানান ফারিয়া। তিনি লেখেন, ‘অনেক বছর অনেক ধরনের সংগ্রামের পর আলহামদুলিল্লাহ, এখন আমার সেই জীবনটা আছে যেটা আমি সবসময় চেয়েছি, একটা পরিবার, একটা নিজের ঘর, এমন একটা জায়গা যেখানে দিন শেষে ফিরে যেতে ইচ্ছে করে।’ এই জীবন পাওয়ার পরই তিনি বুঝেছেন, কাজের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনও তার কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ।

অভিনয় এখনও ভালোবাসেন শবনম ফারিয়া। অভিনয় করতে চানও। তবে শুধু পারিশ্রমিকের জন্য নিজের অপছন্দের কোনো চিত্রনাট্যে দীর্ঘ সময় দিতে রাজি নন তিনি।

ফারিয়া লেখেন, ‘আমি এখনও অভিনয় ভালোবাসি। এখনও অভিনয় করতে চাই। কিন্তু এমন কোনো স্ক্রিপ্টে শুধু টাকার জন্য ১২-১৫ ঘণ্টা সময় দিতে চাই না, যেটা আমি নিজেই পছন্দ করি না। তার সঙ্গে শুটিংয়ে যাওয়া-আসার ট্রাফিক জ্যাম তো আছেই!’ বরং এমন গল্প বা চরিত্রের অপেক্ষায় থাকতে চান, যেটি তাকে সত্যিই আগ্রহী করে তুলবে।

অভিনয়ের পাশাপাশি বর্তমানে প্রচারণামূলক কনটেন্ট তৈরি করাও তার কাজের একটি অংশ হয়ে উঠেছে। এ প্রসঙ্গে অভিনেত্রী জানান, প্রথমে রাকিন তাকে এই ধারণাটি দিয়েছিলেন। কাজ শুরু করার পর বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও কোম্পানি তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে শুরু করে।

কেউ সরাসরি, কেউ এজেন্সির মাধ্যমে আবার কেউ পরিচিত কিংবা বন্ধুদের মাধ্যমে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। গত এক বছরে অনেক ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করলেও সব ধরনের ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করেননি ফারিয়া।

তিনি লেখেন, ‘যেগুলো আমার ব্যক্তিত্ব, আমার জীবনযাপন এবং আমার বিশ্বাসের সঙ্গে যায়, শুধুমাত্র সেগুলোই বেছে নেওয়ার চেষ্টা করেছি।’

প্রচারণামূলক কনটেন্ট তৈরির অন্যতম কারণ হিসেবে ভালো পারিশ্রমিকের কথাও স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন ফারিয়া। বিষয়টি বলতে তার কোনো অস্বস্তি নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ফারিয়া বলেন, ‘আর হ্যাঁ, একটা কথা খুব সত্যি করে বলি, প্রমোশনাল কনটেন্ট করি কারণ এখানে ভালো পারিশ্রমিক পাওয়া যায়। এটা বলতে আমার কোনো অস্বস্তি নেই।’

এরপর নিজের যুক্তি তুলে ধরে তিনি লেখেন, ‘আমি যদি ২-৩ ঘণ্টা সময় দিয়ে, নিজের সুবিধামতো সময়ে কাজ করে ভালো পারিশ্রমিক পাই, আর একইসঙ্গে আমার পরিবার, আমার সংসার এবং নিজের জন্য সময় রাখতে পারি, তাহলে আমি কেন সেটা করব না?’

তবে ভালো পারিশ্রমিক পেলেই যেকোনো কাজ গ্রহণ করেন না বলেও স্পষ্ট করেছেন অভিনেত্রী। ফারিয়া বলেন, গত এক বছরে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে অনুসরণ করার চেষ্টা করেছেন তিনি। সেটি হলো শুধু অর্থের বিনিময়ে কোনো কাজ না করা।

তার মতে, কোনো ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করার অর্থ হলো তার মুখ, নাম ও বিশ্বাসের সঙ্গে সেই ব্র্যান্ডের নামও যুক্ত হওয়া। তাই কোনো ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করার আগে সেটি নিজের কাছে স্বস্তিদায়ক কি না, সেটিও তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি লেখেন, ‘সেজন্য নিজের জন্য কিছু সীমারেখা আমি ঠিক করে নিয়েছি।’

