ঢাকা ০৩:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১২ কেজি এলপি গ্যাসের দাম বাড়িয়ে ১৮৩৭ টাকা নির্ধারণ

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:০৩:৪৯ অপরাহ্ন, রোববার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
  • / 1

এলপি গ্যাসের বাজারে অস্থিরতার মধ্যেই বাড়ল দাম, ১২ কেজি এলপিজির সিলিন্ডারে ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাস লিটার প্রতি ৭৩.০৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮৪.৬২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) এলপিজির নতুন দর ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন দর সন্ধ্যা ৬ টার পর থেকে কার্যকর হবে।

আন্তর্জাতিক বাজারদর বেড়ে যাওয়া, জাহাজ ভাড়া এবং এলপিজি পরিবহনের যানবাহনের ব্যবহৃত ডিজেলের দাম বাড়ায় এই বাড়তি দাম বলে জানিয়েছে বিইআরসি। যদিও গত দুই সপ্তাহ ধরে এলপিজির বাজারে অস্থিরতা চলছে। দাম বৃদ্ধির বিষয়টি আঁচ করতে পেরে সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ার সংকট দেখা দিয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে ১৫৮৫ টাকা দাম নির্ধারিত থাকলেও ২২০০ থেকে ২৫০০ টাকায় বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রাষ্ট্রীয় একটি গোয়েন্দা বাহিনীর রিপোর্টে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজার উর্ধমূখী (টনপ্রতি ৬৪ ডলার) দেখে ৫টি কোম্পানি ২২ সেপ্টেম্বর থেকে বিক্রি প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। নতুন দামে বিক্রি করার জন্য হাজার হাজার টন এলপিজি ধরে রেখেছে। ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, আগস্টে আমদানি হয়েছে ১লাখ ৫৮ হাজার টন, আর সেপ্টেম্বর মাসে এসেছে ১ লাখ ৫৬হাজার টন। সে কারণে বাজারে ঘাটতি হওয়ার কোন সুযোগ নেই।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে এক দফায় এলপিজি খাতে নজির বিহীন অরাজকতা ছড়ায়।মার্চের দর ১৩৪১ টাকা থাকলেও ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকায় বেচাকেনার খবর রেকর্ড করা হয়। তখন সংকটকে পুঁজি করে একের পর এক সুবিধা দেওয়া হয় আমদানিকারকদের। আমদানিসীমা বাড়িয়ে দেওয়া, ট্যাক্স কমানো এবং এলসি ঋণ সুবিধার ধারাবাহিকতায় ফ্রেইটচার্জও (জাহাজ ভাড়া) টন প্রতি ১০৮ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২৫০ ডলার করা হয়। শুধু এসব সুবিধা নয়, আমদানিকারকদের দাবির প্রেক্ষিতে ঋণে এলসি খোলার অনুমতি প্রদান করা হয়। তারপরও বাজারের উপর নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।

২০২১ সালের ১২ এপ্রিলে প্রথমবারের মতো এলপি গ্যাসের দর ঘোষণা করা হয়। তখন বলা হয়েছিল এখন থেকে সৌদির দর উঠা-নামা করলে ভিত্তিমূল্য উঠা-নামা করবে। অন্যান্য কমিশন, জাহাজ ভাড়া, আমদানিকারকের কমিশন, ডিলার এবং খুচরা বিক্রেতার কমিশন কমবেশি করতে হলে নতুন করে গণশুনানি করা হবে। ওই ঘোষণার পর থেকে প্রতি মাসে এলপিজির দর ঘোষণা করে আসছে বিইআরসি।

নিউজটি শেয়ার করুন

১২ কেজি এলপি গ্যাসের দাম বাড়িয়ে ১৮৩৭ টাকা নির্ধারণ

আপডেট সময় : ১১:০৩:৪৯ অপরাহ্ন, রোববার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

এলপি গ্যাসের বাজারে অস্থিরতার মধ্যেই বাড়ল দাম, ১২ কেজি এলপিজির সিলিন্ডারে ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাস লিটার প্রতি ৭৩.০৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮৪.৬২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) এলপিজির নতুন দর ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন দর সন্ধ্যা ৬ টার পর থেকে কার্যকর হবে।

আন্তর্জাতিক বাজারদর বেড়ে যাওয়া, জাহাজ ভাড়া এবং এলপিজি পরিবহনের যানবাহনের ব্যবহৃত ডিজেলের দাম বাড়ায় এই বাড়তি দাম বলে জানিয়েছে বিইআরসি। যদিও গত দুই সপ্তাহ ধরে এলপিজির বাজারে অস্থিরতা চলছে। দাম বৃদ্ধির বিষয়টি আঁচ করতে পেরে সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ার সংকট দেখা দিয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে ১৫৮৫ টাকা দাম নির্ধারিত থাকলেও ২২০০ থেকে ২৫০০ টাকায় বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রাষ্ট্রীয় একটি গোয়েন্দা বাহিনীর রিপোর্টে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজার উর্ধমূখী (টনপ্রতি ৬৪ ডলার) দেখে ৫টি কোম্পানি ২২ সেপ্টেম্বর থেকে বিক্রি প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। নতুন দামে বিক্রি করার জন্য হাজার হাজার টন এলপিজি ধরে রেখেছে। ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, আগস্টে আমদানি হয়েছে ১লাখ ৫৮ হাজার টন, আর সেপ্টেম্বর মাসে এসেছে ১ লাখ ৫৬হাজার টন। সে কারণে বাজারে ঘাটতি হওয়ার কোন সুযোগ নেই।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে এক দফায় এলপিজি খাতে নজির বিহীন অরাজকতা ছড়ায়।মার্চের দর ১৩৪১ টাকা থাকলেও ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকায় বেচাকেনার খবর রেকর্ড করা হয়। তখন সংকটকে পুঁজি করে একের পর এক সুবিধা দেওয়া হয় আমদানিকারকদের। আমদানিসীমা বাড়িয়ে দেওয়া, ট্যাক্স কমানো এবং এলসি ঋণ সুবিধার ধারাবাহিকতায় ফ্রেইটচার্জও (জাহাজ ভাড়া) টন প্রতি ১০৮ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২৫০ ডলার করা হয়। শুধু এসব সুবিধা নয়, আমদানিকারকদের দাবির প্রেক্ষিতে ঋণে এলসি খোলার অনুমতি প্রদান করা হয়। তারপরও বাজারের উপর নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।

২০২১ সালের ১২ এপ্রিলে প্রথমবারের মতো এলপি গ্যাসের দর ঘোষণা করা হয়। তখন বলা হয়েছিল এখন থেকে সৌদির দর উঠা-নামা করলে ভিত্তিমূল্য উঠা-নামা করবে। অন্যান্য কমিশন, জাহাজ ভাড়া, আমদানিকারকের কমিশন, ডিলার এবং খুচরা বিক্রেতার কমিশন কমবেশি করতে হলে নতুন করে গণশুনানি করা হবে। ওই ঘোষণার পর থেকে প্রতি মাসে এলপিজির দর ঘোষণা করে আসছে বিইআরসি।