সৌদিকে সামরিক সহায়তার প্রস্তুতি তুরস্কের
- আপডেট সময় : ১২:৫৭:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 6
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলায় সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি যখন ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে, তখন রিয়াদের সামরিক প্রয়োজন মেটাতে সহায়তার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে তুরস্ক। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, বিশেষ করে সামরিক ও কারিগরি কিছু ক্ষেত্রে সৌদি আরবের প্রয়োজন হলে তা পূরণে আঙ্কারার কোনো আপত্তি নেই।
শনিবার দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তুর্কি সম্প্রচারমাধ্যম এনটিভিকে এ কথা জানান হাকান ফিদান। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদনে তার বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে।
ফিদান বলেন, সৌদি আরবের ভূখণ্ড ও সার্বভৌমত্বের ওপর গুরুতর হামলা হচ্ছে। তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্প্রতি সই হওয়া প্রতিরক্ষা চুক্তির কারণে আঙ্কারা রিয়াদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করছে।
সৌদি আরবের কিছু সামরিক প্রয়োজন, বিশেষ করে কারিগরি ক্ষেত্রে, দেখা দিলে তা পূরণে তুরস্ক প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
গত মাসে সই হওয়া মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
জোটটি বিদ্যমান কোনো আন্তর্জাতিক সামরিক জোটের বিকল্প নয় এবং ভবিষ্যতে অন্য দেশও এতে যুক্ত হতে পারে বলে তুরস্ক জানিয়েছে।
ইয়েমেনের জনবহুল অঞ্চলগুলোর নিয়ন্ত্রণে থাকা হুথিরা গত জুলাইয়ে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণার পর দেশটির বিভিন্ন শহর, জ্বালানি অবকাঠামো ও নৌপথে হামলা চালিয়ে আসছে। এতে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে বৈশ্বিক বাজারে তেল সরবরাহ এবং হরমুজ প্রণালির বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত লোহিত সাগরীয় নৌপথও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আগের সংঘাত ও চুক্তির প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সামরিক সহায়তা চাইলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তা প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সৌদি আরবকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের অংশ করে তোলা অগ্রহণযোগ্য বলেও মন্তব্য করেন ফিদান। তার ভাষ্য, রিয়াদের এ সংঘাতে জড়ানোর কোনো ইচ্ছা নেই। সংঘাত বন্ধে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের কাছে নতুন কিছু প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে প্রস্তাবগুলোর বিস্তারিত প্রকাশ করেননি তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
ফিদান বলেন, সংকটের অর্থনৈতিক প্রভাব এখন সহনীয় সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। তাই সংঘাতে জড়িত সব পক্ষের উচিত নতুন উদ্যোগগুলো গ্রহণ করে লড়াই বন্ধের পথে এগোনো।
তুরস্ক জানিয়েছে, ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক শক্তির দেশ হিসেবে তাদের সামরিক সক্ষমতা থাকলেও সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে করা এই প্রতিরক্ষা চুক্তি কোনো বিদ্যমান আন্তর্জাতিক জোটকে প্রতিস্থাপন করছে না। বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করাই এর লক্ষ্য।
এর মধ্যেই শনিবার সৌদি রাজধানী রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দরের কাছে আগুন ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। কয়েক ঘণ্টা পর হুথিরা রিয়াদের ‘সংবেদনশীল’ স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করে। সৌদি কর্তৃপক্ষ একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে। হামলার পর তুরস্ক এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে তা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। সূত্র: রয়টার্স ও ডন


























১০০০ টাকার নোট বাতিলের দাবিতে সরকারকে আইনি নোটিশ