ফারিয়া জানান, তিনি কোনো ত্বক ফর্সাকারী পণ্য, সৌন্দর্যবর্ধক নান্দনিক সেবা বা প্রক্রিয়া, ওজন কমানোর চা, কফি, পানীয় কিংবা ওষুধ প্রচার করেন না।

এ সিদ্ধান্তকে একান্ত ব্যক্তিগত উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ‘আমার গায়ের রং আল্লাহ আমাকে দিয়েছেন। আমার নাক, আমার মুখের গঠন, আমার চিবুক, আমার শরীর, সবকিছুই আল্লাহর সৃষ্টি। কোনটা আমার জন্য সুন্দর, কোনটা আমার সঙ্গে মানানসই, সৃষ্টিকর্তা আমাদের চেয়ে ভালো জানেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘তাই এমন কোনো ধারণা প্রচার করতে চাই না যে সুন্দর হতে হলে আমাকে আরও ফর্সা হতে হবে, আরও চিকন হতে হবে, অথবা আমার মুখের কোনো একটা অংশ বদলাতে হবে।’

ফর্সা হওয়ার প্রবণতা এবং সৌন্দর্যের নির্দিষ্ট মানদণ্ড নিয়েও নিজের ভাবনা জানিয়েছেন অভিনেত্রী। ফারিয়া লেখেন, ‘মাঝেমধ্যে সত্যিই ভাবি, আমাদের বাংলাদেশিদের মধ্যে ফর্সা হওয়ার এই অবসেশনটা কোথা থেকে এলো?’

তার মতে, এখন শুধু ফর্সা হলেই হচ্ছে না। নাক, চিবুক, শরীরের গড়ন কিংবা কতটা চিকন হতে হবে, এসব নিয়েও সৌন্দর্যের একটি নির্দিষ্ট ছক তৈরি করা হয়েছে।

তবে নিজের যত্ন নেওয়া কিংবা নিজের চেহারা বা শরীরের কোনো পরিবর্তন চাওয়া ভুল নয় বলেও পরিষ্কার করেছেন তিনি। সেটিকে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখেন ফারিয়া।

তার ভাষায়, ‘কিন্তু একটা মানুষকে প্রতিনিয়ত এমন অনুভব করানো যে সৃষ্টিকর্তা যেভাবে তাকে সৃষ্টি করেছেন, সেটাই যথেষ্ট সুন্দর নয়, এটা আমার কাছে সমস্যার জায়গা।’

ওই পোস্টে নিজের ওজন নিয়েও গত কয়েক বছর ধরে সংগ্রামের কথা জানিয়েছেন অভিনেত্রী। তাই ওজন কমানোর বিভিন্ন পণ্য প্রচারের বিষয়ে তার অবস্থান আরও ব্যক্তিগত।

তিনি লেখেন, ‘আমি জানি ওজন কমানোর জার্নি কতটা কঠিন হতে পারে। কিন্তু আমি কখনো কোনো স্লিমিং চা, কফি বা ম্যাজিক্যাল ড্রিঙ্কের ওপর বিশ্বাস করিনি।’

নিজের ক্ষেত্রে বিষয়টি হরমোনজনিত উল্লেখ করে তিনি জানান, শর্টকাটের পরিবর্তে সঠিক চিকিৎসা, নিবন্ধিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ, পুষ্টিবিদের দিকনির্দেশনা, ব্যায়াম এবং জীবনযাপনে পরিবর্তনের ওপর বিশ্বাস করেন।

ফারিয়া বলেন, ‘সময় হয়তো একটু বেশি লাগবে। কিন্তু আমি এমন কোনো শর্টকাটের কথা অন্য কাউকে বলব না, যেটা আমি নিজেই বিশ্বাস করি না।’

নিজের নীতিগত অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ফারিয়া বলেন, তিনি নিজে যে পণ্য ব্যবহার করতে বা যে কাজ করতে বিশ্বাস করেন না, শুধুমাত্র অর্থের বিনিময়ে অন্য কাউকে সেটি করার পরামর্শ দেওয়াও তার কাছে সঠিক মনে হয় না।

