আশুলিয়ায় গ্যাস সিলিন্ডারবাহী লরিতে আগুন, নিহত বেড়ে ৭
- আপডেট সময় : ১২:২৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 9
সাভারের আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় পোশাক কারখানার চত্বরে আগুন ও বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে সাতজনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে জামগড়া চৌরাস্তা এলাকার প্রীতি গ্রুপের এফ অ্যান্ড এফ কারখানার চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টা চালিয়ে রাত ৮টা ৩ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে আগুনের সূত্রপাত বয়লার নাকি গ্যাস সিলিন্ডার থেকে হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে কারখানার চত্বরে বিকট শব্দে একাধিক বিস্ফোরণ ঘটে। এতে আশপাশের এলাকা কেঁপে ওঠে এবং আগুন ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের ভাষ্য, কারখানার চত্বরে থাকা গ্যাস সিলিন্ডারবাহী কাভার্ড ভ্যান ও কয়েকটি লরিতে আগুন লাগে। তবে কারখানার মূল ভবনে আগুন ছড়ায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা রনি বলেন, বিস্ফোরণের আঘাত ও আগুনে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তিনি নিজে দুজন দগ্ধ ও গুরুতর আহত শ্রমিককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। বিস্ফোরণের ধাক্কায় বয়লার বা পাইপের লোহার খণ্ড ছিটকে পাশের বাড়িঘর ও সড়কে পড়ে রিকশাচালকসহ আরও কয়েকজন আহত হন বলেও দাবি করেন তিনি।
আশুলিয়ার নারী ও শিশু হাসপাতালের ব্যবস্থাপক হারুন অর রশীদ বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত অন্তত ১৪ জন দগ্ধ বা আহত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। শরীরের বেশির ভাগ অংশ দগ্ধ হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
রাত সাড়ে ১১টার দিকে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, ক্যাভার্ড ভ্যানের ভেতর থেকে আরও পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
প্রীতি গ্রুপের এফ অ্যান্ড এফ কারখানার প্রশাসনিক ব্যবস্থাপক হেমায়েত বলেন, কারখানার ভেতরে কোনো শ্রমিক আটকে নেই। কারখানার সীমানাপ্রাচীরের কোণায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান বলেন, সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে জিরাবো ফায়ার স্টেশনে প্রীতি গ্রুপে আগুন লাগার খবর আসে। খবর পেয়ে জিরাবো ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশে পাঠানো হয়। তবে বাইপাইলের যানজটের কারণে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দেরি হয়। পরে ইপিজেড ফায়ার স্টেশনের আরও দুটি ইউনিট পাঠানো হয়।
তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে পাঁচ থেকে ছয়টি কাভার্ড ভ্যানে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। ভেতরে কোনো হতাহত বা লোকজন পাওয়া যায়নি। রাত ৮টা ৩ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। বর্তমানে আগুনের শিখা নেই। তবে গ্যাসের উপস্থিতির কারণে গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। কাভার্ড ভ্যান ও এলপিজি সিলিন্ডারগুলো ঠান্ডা করার কাজ চলছিল।
হাফিজুর রহমান বলেন, কাভার্ড ভ্যানের ভেতরে থাকা এলপিজি সিলিন্ডার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আগুনের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থলে মোট চারটি ইউনিট কাজ করেছে। কাভার্ড ভ্যানের ভেতরে সিলিন্ডার এনে ব্যবহার করা নিরাপদ কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে। শ্রমিকদের কাছ থেকে তাঁরা জানতে পেরেছেন, সিলিন্ডারগুলো ভ্যান থেকে বের করে ব্যবহার করা হতো।
শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ঘটনাস্থলের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বিস্ফোরণটি বয়লার নাকি সিলিন্ডার থেকে হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ভেতরে প্রচণ্ড আগুন থাকায় উদ্ধারকর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে পুরোপুরি প্রবেশ করতে পারছেন না। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর হতাহতের সঠিক সংখ্যা জানানো হবে।





















আশুলিয়ায় গ্যাস সিলিন্ডারবাহী লরিতে আগুন, নিহত বেড়ে ৭