ঢাকা ০২:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নির্বাচন কমিশনের প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ভারতে ব্যাপক বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:৩১:৩৯ অপরাহ্ন, রোববার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
  • / 0

ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রতিবাদ এবং ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী নয়াদিল্লি ও মুম্বাইয়ে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। টানা তৃতীয় দিনের মতো রোববার (৪ অক্টোবর) চলা বিক্ষোভে হাজার হাজার তরুণ ও বিরোধীদলীয় সমর্থক অংশ নেন। এ সময় কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে পুলিশ।

মুম্বাইয়ে আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন বিরোধীদলীয় নেতা রাজ ঠাকরে ও উদ্ধব ঠাকরে। বিক্ষোভকারীরা ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া বাতিলের দাবি জানান।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকায় আনা পরিবর্তনগুলো প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) সুবিধা দেবে। তবে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি উভয় পক্ষই এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার সন্ধ্যার শুরুতে নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হতে শুরু করেন। পরে পুলিশ কয়েকজনকে আটক করে। একপর্যায়ে কয়েকজন বিক্ষোভকারী পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে আটক ব্যক্তিদের বহনকারী গাড়ি ঘিরে ফেলেন। কেউ কেউ গাড়ির ওপর উঠে পড়েন এবং যান চলাচল বন্ধ করতে সড়কে শুয়ে পড়েন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, পুলিশ তাকে চুল ধরে টেনে নিয়ে গেছে। এ বিষয়ে দিল্লি পুলিশের কাছে ই-মেইলে জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

গত দুই দিন ধরেও দিল্লিতে বিক্ষোভকারীদের সমাবেশে বাধা দিয়ে আসছে পুলিশ। এ সময় অনেক বিক্ষোভকারীকে আটক করে বাসে করে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের কয়েকজনকে শুক্রবার ও শনিবার ছেড়ে দেওয়া হলেও রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে বড় ধরনের জনসমাবেশের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগে অনেকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, গত বছর শুরু হওয়া দেশব্যাপী ভোটার তালিকা সংশোধন কার্যক্রমের মাধ্যমে লাখ লাখ যোগ্য ভোটারকে তালিকা থেকে বাদ দিয়ে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, এতে ক্ষমতাসীন বিজেপি রাজনৈতিকভাবে সুবিধা পেতে পারে।

বিরোধীদলীয় নেতা রাজ ঠাকরে বলেন, ক্ষমতায় কে থাকবে আর কে বিরোধী দলে থাকবে, তা নির্ধারণের অধিকার জনগণের, নির্বাচন কমিশনের নয়। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে তারা ক্ষুব্ধ বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে ভারতের নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভুয়া, মৃত ও অযোগ্য ব্যক্তিদের নাম বাদ দিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই ভোটার তালিকা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার কমিশন ভুলবশত তালিকা থেকে বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের পুনরায় নিবন্ধনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার তার পদত্যাগের দাবি বা চলমান আন্দোলন নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।

এদিকে আগামী দিনগুলোতে আরও কয়েকটি সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও তরুণদের সংগঠন। বিরোধী দলগুলোর একটি জোট আগামী মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রার পরিকল্পনা করেছে। তরুণদের রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ককরোচ জনতা পার্টিও আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লিতে বড় সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে।

এর আগে গত জুলাইয়ে জাতীয় মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন হয়েছিল। ওই আন্দোলনের পর ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

নির্বাচন কমিশনের প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ভারতে ব্যাপক বিক্ষোভ

আপডেট সময় : ১০:৩১:৩৯ অপরাহ্ন, রোববার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রতিবাদ এবং ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী নয়াদিল্লি ও মুম্বাইয়ে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। টানা তৃতীয় দিনের মতো রোববার (৪ অক্টোবর) চলা বিক্ষোভে হাজার হাজার তরুণ ও বিরোধীদলীয় সমর্থক অংশ নেন। এ সময় কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে পুলিশ।

মুম্বাইয়ে আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন বিরোধীদলীয় নেতা রাজ ঠাকরে ও উদ্ধব ঠাকরে। বিক্ষোভকারীরা ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া বাতিলের দাবি জানান।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকায় আনা পরিবর্তনগুলো প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) সুবিধা দেবে। তবে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি উভয় পক্ষই এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার সন্ধ্যার শুরুতে নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হতে শুরু করেন। পরে পুলিশ কয়েকজনকে আটক করে। একপর্যায়ে কয়েকজন বিক্ষোভকারী পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে আটক ব্যক্তিদের বহনকারী গাড়ি ঘিরে ফেলেন। কেউ কেউ গাড়ির ওপর উঠে পড়েন এবং যান চলাচল বন্ধ করতে সড়কে শুয়ে পড়েন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, পুলিশ তাকে চুল ধরে টেনে নিয়ে গেছে। এ বিষয়ে দিল্লি পুলিশের কাছে ই-মেইলে জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

গত দুই দিন ধরেও দিল্লিতে বিক্ষোভকারীদের সমাবেশে বাধা দিয়ে আসছে পুলিশ। এ সময় অনেক বিক্ষোভকারীকে আটক করে বাসে করে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের কয়েকজনকে শুক্রবার ও শনিবার ছেড়ে দেওয়া হলেও রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে বড় ধরনের জনসমাবেশের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগে অনেকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, গত বছর শুরু হওয়া দেশব্যাপী ভোটার তালিকা সংশোধন কার্যক্রমের মাধ্যমে লাখ লাখ যোগ্য ভোটারকে তালিকা থেকে বাদ দিয়ে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, এতে ক্ষমতাসীন বিজেপি রাজনৈতিকভাবে সুবিধা পেতে পারে।

বিরোধীদলীয় নেতা রাজ ঠাকরে বলেন, ক্ষমতায় কে থাকবে আর কে বিরোধী দলে থাকবে, তা নির্ধারণের অধিকার জনগণের, নির্বাচন কমিশনের নয়। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে তারা ক্ষুব্ধ বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে ভারতের নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভুয়া, মৃত ও অযোগ্য ব্যক্তিদের নাম বাদ দিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই ভোটার তালিকা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার কমিশন ভুলবশত তালিকা থেকে বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের পুনরায় নিবন্ধনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার তার পদত্যাগের দাবি বা চলমান আন্দোলন নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।

এদিকে আগামী দিনগুলোতে আরও কয়েকটি সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও তরুণদের সংগঠন। বিরোধী দলগুলোর একটি জোট আগামী মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রার পরিকল্পনা করেছে। তরুণদের রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ককরোচ জনতা পার্টিও আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লিতে বড় সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে।

এর আগে গত জুলাইয়ে জাতীয় মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন হয়েছিল। ওই আন্দোলনের পর ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।