তিনি জানান, এই ধরনের পণ্যের অনেক ব্র্যান্ড নিয়মিত তার সঙ্গে যোগাযোগ করে। কিন্তু নিজের নির্ধারিত সীমারেখার কারণে সেসব প্রস্তাব গ্রহণ করেন না।

শেষদিকে নিজের বর্তমান অবস্থান নিয়েও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন শবনম ফারিয়া। তিনি লেখেন, ‘আমি বলছি না যে আমি যেসব প্রোডাক্ট প্রমোট করি, সেগুলোর প্রতিটা পৃথিবীর সবচেয়ে পারফেক্ট প্রোডাক্ট হতে হবে। আমি শুধু এটুকু বলতে চাই, আমার কিছু সীমারেখা আছে।’

এরপর তিনি বলেন, ‘আর আলহামদুলিল্লাহ, আজ আমি এমন একটা জায়গায় আছি যেখানে সেই সীমারেখাগুলো মেনে কাজ বেছে নেওয়ার সুযোগ আমার আছে। আমি সেই সুযোগটা সচেতনভাবেই ব্যবহার করি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

শুধু টাকার জন্য এমন কাজ করতে চাই না: শবনম ফারিয়া

আপডেট সময় : ১২:০৮:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

একসময় অভিনয়কেই জীবনের মূল লক্ষ্য মনে করতেন অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া। ক্যারিয়ার মানেই অভিনয় এবং নিয়মিত কাজ করাই সাফল্যের মাপকাঠি, এমন ধারণা থাকলেও সময়ের সঙ্গে বদলেছে তার অগ্রাধিকার। এখন অভিনয়ের পাশাপাশি পরিবার, নিজের ঘর, ব্যক্তিগত জীবন ও পছন্দের কাজকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক পোস্টে ব্যক্তিজীবন, অভিনয়, প্রচারণামূলক কনটেন্ট তৈরি এবং কাজ বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে নিজের সীমারেখা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন শবনম ফারিয়া।

দীর্ঘ ওই পোস্টের শুরুতে অভিনেত্রী লেখেন, ‘অনেকদিন পর্যন্ত আমার মনে হতো, আমার জীবনটা বোধহয় অভিনয়কে ঘিরেই হতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘অভিনয় ভালোবেসেই শুরু করেছিলাম। একটা সময় মনে হতো, ক্যারিয়ার মানেই অভিনয়, আর নিয়মিত কাজ করাটাই হয়তো সফলতার মাপকাঠি। কিন্তু জীবন বদলায়, মানুষের অগ্রাধিকার বদলায়, আর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমরাও নিজেদের নতুন করে চিনতে শিখি।’

অনেক বছরের সংগ্রামের পর এখন নিজের কাঙ্ক্ষিত জীবন পেয়েছেন বলেও জানান ফারিয়া। তিনি লেখেন, ‘অনেক বছর অনেক ধরনের সংগ্রামের পর আলহামদুলিল্লাহ, এখন আমার সেই জীবনটা আছে যেটা আমি সবসময় চেয়েছি, একটা পরিবার, একটা নিজের ঘর, এমন একটা জায়গা যেখানে দিন শেষে ফিরে যেতে ইচ্ছে করে।’ এই জীবন পাওয়ার পরই তিনি বুঝেছেন, কাজের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনও তার কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ।

অভিনয় এখনও ভালোবাসেন শবনম ফারিয়া। অভিনয় করতে চানও। তবে শুধু পারিশ্রমিকের জন্য নিজের অপছন্দের কোনো চিত্রনাট্যে দীর্ঘ সময় দিতে রাজি নন তিনি।

ফারিয়া লেখেন, ‘আমি এখনও অভিনয় ভালোবাসি। এখনও অভিনয় করতে চাই। কিন্তু এমন কোনো স্ক্রিপ্টে শুধু টাকার জন্য ১২-১৫ ঘণ্টা সময় দিতে চাই না, যেটা আমি নিজেই পছন্দ করি না। তার সঙ্গে শুটিংয়ে যাওয়া-আসার ট্রাফিক জ্যাম তো আছেই!’ বরং এমন গল্প বা চরিত্রের অপেক্ষায় থাকতে চান, যেটি তাকে সত্যিই আগ্রহী করে তুলবে।

