ঢাকা ০২:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজের পর আরেক নৌপথেও চাপের ইঙ্গিত দিলো ইরান

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:১৫:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
  • / 66

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত বাধাগ্রস্ত করার পর এবার লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব আল-মান্দেব প্রণালিকেও নতুন চাপের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করার ইঙ্গিত দিচ্ছে ইরান। বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েমেনের হুথি মিত্রদের মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বন্ধের হুমকি দিয়ে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ বাড়াতে চাইছে।

ইরানের ভেতরে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা জোরদার হওয়ার পাশাপাশি হুথিদের হামলাও বেড়েছে। বিশ্লেষকদের ভাষ্য, এর মাধ্যমে উপসাগরীয় অঞ্চলের বাইরে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকেও সংঘাতের আওতায় আনতে চাইছে তেহরান।

হরমুজ প্রণালিতে বিঘ্ন সৃষ্টি করে ইতোমধ্যে নিজেদের কৌশলগত সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে ইরান। এখন লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযুক্ত করা বাব আল-মান্দেব প্রণালিকেও দ্বিতীয় চাপের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তুতির ইঙ্গিত মিলছে।

ইরানের প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার ইয়েমেনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, সৌদি আরব ইয়েমেনে হামলা অব্যাহত রাখলে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দিতে প্রস্তুত। তার দাবি, এমন পরিস্থিতিতে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।

হুথি আন্দোলনের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আল-ফারাহ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে ইয়েমেনে হামলায় উসকানি দিচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব—দুই প্রণালিই সমন্বিতভাবে বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে, যার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধাক্কা লাগবে।

মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক গবেষক ফাওয়াজ গেরগেসের মতে, তেহরান ওয়াশিংটনকে দেখাতে চাইছে যে, তারা একই সঙ্গে বিশ্বের দুটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথকেই ঝুঁকির মুখে ফেলতে সক্ষম। তার ভাষায়, ‘এখন শুধু হরমুজ নয়, বাব আল-মান্দেবও ঝুঁকির মুখে।’

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি সরাসরি সর্বাত্মক যুদ্ধে রূপ না নিলেও ধীরে ধীরে সংঘাতের পরিধি বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আবারও আলোচনার টেবিলে ফিরতে চাপ তৈরি হতে পারে।

২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই হুথিরা লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে আসছে। তাদের দাবি, ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করেই এসব হামলা চালানো হয়। এতে অনেক আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলকারী প্রতিষ্ঠান আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে বিকল্প পথে চলাচল শুরু করে, যা পরিবহন ব্যয় বাড়িয়ে দেয়।

বিশ্লেষকদের মতে, বাব আল-মান্দেবে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও সামুদ্রিক বাণিজ্যের ওপর এর প্রভাব আরও গভীর হতে পারে। সূত্র: রয়টার্স

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

হরমুজের পর আরেক নৌপথেও চাপের ইঙ্গিত দিলো ইরান

আপডেট সময় : ১১:১৫:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত বাধাগ্রস্ত করার পর এবার লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব আল-মান্দেব প্রণালিকেও নতুন চাপের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করার ইঙ্গিত দিচ্ছে ইরান। বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েমেনের হুথি মিত্রদের মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বন্ধের হুমকি দিয়ে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ বাড়াতে চাইছে।

ইরানের ভেতরে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা জোরদার হওয়ার পাশাপাশি হুথিদের হামলাও বেড়েছে। বিশ্লেষকদের ভাষ্য, এর মাধ্যমে উপসাগরীয় অঞ্চলের বাইরে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকেও সংঘাতের আওতায় আনতে চাইছে তেহরান।

হরমুজ প্রণালিতে বিঘ্ন সৃষ্টি করে ইতোমধ্যে নিজেদের কৌশলগত সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে ইরান। এখন লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযুক্ত করা বাব আল-মান্দেব প্রণালিকেও দ্বিতীয় চাপের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তুতির ইঙ্গিত মিলছে।

ইরানের প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার ইয়েমেনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, সৌদি আরব ইয়েমেনে হামলা অব্যাহত রাখলে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দিতে প্রস্তুত। তার দাবি, এমন পরিস্থিতিতে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।

হুথি আন্দোলনের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আল-ফারাহ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে ইয়েমেনে হামলায় উসকানি দিচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব—দুই প্রণালিই সমন্বিতভাবে বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে, যার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধাক্কা লাগবে।

মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক গবেষক ফাওয়াজ গেরগেসের মতে, তেহরান ওয়াশিংটনকে দেখাতে চাইছে যে, তারা একই সঙ্গে বিশ্বের দুটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথকেই ঝুঁকির মুখে ফেলতে সক্ষম। তার ভাষায়, ‘এখন শুধু হরমুজ নয়, বাব আল-মান্দেবও ঝুঁকির মুখে।’

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি সরাসরি সর্বাত্মক যুদ্ধে রূপ না নিলেও ধীরে ধীরে সংঘাতের পরিধি বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আবারও আলোচনার টেবিলে ফিরতে চাপ তৈরি হতে পারে।

২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই হুথিরা লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে আসছে। তাদের দাবি, ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করেই এসব হামলা চালানো হয়। এতে অনেক আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলকারী প্রতিষ্ঠান আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে বিকল্প পথে চলাচল শুরু করে, যা পরিবহন ব্যয় বাড়িয়ে দেয়।

বিশ্লেষকদের মতে, বাব আল-মান্দেবে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও সামুদ্রিক বাণিজ্যের ওপর এর প্রভাব আরও গভীর হতে পারে। সূত্র: রয়টার্স