ঢাকা ০৪:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৯ মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় ৭৩ জন নিহত, ৯১ শতাংশে বিএনপি জড়িত

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:৪১:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
  • / 0

গত নয় মাসে দেশে ১ হাজার ১৩টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ৭৩ জন নিহত ও ৬ হাজার ৪৭৩ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বিএনপির ৪৬ জন, জামায়াতে ইসলামীর ৮ জন এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৬ জন রয়েছেন। এ সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতার ৯১ শতাংশ ঘটনায় বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল কিংবা দলটির সঙ্গে অন্য রাজনৈতিক দলের সংঘাতের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। একই সময়ে মব সহিংসতা ও গণপিটুনির ৩৯৮টি ঘটনায় ১৮৭ জন নিহত হয়েছেন। কারাগারে মারা গেছেন ৯৫ জন বন্দি। এ ছাড়া নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন ৫১৮ জন সাংবাদিক।

মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে। ১৬টি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদ এবং সংগঠনটির নিজস্ব তথ্য ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এই প্রতিবেদন।

এইচআরএসএসের তথ্য অনুযায়ী, বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ৩৪২টি ঘটনায় ২ হাজার ৬৩২ জন আহত ও ৪০ জন নিহত হয়েছেন। বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে ৩২১টি সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ২ হাজার ১৯০ জন এবং নিহত হয়েছেন ১১ জন। বিএনপি-আওয়ামী লীগের ৯৩টি সংঘর্ষে ৫৪৫ জন আহত ও ৯ জন নিহত হয়েছেন।

এ ছাড়া বিএনপি-এনসিপির ৪৭টি সংঘর্ষে ৩২০ জন আহত হয়েছেন। আওয়ামী লীগ-এনসিপির পাঁচটি সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ৫৮ জন। আওয়ামী লীগ-জামায়াতের দুটি সংঘর্ষে তিনজন আহত ও একজন নিহত হয়েছেন। আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের একটি ঘটনায়ও একজন নিহত হয়েছেন। বিএনপি ও অন্যান্য দলের মধ্যে ১২৮টি সংঘর্ষে ৩২০ জন আহত হয়েছেন। অন্যান্য ছোট-বড় দলের মধ্যে ৭৪টি ঘটনায় ৪০৫ জন আহত এবং ১১ জন নিহত হয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোট রাজনৈতিক সহিংসতার ১ হাজার ১৩টি ঘটনার মধ্যে ৯৩১টি বা ৯১ শতাংশ ঘটেছে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং দলটির সঙ্গে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সংঘাতের কারণে।

নিহতদের রাজনৈতিক পরিচয় বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিএনপির ৪৬ জন ছাড়াও জামায়াতের ৮ জন, আওয়ামী লীগের ৬ জন এবং চরমপন্থী গোষ্ঠীর একজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া একজন সাধারণ নারীসহ অন্যান্য দলভুক্ত বা রাজনৈতিক পরিচয় অজানা ১২ জন নিহত হয়েছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকেন্দ্রিক ৪০২টি সহিংসতার ঘটনায় ২ হাজার ৬২৩ জন আহত এবং ১৩ জন নিহত হয়েছেন। নির্বাচন-পূর্ব ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ছয় শতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বাড়িঘর ও নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতায় নিহতদের মধ্যে বিএনপির ৯ জন, জামায়াতের ২ জন, আওয়ামী লীগের একজন এবং রাজনৈতিক পরিচয় অজানা একজন রয়েছেন।

দলভিত্তিক হিসাবে, বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ১২৩টি ঘটনায় ৯৪১ জন আহত ও ৮ জন নিহত হয়েছেন। বিএনপি-জামায়াতের ২৩৪টি সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ১ হাজার ৪৩৮ জন এবং নিহত হয়েছেন ৪ জন। বিএনপি-আওয়ামী লীগের তিনটি সংঘর্ষে তিনজন আহত ও একজন নিহত হয়েছেন। বিএনপি-এনসিপির ১৬টি সংঘর্ষে ১৪১ জন এবং বিএনপি ও অন্যান্য দলের ১৭টি ঘটনায় ৬৩ জন আহত হয়েছেন। অন্যান্য দলের মধ্যে ১০টি ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩৮ জন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক বিরোধ, নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থিতা, সমাবেশ, প্রার্থীদের সমর্থকদের সংঘর্ষ ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে অধিকাংশ রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় বাড়িঘর, যানবাহন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দলীয় কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।

এ সময়ে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অন্তত ৮৮টি ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় কমপক্ষে ১০০ জন আহত এবং ৫২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বিএনপির ৩০ জন, আওয়ামী লীগের ১১ জন, জামায়াতের ৫ জন ও অন্যান্য দলের ৬ জন রয়েছেন। রাজনৈতিক সহিংসতায় দেড় শতাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

এইচআরএসএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নয় মাসে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ২৭০টির বেশি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ৫ হাজার ৮০৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং ৩২ হাজার ৪৩৩ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

মামলাগুলোতে বিভিন্ন দলের ৫ হাজার ৬৪৪ জন নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে আওয়ামী লীগের ৪ হাজার ৮২৭ জন, বিএনপির ৬০৯ জন, জামায়াতের ১৪৫ জন, এনসিপির ৪৩ জন এবং চরমপন্থী গোষ্ঠীর ৩৭ জন রয়েছেন। এ ছাড়া সন্ত্রাস, নাশকতা, পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযানে ৬৩ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

