ঢাকা ০৮:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘মেসি কী করছে, তা আমি দেখি না’

স্পোটর্স ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:২৪:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
  • / 54

একজনের ক্যারিয়ার সায়াহ্নে দাঁড়িয়ে, আর অন্যজন পা রেখেছেন নিজের ক্যারিয়ারের একেবারে সোনালী সময়ে। তবে সর্বকালের সেরা ফুটবলারকে তো আর বয়স দিয়ে বেঁধে রাখা যায় না। কিলিয়ান এমবাপে সেটা ভালো করেই জানেন। লিওনেল মেসির মতো ‘অতিমানবীয়’ পারফরম্যান্সের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া যে নেহাৎ বোকামি ছাড়া কিছুই নয়, ফরাসি তারকা ফরোয়ার্ড তা নিজের মুখে স্বীকার করতেই যেন বাধ্য হলেন। মেসিকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের প্রাণভোমরা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, আর্জেন্টাইন মহাতারকার কী করছে সেটা দেখে আসলে খুব একটা লাভ নেই।

বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসন নিয়ে অবশ্য মেসির পিছু ছাড়ছেন না এমবাপে। ইরাকের বিপক্ষে ফ্রান্সের ৩-০ ব্যবধানের জয়ে জোড়া গোল করেছেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড, যা বিশ্বমঞ্চে তাঁর মোট গোলসংখ্যাকে নিয়ে গেছে ১৬-তে। এর মাধ্যমে তিনি ছুঁয়ে ফেলেছেন জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসেকে, এই বিশ্বকাপ শুরুর আগপর্যন্ত রেকর্ডটির একক মালিক ছিলেন যিনি।

এর আগে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জয়ের ম্যাচে জোড়া গোল করে জার্মান কিংবদন্তি ক্লোসেকে ছাড়িয়ে যান মেসি, রেকর্ড আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ীর মোট গোলসংখ্যা এখন ১৮।

ঠিক কয়েক ঘণ্টা পরেই মাঠে নামেন ফ্রান্সের ১০ নম্বর জার্সিধারী এমবাপে, এবং তিনিও করেন জোড়া গোল। তবে তাঁর দাবি—আর্জেন্টাইন জাদুকরের সঙ্গে এই দ্বৈরথ নিয়ে তিনি এই মুহূর্তে মোটেও চিন্তিত নন। এমবাপ্পে বলেন, ‘আমি কেবল আমার দলের দিকেই মনোনিবেশ করছি। যখন আপনি গোল করবেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই এই অভিজাত তালিকায় ওপরের দিকে চলে আসবেন। তবে আমি আবারও বলছি: আমার কাছে নিজের দলের উন্নতি ও বিবর্তনটা লক্ষ্য করাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’

তবে ৩৮ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন মহাতারকা মেসির চেয়ে বয়সে অনেক পিছিয়ে থাকলেও, একটা জায়গায় কিন্তু এমবাপ্পের পরিসংখ্যান অবিশ্বাস্য রকমের ভারী; বিশ্বকাপে প্রতি ম্যাচে গড়ে অন্তত একটি করে গোল করার এক দুর্দান্ত রেকর্ড রয়েছে এই ফরাসি তারকার ঝুলিতে।

২০১৮, ২০২২ এবং চলমান ২০২৬—এই তিন বিশ্বকাপ মিলিয়ে ফ্রান্সের ১০ নম্বর জার্সিধারী ম্যাচ খেলেছেন মোটে ১৬টি, আর তাতেই তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬!

