ঢাকা ১১:৪৪ অপরাহ্ন, রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মালয়েশিয়ায় প্রথম ধাপে ১০ হাজার শ্রমিক পাঠানোর সিদ্ধান্ত

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:৩৭:২৪ অপরাহ্ন, রোববার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
  • / 0

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশ থেকে প্রথম ধাপে ১০ হাজার শ্রমিক পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে এবার মালয়েশিয়ার চাহিদার ভিত্তিতে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ শ্রমিক পাঠাতে চায় সরকার।

রোববার (৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

শ্রমমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের আলোচনার ভিত্তিতে মালয়েশিয়ার বন্ধ শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রথম ধাপে দেশটি ১০ হাজার শ্রমিক নেবে। এই শ্রমিকদের মধ্যে বিনা খরচে কতজন যাবেন, তা পরবর্তী সময়ে চাহিদা অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে।

তিনি বলেন, ‘ওরা ১০ হাজার শ্রমিক নেবে। এই ১০ হাজার শ্রমিক থেকেই আমরা বিনামূল্যে ওটা স্টার্ট করার পরে বিভিন্ন ডিমান্ড অনুযায়ী আমাদের বোয়েসেল এবং অন্যান্য রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে যাবে।’

শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে আগের অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ যাতে পুনরাবৃত্তি না হয়, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। শুধু শ্রমিক পাঠালেই হবে না, মালয়েশিয়ার নিয়োগদাতাদের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ শ্রমিক পাঠাতে হবে বলেও জানান তিনি।

প্রশিক্ষণ ছাড়া শ্রমিক পাঠানো হলে বিদেশে গিয়ে তাঁরা বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় পড়তে পারেন উল্লেখ করে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, আগে মালয়েশিয়ার চাহিদা নির্ধারণ করা হবে। এরপর সেই চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশে শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা ডিমান্ড অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দিতে চাই। যারা ওই দেশের শ্রমিক নেবে, তারা এখানে এসে তাদের চাহিদা অনুযায়ী সেটা চয়েস করবেন, তারপরে আমরা যাব।’

মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ ওভারসিজ অ্যামপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) ছাড়াও অনুমোদিত অন্যান্য রিক্রুটিং এজেন্সিকে যুক্ত করা হবে বলে জানান শ্রমমন্ত্রী। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

শ্রমিকদের মেডিক্যাল পরীক্ষা-সংক্রান্ত প্রক্রিয়াও এখনো অনুমোদিত হয়নি বলে জানান তিনি। মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে শ্রমিকের চাহিদা ও অন্যান্য বিষয় নিশ্চিত হওয়ার পর পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে।

মন্ত্রী বলেন, ‘এখনো মেডিক্যাল হয়নি। বিস্তারিত নিশ্চিত হওয়ার পরে আপনাদের কাছে উপস্থাপন করব। আমাদের চাহিদা যে ১০ হাজার, সেই লোকগুলোর ডিমান্ড আসলে পরে আমরা এটা ছাড়ব। এবং তারপরই আমাদের কার্যক্রম বেসিক্যালি শুরু হবে।’

এর আগে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত খরচ, অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ উঠেছিল। এবার এসব বিষয় এড়িয়ে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।

বিদেশে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি দেশে চাকরির সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও জানান শ্রমমন্ত্রী। তিনি বলেন, চলতি বছরেই অ্যামপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ সেন্টার চালু করা হবে। এর মাধ্যমে অনলাইন ও অফলাইন পদ্ধতিতে চাকরিপ্রার্থী এবং বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মীর চাহিদার একটি ডাটাবেজ তৈরি করা হবে।

বিভিন্ন শিল্পে শ্রমিক ও কর্মচারীর চাহিদা নির্ধারণের পাশাপাশি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে জব ফেয়ার ও ক্যারিয়ার ফেয়ারের মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থী খুঁজে বের করা হবে বলেও জানান তিনি।

এ ছাড়া চলতি মাসের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে মজুরি বোর্ড গঠন করা হবে বলে জানান শ্রমমন্ত্রী।

