ঢাকা ১২:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অক্টোবরে আসবে রূপপুর দ্বিতীয় ইউনিটের ইউরেনিয়াম

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:৫৩:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 1

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) সরবরাহের কাজ ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে শুরু হবে। ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ এই সরবরাহ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন (রোসাটম)।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে রোসাটম। রূপপুর প্রকল্পের জেনারেল ডিজাইনার ও প্রধান ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছে রোসাটমের প্রকৌশল শাখা। ইউরেনিয়াম বহনে পাকিস্তানের আকাশসীমা নিয়ে কয়েকদিন ধরেই আলোচিত হচ্ছে। পাকিস্তান তাদের আকাশসীমা ব্যবহার করতে না দেওয়া একাধিক গণমাধ্যমে এসেছে।

রোসাটমের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চুক্তি ও প্রকল্পের সময়সূচি অনুযায়ী, কয়েকটি ফ্লাইটের মাধ্যমে এই জ্বালানি পরিবহন করা হবে।

দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য নির্ধারিত পারমাণবিক জ্বালানি গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় এসে পৌঁছানোর কথা ছিল। শেষ মুহূর্তে তা বাতিল হয় বলে বিভিন্ন সোর্স দাবি করেছে। পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহনের আগে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা ও বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সম্মতির পাশাপাশি যেসব দেশের ওপর দিয়ে এটি আসবে, সেসব দেশের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি লাগে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, শুরুতে পারমাণবিক এই জ্বালানি গত জুনে আসার কথা থাকলেও দুদফা সময়সীমা পিছিয়ে গত ২৪ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত করা হয়। এজন্য রাশিয়ায় নির্ধারিত উড়োজাহাজে ওই জ্বালানি লোড করা হয়। বাংলাদেশও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল। কিন্তু শেষ সময়ে ওইদিন রাতে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত পারমাণবিক শক্তি সংস্থা রোসাটমের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এটি পাঠাতে দেরি হবে। তবে এতে প্রকল্পের কাজে ব্যাঘাত ঘটবে না। কারণ দ্বিতীয় ইউনিটের কাজ শেষ করে জ্বালানি লোড করতে এখনো বেশ সময় লাগবে।

আকাশসীমা ব্যবহার নিয়ে জটিলতার কারণে রাশিয়া এখন ভিন্ন রুট ব্যবহারে চিন্তা করছে বলে জানা গেছে। সেক্ষেত্রে চীন ও মিয়ানমার হয়ে এই জ্বালানি আসতে পারে। অথবা অন্য কোনো রুটও ব্যবহার করতে পারে রোসাটম।

বাংলাদেশের সঙ্গেও চীন ও মিয়ানমারের কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। ফলে এই পথ ব্যবহার করলে আগের জটিলতা এড়ানো সম্ভব হতে পারে। তবে কোন পথ শেষ পর্যন্ত ব্যবহার করা হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অনুমতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রকল্প। এতে সিংহভাগ অর্থায়ন দিয়েছে রাশিয়া। ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকার এ প্রকল্পে রাশিয়ার অর্থায়ন রয়েছে ৯৩ হাজার কোটি টাকা। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৩ এ প্রথম ইউনিট থেকে উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা ছিল। রাশিয়ার ওপর পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞার কারণে জার্মান প্রতিষ্ঠান সিমেন্স কাজকে জটিল করে তোলে। সিমেন্স ২৩৩/৪০০ কেভি জিআইএস সাব স্টেশন সরবরাহ করার কথা ছিল। শেষ সময়ে সাব স্টেশন সরবরাহ করতে অস্বীকৃতি জানালে নতুন ঠিকাদার নিযুক্ত করা হয় চীনা কোম্পানিকে। নানা কারণে বাণিজ্যিক উৎপাদনের তারিখ পিছিয়ে দেওয়া হয়।

গত ২৮ এপ্রিল প্রথম ইউনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং বা ‘ফিজিক্যাল স্টার্টআপ’ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়। কয়েক দফায় পিছিয়ে অক্টোবরে আংশিক উৎপাদন শুরুর করা জানানো হয়েছে রোসাটমের পক্ষ থেকে।