একটু তুলনা করলেই বোঝা যাবে এমবাপ্পের এই পরিসংখ্যান কতটা অতিমানবীয়। মিরোস্লাভ ক্লোসের ১৬ গোলের রেকর্ড ছুঁতে রিয়াল মাদ্রিদ স্ট্রাইকারের লেগেছে মাত্র ১৬ ম্যাচ; যেখানে এই রেকর্ড গড়তে লিওনেল মেসির লেগেছে ২৭ ম্যাচ। আর জার্মানির ক্লোসে নিজে যখন ব্রাজিলের ‘ফেনোমেনন’ রোনালদোর তৎকালীন রেকর্ড ভেঙেছিলেন, তখন তাঁর লেগেছিল ২৩ ম্যাচ।

অবশ্য গোলদাতার রেকর্ড নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামাচ্ছেন না এমবাপে। পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, ‘আমি সর্বোচ্চ গোলদাতার খেতাব নিয়ে ভাবছি না। আমার কাছে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো দলের সম্মিলিত শক্তিতে ভরসা রাখা, যাতে আমাদের আত্মবিশ্বাস অটুট থাকে। বিশ্বকাপে আমি সবসময়ই গোল পেয়েছি, তাই এটা নিয়ে আলাদা করে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই।’

ফরাসি তারকা আরও যোগ করেন, ‘সবকিছুর ওপরে আমি দলের উন্নতি চাই, কারণ টুর্নামেন্টের শেষ পর্যন্ত যেতে হলে আমাদের সামনে আরও কঠিন ও তীব্র পরীক্ষা অপেক্ষা করছে।’

ফ্রান্সের জার্সিতে ইতিমধ্যেই ১০০ ম্যাচের মাইলফলক ছোঁয়া এমবাপে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মেসির আগেই মাঠে নামার সুযোগ পাচ্ছেন। এর আগের দুটি ম্যাচেই অবশ্য ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনা একই দিনে মাঠে নেমেছিল।

আগামী শুক্রবার বোস্টনে, বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় ‘আই’ গ্রুপের শীর্ষস্থান নির্ধারণী ম্যাচে নরওয়ের মুখোমুখি হবে ফ্রান্স। অন্যদিকে পরদিন ডালাসে বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায় জর্ডানের বিপক্ষে মাঠে নামবে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ফলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মেসির ওপর গোলসংখ্যায় বাড়তি মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করার প্রথম সুযোগটা কিন্তু এবার এমবাপেরই থাকছে!

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

‘মেসি কী করছে, তা আমি দেখি না’

আপডেট সময় : ০৪:২৪:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

একজনের ক্যারিয়ার সায়াহ্নে দাঁড়িয়ে, আর অন্যজন পা রেখেছেন নিজের ক্যারিয়ারের একেবারে সোনালী সময়ে। তবে সর্বকালের সেরা ফুটবলারকে তো আর বয়স দিয়ে বেঁধে রাখা যায় না। কিলিয়ান এমবাপে সেটা ভালো করেই জানেন। লিওনেল মেসির মতো ‘অতিমানবীয়’ পারফরম্যান্সের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া যে নেহাৎ বোকামি ছাড়া কিছুই নয়, ফরাসি তারকা ফরোয়ার্ড তা নিজের মুখে স্বীকার করতেই যেন বাধ্য হলেন। মেসিকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের প্রাণভোমরা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, আর্জেন্টাইন মহাতারকার কী করছে সেটা দেখে আসলে খুব একটা লাভ নেই।

বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসন নিয়ে অবশ্য মেসির পিছু ছাড়ছেন না এমবাপে। ইরাকের বিপক্ষে ফ্রান্সের ৩-০ ব্যবধানের জয়ে জোড়া গোল করেছেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড, যা বিশ্বমঞ্চে তাঁর মোট গোলসংখ্যাকে নিয়ে গেছে ১৬-তে। এর মাধ্যমে তিনি ছুঁয়ে ফেলেছেন জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসেকে, এই বিশ্বকাপ শুরুর আগপর্যন্ত রেকর্ডটির একক মালিক ছিলেন যিনি।

এর আগে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জয়ের ম্যাচে জোড়া গোল করে জার্মান কিংবদন্তি ক্লোসেকে ছাড়িয়ে যান মেসি, রেকর্ড আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ীর মোট গোলসংখ্যা এখন ১৮।