অভিনয়ের পাশাপাশি বর্তমানে প্রচারণামূলক কনটেন্ট তৈরি করাও তার কাজের একটি অংশ হয়ে উঠেছে। এ প্রসঙ্গে অভিনেত্রী জানান, প্রথমে রাকিন তাকে এই ধারণাটি দিয়েছিলেন। কাজ শুরু করার পর বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও কোম্পানি তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে শুরু করে।

কেউ সরাসরি, কেউ এজেন্সির মাধ্যমে আবার কেউ পরিচিত কিংবা বন্ধুদের মাধ্যমে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। গত এক বছরে অনেক ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করলেও সব ধরনের ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করেননি ফারিয়া।

তিনি লেখেন, ‘যেগুলো আমার ব্যক্তিত্ব, আমার জীবনযাপন এবং আমার বিশ্বাসের সঙ্গে যায়, শুধুমাত্র সেগুলোই বেছে নেওয়ার চেষ্টা করেছি।’

প্রচারণামূলক কনটেন্ট তৈরির অন্যতম কারণ হিসেবে ভালো পারিশ্রমিকের কথাও স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন ফারিয়া। বিষয়টি বলতে তার কোনো অস্বস্তি নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ফারিয়া বলেন, ‘আর হ্যাঁ, একটা কথা খুব সত্যি করে বলি, প্রমোশনাল কনটেন্ট করি কারণ এখানে ভালো পারিশ্রমিক পাওয়া যায়। এটা বলতে আমার কোনো অস্বস্তি নেই।’

এরপর নিজের যুক্তি তুলে ধরে তিনি লেখেন, ‘আমি যদি ২-৩ ঘণ্টা সময় দিয়ে, নিজের সুবিধামতো সময়ে কাজ করে ভালো পারিশ্রমিক পাই, আর একইসঙ্গে আমার পরিবার, আমার সংসার এবং নিজের জন্য সময় রাখতে পারি, তাহলে আমি কেন সেটা করব না?’

তবে ভালো পারিশ্রমিক পেলেই যেকোনো কাজ গ্রহণ করেন না বলেও স্পষ্ট করেছেন অভিনেত্রী। ফারিয়া বলেন, গত এক বছরে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে অনুসরণ করার চেষ্টা করেছেন তিনি। সেটি হলো শুধু অর্থের বিনিময়ে কোনো কাজ না করা।

তার মতে, কোনো ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করার অর্থ হলো তার মুখ, নাম ও বিশ্বাসের সঙ্গে সেই ব্র্যান্ডের নামও যুক্ত হওয়া। তাই কোনো ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করার আগে সেটি নিজের কাছে স্বস্তিদায়ক কি না, সেটিও তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি লেখেন, ‘সেজন্য নিজের জন্য কিছু সীমারেখা আমি ঠিক করে নিয়েছি।’

ফারিয়া জানান, তিনি কোনো ত্বক ফর্সাকারী পণ্য, সৌন্দর্যবর্ধক নান্দনিক সেবা বা প্রক্রিয়া, ওজন কমানোর চা, কফি, পানীয় কিংবা ওষুধ প্রচার করেন না।

এ সিদ্ধান্তকে একান্ত ব্যক্তিগত উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ‘আমার গায়ের রং আল্লাহ আমাকে দিয়েছেন। আমার নাক, আমার মুখের গঠন, আমার চিবুক, আমার শরীর, সবকিছুই আল্লাহর সৃষ্টি। কোনটা আমার জন্য সুন্দর, কোনটা আমার সঙ্গে মানানসই, সৃষ্টিকর্তা আমাদের চেয়ে ভালো জানেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘তাই এমন কোনো ধারণা প্রচার করতে চাই না যে সুন্দর হতে হলে আমাকে আরও ফর্সা হতে হবে, আরও চিকন হতে হবে, অথবা আমার মুখের কোনো একটা অংশ বদলাতে হবে।’

ফর্সা হওয়ার প্রবণতা এবং সৌন্দর্যের নির্দিষ্ট মানদণ্ড নিয়েও নিজের ভাবনা জানিয়েছেন অভিনেত্রী। ফারিয়া লেখেন, ‘মাঝেমধ্যে সত্যিই ভাবি, আমাদের বাংলাদেশিদের মধ্যে ফর্সা হওয়ার এই অবসেশনটা কোথা থেকে এলো?’