নিউজটি শেয়ার করুন

অক্টোবরে আসবে রূপপুর দ্বিতীয় ইউনিটের ইউরেনিয়াম

আপডেট সময় : ১০:৫৩:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) সরবরাহের কাজ ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে শুরু হবে। ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ এই সরবরাহ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন (রোসাটম)।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে রোসাটম। রূপপুর প্রকল্পের জেনারেল ডিজাইনার ও প্রধান ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছে রোসাটমের প্রকৌশল শাখা। ইউরেনিয়াম বহনে পাকিস্তানের আকাশসীমা নিয়ে কয়েকদিন ধরেই আলোচিত হচ্ছে। পাকিস্তান তাদের আকাশসীমা ব্যবহার করতে না দেওয়া একাধিক গণমাধ্যমে এসেছে।

রোসাটমের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চুক্তি ও প্রকল্পের সময়সূচি অনুযায়ী, কয়েকটি ফ্লাইটের মাধ্যমে এই জ্বালানি পরিবহন করা হবে।

দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য নির্ধারিত পারমাণবিক জ্বালানি গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় এসে পৌঁছানোর কথা ছিল। শেষ মুহূর্তে তা বাতিল হয় বলে বিভিন্ন সোর্স দাবি করেছে। পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহনের আগে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা ও বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সম্মতির পাশাপাশি যেসব দেশের ওপর দিয়ে এটি আসবে, সেসব দেশের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি লাগে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, শুরুতে পারমাণবিক এই জ্বালানি গত জুনে আসার কথা থাকলেও দুদফা সময়সীমা পিছিয়ে গত ২৪ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত করা হয়। এজন্য রাশিয়ায় নির্ধারিত উড়োজাহাজে ওই জ্বালানি লোড করা হয়। বাংলাদেশও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল। কিন্তু শেষ সময়ে ওইদিন রাতে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত পারমাণবিক শক্তি সংস্থা রোসাটমের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এটি পাঠাতে দেরি হবে। তবে এতে প্রকল্পের কাজে ব্যাঘাত ঘটবে না। কারণ দ্বিতীয় ইউনিটের কাজ শেষ করে জ্বালানি লোড করতে এখনো বেশ সময় লাগবে।

আকাশসীমা ব্যবহার নিয়ে জটিলতার কারণে রাশিয়া এখন ভিন্ন রুট ব্যবহারে চিন্তা করছে বলে জানা গেছে। সেক্ষেত্রে চীন ও মিয়ানমার হয়ে এই জ্বালানি আসতে পারে। অথবা অন্য কোনো রুটও ব্যবহার করতে পারে রোসাটম।

বাংলাদেশের সঙ্গেও চীন ও মিয়ানমারের কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। ফলে এই পথ ব্যবহার করলে আগের জটিলতা এড়ানো সম্ভব হতে পারে। তবে কোন পথ শেষ পর্যন্ত ব্যবহার করা হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অনুমতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রকল্প। এতে সিংহভাগ অর্থায়ন দিয়েছে রাশিয়া। ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকার এ প্রকল্পে রাশিয়ার অর্থায়ন রয়েছে ৯৩ হাজার কোটি টাকা। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৩ এ প্রথম ইউনিট থেকে উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা ছিল। রাশিয়ার ওপর পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞার কারণে জার্মান প্রতিষ্ঠান সিমেন্স কাজকে জটিল করে তোলে। সিমেন্স ২৩৩/৪০০ কেভি জিআইএস সাব স্টেশন সরবরাহ করার কথা ছিল। শেষ সময়ে সাব স্টেশন সরবরাহ করতে অস্বীকৃতি জানালে নতুন ঠিকাদার নিযুক্ত করা হয় চীনা কোম্পানিকে। নানা কারণে বাণিজ্যিক উৎপাদনের তারিখ পিছিয়ে দেওয়া হয়।

গত ২৮ এপ্রিল প্রথম ইউনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং বা ‘ফিজিক্যাল স্টার্টআপ’ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়। কয়েক দফায় পিছিয়ে অক্টোবরে আংশিক উৎপাদন শুরুর করা জানানো হয়েছে রোসাটমের পক্ষ থেকে।