নিউজটি শেয়ার করুন

মালয়েশিয়ায় প্রথম ধাপে ১০ হাজার শ্রমিক পাঠানোর সিদ্ধান্ত

আপডেট সময় : ১০:৩৭:২৪ অপরাহ্ন, রোববার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশ থেকে প্রথম ধাপে ১০ হাজার শ্রমিক পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে এবার মালয়েশিয়ার চাহিদার ভিত্তিতে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ শ্রমিক পাঠাতে চায় সরকার।

রোববার (৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

শ্রমমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের আলোচনার ভিত্তিতে মালয়েশিয়ার বন্ধ শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রথম ধাপে দেশটি ১০ হাজার শ্রমিক নেবে। এই শ্রমিকদের মধ্যে বিনা খরচে কতজন যাবেন, তা পরবর্তী সময়ে চাহিদা অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে।

তিনি বলেন, ‘ওরা ১০ হাজার শ্রমিক নেবে। এই ১০ হাজার শ্রমিক থেকেই আমরা বিনামূল্যে ওটা স্টার্ট করার পরে বিভিন্ন ডিমান্ড অনুযায়ী আমাদের বোয়েসেল এবং অন্যান্য রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে যাবে।’

শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে আগের অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ যাতে পুনরাবৃত্তি না হয়, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। শুধু শ্রমিক পাঠালেই হবে না, মালয়েশিয়ার নিয়োগদাতাদের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ শ্রমিক পাঠাতে হবে বলেও জানান তিনি।

প্রশিক্ষণ ছাড়া শ্রমিক পাঠানো হলে বিদেশে গিয়ে তাঁরা বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় পড়তে পারেন উল্লেখ করে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, আগে মালয়েশিয়ার চাহিদা নির্ধারণ করা হবে। এরপর সেই চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশে শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা ডিমান্ড অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দিতে চাই। যারা ওই দেশের শ্রমিক নেবে, তারা এখানে এসে তাদের চাহিদা অনুযায়ী সেটা চয়েস করবেন, তারপরে আমরা যাব।’

মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ ওভারসিজ অ্যামপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) ছাড়াও অনুমোদিত অন্যান্য রিক্রুটিং এজেন্সিকে যুক্ত করা হবে বলে জানান শ্রমমন্ত্রী। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

শ্রমিকদের মেডিক্যাল পরীক্ষা-সংক্রান্ত প্রক্রিয়াও এখনো অনুমোদিত হয়নি বলে জানান তিনি। মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে শ্রমিকের চাহিদা ও অন্যান্য বিষয় নিশ্চিত হওয়ার পর পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে।

মন্ত্রী বলেন, ‘এখনো মেডিক্যাল হয়নি। বিস্তারিত নিশ্চিত হওয়ার পরে আপনাদের কাছে উপস্থাপন করব। আমাদের চাহিদা যে ১০ হাজার, সেই লোকগুলোর ডিমান্ড আসলে পরে আমরা এটা ছাড়ব। এবং তারপরই আমাদের কার্যক্রম বেসিক্যালি শুরু হবে।’

এর আগে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত খরচ, অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ উঠেছিল। এবার এসব বিষয় এড়িয়ে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।

বিদেশে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি দেশে চাকরির সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও জানান শ্রমমন্ত্রী। তিনি বলেন, চলতি বছরেই অ্যামপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ সেন্টার চালু করা হবে। এর মাধ্যমে অনলাইন ও অফলাইন পদ্ধতিতে চাকরিপ্রার্থী এবং বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মীর চাহিদার একটি ডাটাবেজ তৈরি করা হবে।

বিভিন্ন শিল্পে শ্রমিক ও কর্মচারীর চাহিদা নির্ধারণের পাশাপাশি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে জব ফেয়ার ও ক্যারিয়ার ফেয়ারের মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থী খুঁজে বের করা হবে বলেও জানান তিনি।

এ ছাড়া চলতি মাসের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে মজুরি বোর্ড গঠন করা হবে বলে জানান শ্রমমন্ত্রী।