ঠিক কয়েক ঘণ্টা পরেই মাঠে নামেন ফ্রান্সের ১০ নম্বর জার্সিধারী এমবাপে, এবং তিনিও করেন জোড়া গোল। তবে তাঁর দাবি—আর্জেন্টাইন জাদুকরের সঙ্গে এই দ্বৈরথ নিয়ে তিনি এই মুহূর্তে মোটেও চিন্তিত নন। এমবাপ্পে বলেন, ‘আমি কেবল আমার দলের দিকেই মনোনিবেশ করছি। যখন আপনি গোল করবেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই এই অভিজাত তালিকায় ওপরের দিকে চলে আসবেন। তবে আমি আবারও বলছি: আমার কাছে নিজের দলের উন্নতি ও বিবর্তনটা লক্ষ্য করাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’

তবে ৩৮ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন মহাতারকা মেসির চেয়ে বয়সে অনেক পিছিয়ে থাকলেও, একটা জায়গায় কিন্তু এমবাপ্পের পরিসংখ্যান অবিশ্বাস্য রকমের ভারী; বিশ্বকাপে প্রতি ম্যাচে গড়ে অন্তত একটি করে গোল করার এক দুর্দান্ত রেকর্ড রয়েছে এই ফরাসি তারকার ঝুলিতে।

২০১৮, ২০২২ এবং চলমান ২০২৬—এই তিন বিশ্বকাপ মিলিয়ে ফ্রান্সের ১০ নম্বর জার্সিধারী ম্যাচ খেলেছেন মোটে ১৬টি, আর তাতেই তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬!

একটু তুলনা করলেই বোঝা যাবে এমবাপ্পের এই পরিসংখ্যান কতটা অতিমানবীয়। মিরোস্লাভ ক্লোসের ১৬ গোলের রেকর্ড ছুঁতে রিয়াল মাদ্রিদ স্ট্রাইকারের লেগেছে মাত্র ১৬ ম্যাচ; যেখানে এই রেকর্ড গড়তে লিওনেল মেসির লেগেছে ২৭ ম্যাচ। আর জার্মানির ক্লোসে নিজে যখন ব্রাজিলের ‘ফেনোমেনন’ রোনালদোর তৎকালীন রেকর্ড ভেঙেছিলেন, তখন তাঁর লেগেছিল ২৩ ম্যাচ।

অবশ্য গোলদাতার রেকর্ড নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামাচ্ছেন না এমবাপে। পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, ‘আমি সর্বোচ্চ গোলদাতার খেতাব নিয়ে ভাবছি না। আমার কাছে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো দলের সম্মিলিত শক্তিতে ভরসা রাখা, যাতে আমাদের আত্মবিশ্বাস অটুট থাকে। বিশ্বকাপে আমি সবসময়ই গোল পেয়েছি, তাই এটা নিয়ে আলাদা করে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই।’

ফরাসি তারকা আরও যোগ করেন, ‘সবকিছুর ওপরে আমি দলের উন্নতি চাই, কারণ টুর্নামেন্টের শেষ পর্যন্ত যেতে হলে আমাদের সামনে আরও কঠিন ও তীব্র পরীক্ষা অপেক্ষা করছে।’

ফ্রান্সের জার্সিতে ইতিমধ্যেই ১০০ ম্যাচের মাইলফলক ছোঁয়া এমবাপে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মেসির আগেই মাঠে নামার সুযোগ পাচ্ছেন। এর আগের দুটি ম্যাচেই অবশ্য ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনা একই দিনে মাঠে নেমেছিল।

আগামী শুক্রবার বোস্টনে, বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় ‘আই’ গ্রুপের শীর্ষস্থান নির্ধারণী ম্যাচে নরওয়ের মুখোমুখি হবে ফ্রান্স। অন্যদিকে পরদিন ডালাসে বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায় জর্ডানের বিপক্ষে মাঠে নামবে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ফলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মেসির ওপর গোলসংখ্যায় বাড়তি মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করার প্রথম সুযোগটা কিন্তু এবার এমবাপেরই থাকছে!