৯ মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় ৭৩ জন নিহত, ৯১ শতাংশে বিএনপি জড়িত

আপডেট সময় : ০২:৪১:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

গত নয় মাসে দেশে ১ হাজার ১৩টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ৭৩ জন নিহত ও ৬ হাজার ৪৭৩ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বিএনপির ৪৬ জন, জামায়াতে ইসলামীর ৮ জন এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৬ জন রয়েছেন। এ সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতার ৯১ শতাংশ ঘটনায় বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল কিংবা দলটির সঙ্গে অন্য রাজনৈতিক দলের সংঘাতের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। একই সময়ে মব সহিংসতা ও গণপিটুনির ৩৯৮টি ঘটনায় ১৮৭ জন নিহত হয়েছেন। কারাগারে মারা গেছেন ৯৫ জন বন্দি। এ ছাড়া নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন ৫১৮ জন সাংবাদিক।

মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে। ১৬টি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদ এবং সংগঠনটির নিজস্ব তথ্য ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এই প্রতিবেদন।

এইচআরএসএসের তথ্য অনুযায়ী, বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ৩৪২টি ঘটনায় ২ হাজার ৬৩২ জন আহত ও ৪০ জন নিহত হয়েছেন। বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে ৩২১টি সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ২ হাজার ১৯০ জন এবং নিহত হয়েছেন ১১ জন। বিএনপি-আওয়ামী লীগের ৯৩টি সংঘর্ষে ৫৪৫ জন আহত ও ৯ জন নিহত হয়েছেন।

এ ছাড়া বিএনপি-এনসিপির ৪৭টি সংঘর্ষে ৩২০ জন আহত হয়েছেন। আওয়ামী লীগ-এনসিপির পাঁচটি সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ৫৮ জন। আওয়ামী লীগ-জামায়াতের দুটি সংঘর্ষে তিনজন আহত ও একজন নিহত হয়েছেন। আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের একটি ঘটনায়ও একজন নিহত হয়েছেন। বিএনপি ও অন্যান্য দলের মধ্যে ১২৮টি সংঘর্ষে ৩২০ জন আহত হয়েছেন। অন্যান্য ছোট-বড় দলের মধ্যে ৭৪টি ঘটনায় ৪০৫ জন আহত এবং ১১ জন নিহত হয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোট রাজনৈতিক সহিংসতার ১ হাজার ১৩টি ঘটনার মধ্যে ৯৩১টি বা ৯১ শতাংশ ঘটেছে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং দলটির সঙ্গে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সংঘাতের কারণে।

নিহতদের রাজনৈতিক পরিচয় বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিএনপির ৪৬ জন ছাড়াও জামায়াতের ৮ জন, আওয়ামী লীগের ৬ জন এবং চরমপন্থী গোষ্ঠীর একজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া একজন সাধারণ নারীসহ অন্যান্য দলভুক্ত বা রাজনৈতিক পরিচয় অজানা ১২ জন নিহত হয়েছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকেন্দ্রিক ৪০২টি সহিংসতার ঘটনায় ২ হাজার ৬২৩ জন আহত এবং ১৩ জন নিহত হয়েছেন। নির্বাচন-পূর্ব ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ছয় শতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বাড়িঘর ও নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতায় নিহতদের মধ্যে বিএনপির ৯ জন, জামায়াতের ২ জন, আওয়ামী লীগের একজন এবং রাজনৈতিক পরিচয় অজানা একজন রয়েছেন।

দলভিত্তিক হিসাবে, বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ১২৩টি ঘটনায় ৯৪১ জন আহত ও ৮ জন নিহত হয়েছেন। বিএনপি-জামায়াতের ২৩৪টি সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ১ হাজার ৪৩৮ জন এবং নিহত হয়েছেন ৪ জন। বিএনপি-আওয়ামী লীগের তিনটি সংঘর্ষে তিনজন আহত ও একজন নিহত হয়েছেন। বিএনপি-এনসিপির ১৬টি সংঘর্ষে ১৪১ জন এবং বিএনপি ও অন্যান্য দলের ১৭টি ঘটনায় ৬৩ জন আহত হয়েছেন। অন্যান্য দলের মধ্যে ১০টি ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩৮ জন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক বিরোধ, নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থিতা, সমাবেশ, প্রার্থীদের সমর্থকদের সংঘর্ষ ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে অধিকাংশ রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় বাড়িঘর, যানবাহন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দলীয় কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।

এ সময়ে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অন্তত ৮৮টি ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় কমপক্ষে ১০০ জন আহত এবং ৫২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বিএনপির ৩০ জন, আওয়ামী লীগের ১১ জন, জামায়াতের ৫ জন ও অন্যান্য দলের ৬ জন রয়েছেন। রাজনৈতিক সহিংসতায় দেড় শতাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

এইচআরএসএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নয় মাসে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ২৭০টির বেশি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ৫ হাজার ৮০৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং ৩২ হাজার ৪৩৩ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

মামলাগুলোতে বিভিন্ন দলের ৫ হাজার ৬৪৪ জন নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে আওয়ামী লীগের ৪ হাজার ৮২৭ জন, বিএনপির ৬০৯ জন, জামায়াতের ১৪৫ জন, এনসিপির ৪৩ জন এবং চরমপন্থী গোষ্ঠীর ৩৭ জন রয়েছেন। এ ছাড়া সন্ত্রাস, নাশকতা, পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযানে ৬৩ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।