গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষের পথে, কারিগরি আলোচনা চালাচ্ছে ভারত: রণধীর জয়সোয়াল

- আপডেট সময় : ১১:৪৪:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 2
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে এ নিয়ে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে ভারত। মঙ্গলবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিসাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেন, গঙ্গাসহ দুই দেশের অভিন্ন নদীগুলোর পানি সংক্রান্ত বিষয় যৌথ নদী কমিশনের মাধ্যমে আলোচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে গঙ্গা পানি চুক্তি নিয়ে কারিগরি পর্যায়ের বৈঠকও অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাদেশের পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী অ্যানি সম্প্রতি জানিয়েছেন, ঢাকা ১৯৯৬ সালের চুক্তি শুধু নবায়নের পরিবর্তে নতুন একটি গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি চায়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন চুক্তিতে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশের প্রাপ্য পানির নিশ্চয়তা এবং বর্ষায় অতিরিক্ত পানি প্রবাহের কারণে সৃষ্ট সমস্যার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ৩০ বছর মেয়াদি এই চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ১২ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। চুক্তির আওতায় ফারাক্কা পয়েন্টে শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গার পানি দুই দেশের মধ্যে বণ্টনের ব্যবস্থা রয়েছে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নতুন চুক্তির প্রস্তাবের বিষয়ে ভারতের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে জয়সোয়াল বলেন, অভিন্ন নদীগুলোর পানি সংক্রান্ত বিষয় দুই দেশের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় কাঠামোর মধ্যেই আলোচনা করা হবে। তিনি যৌথ নদী কমিশনের কথা উল্লেখ করে জানান, গঙ্গা পানি চুক্তি নিয়ে কারিগরি পর্যায়ের বৈঠকও চলছে।
এর আগে বাংলাদেশ জানিয়েছিল, নতুন চুক্তিতে শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গার পানিতে দেশের ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বর্ষায় অতিরিক্ত পানি প্রবাহের বিষয়েও নিশ্চয়তা চায় ঢাকা। বাংলাদেশের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও যৌথ নদী কমিশন নতুন চুক্তির কাঠামো নিয়ে প্রস্তুতিও চালিয়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ ও ভারত ৫৪টি অভিন্ন নদী ভাগ করে। তবে গঙ্গা ছাড়া অন্য কোনো অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তি নেই। ফলে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে চলমান আলোচনা দুই দেশের পানি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নতুন বা সংশোধিত চুক্তি নিয়ে দুই দেশ কীভাবে এগোয়, সেটিই এখন মূল বিষয়। ভারতের পক্ষ থেকে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় কাঠামোর মাধ্যমে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে, আর বাংলাদেশ নতুন চুক্তির মাধ্যমে পানির ন্যায্য হিস্যা ও প্রয়োজনীয় নিশ্চয়তা চাচ্ছে।