তার মতে, এখন শুধু ফর্সা হলেই হচ্ছে না। নাক, চিবুক, শরীরের গড়ন কিংবা কতটা চিকন হতে হবে, এসব নিয়েও সৌন্দর্যের একটি নির্দিষ্ট ছক তৈরি করা হয়েছে।

তবে নিজের যত্ন নেওয়া কিংবা নিজের চেহারা বা শরীরের কোনো পরিবর্তন চাওয়া ভুল নয় বলেও পরিষ্কার করেছেন তিনি। সেটিকে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখেন ফারিয়া।

তার ভাষায়, ‘কিন্তু একটা মানুষকে প্রতিনিয়ত এমন অনুভব করানো যে সৃষ্টিকর্তা যেভাবে তাকে সৃষ্টি করেছেন, সেটাই যথেষ্ট সুন্দর নয়, এটা আমার কাছে সমস্যার জায়গা।’

ওই পোস্টে নিজের ওজন নিয়েও গত কয়েক বছর ধরে সংগ্রামের কথা জানিয়েছেন অভিনেত্রী। তাই ওজন কমানোর বিভিন্ন পণ্য প্রচারের বিষয়ে তার অবস্থান আরও ব্যক্তিগত।

তিনি লেখেন, ‘আমি জানি ওজন কমানোর জার্নি কতটা কঠিন হতে পারে। কিন্তু আমি কখনো কোনো স্লিমিং চা, কফি বা ম্যাজিক্যাল ড্রিঙ্কের ওপর বিশ্বাস করিনি।’

নিজের ক্ষেত্রে বিষয়টি হরমোনজনিত উল্লেখ করে তিনি জানান, শর্টকাটের পরিবর্তে সঠিক চিকিৎসা, নিবন্ধিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ, পুষ্টিবিদের দিকনির্দেশনা, ব্যায়াম এবং জীবনযাপনে পরিবর্তনের ওপর বিশ্বাস করেন।

ফারিয়া বলেন, ‘সময় হয়তো একটু বেশি লাগবে। কিন্তু আমি এমন কোনো শর্টকাটের কথা অন্য কাউকে বলব না, যেটা আমি নিজেই বিশ্বাস করি না।’

নিজের নীতিগত অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ফারিয়া বলেন, তিনি নিজে যে পণ্য ব্যবহার করতে বা যে কাজ করতে বিশ্বাস করেন না, শুধুমাত্র অর্থের বিনিময়ে অন্য কাউকে সেটি করার পরামর্শ দেওয়াও তার কাছে সঠিক মনে হয় না।

তিনি জানান, এই ধরনের পণ্যের অনেক ব্র্যান্ড নিয়মিত তার সঙ্গে যোগাযোগ করে। কিন্তু নিজের নির্ধারিত সীমারেখার কারণে সেসব প্রস্তাব গ্রহণ করেন না।

শেষদিকে নিজের বর্তমান অবস্থান নিয়েও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন শবনম ফারিয়া। তিনি লেখেন, ‘আমি বলছি না যে আমি যেসব প্রোডাক্ট প্রমোট করি, সেগুলোর প্রতিটা পৃথিবীর সবচেয়ে পারফেক্ট প্রোডাক্ট হতে হবে। আমি শুধু এটুকু বলতে চাই, আমার কিছু সীমারেখা আছে।’

এরপর তিনি বলেন, ‘আর আলহামদুলিল্লাহ, আজ আমি এমন একটা জায়গায় আছি যেখানে সেই সীমারেখাগুলো মেনে কাজ বেছে নেওয়ার সুযোগ আমার আছে। আমি সেই সুযোগটা সচেতনভাবেই ব্যবহার করি।