ঢাকা ১২:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লালমনিরহাটে প্রবীণদের পাশে বসুন্ধরা শুভসংঘ

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:৩৮:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 1

বিশ্ব প্রবীণ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে লালমনিরহাটের আদিতমারীতে প্রবীণদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে তাদের জীবনের নানা অভিজ্ঞতা ও না-বলা গল্প শোনেন বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্যরা। পাশাপাশি দুজন প্রবীণের প্রয়োজনের কথা শুনে তাদের জন্য চশমা ও প্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যবস্থা করা হয়।

আম পাকলে হয় মিঠা, আর বয়স বাড়লে হয় তিতা—কথাটি বলেই কিছুক্ষণ নীরব হয়ে গেলেন এক প্রবীণ। বার্ধক্যে এসে অনেকটা একাকিত্বের মধ্যেই দিন কাটছে তাঁর। সন্তানরা কর্মব্যস্ত থাকায় আগের মতো সময় দিতে পারেন না। তাই কখনো কখনো কথা বলার একজন মানুষই হয়ে ওঠেন সবচেয়ে প্রয়োজনীয়।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সারপুকুর ইউনিয়নের টিপার বাজার গ্রামের সারপুকুর যুব ফোরাম পাঠাগারের হলরুমে এ আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় ২৮ জন প্রবীণ নারী-পুরুষ অংশ নেন। এ সময় তারা শৈশব, সংসারজীবন, সন্তানদের বড় করে তোলা, জীবনের নানা সংগ্রাম ও বার্ধক্যের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। নিজেদের কথা বলতে গিয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

৭৭ বছর বয়সী মোছা. জামেলা খাতুন জানান, চোখের সমস্যার কারণে তাঁর একটি পাওয়ারের চশমা প্রয়োজন ছিল। আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় এতদিন তা নিতে পারেননি। তাঁর জন্য একটি চশমার ব্যবস্থা করে দেয় বসুন্ধরা শুভসংঘ আদিতমারী উপজেলা কমিটি। এছাড়া ৮০ বছর বয়সী রাহেলা খাতুনের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যবস্থা করা হয়।

আয়োজকরা বলেন, প্রবীণদের পাশে দাঁড়ানো মানে শুধু আর্থিক সহায়তা দেওয়া নয়; তাদের কথা শোনা, সময় দেওয়া এবং জীবনের অভিজ্ঞতার প্রতি সম্মান দেখানোও দায়িত্বের অংশ। পরিবার ও সমাজে প্রবীণরা যেন একাকিত্ব বা অবহেলার শিকার না হন, সেদিকে সবাইকে আরও যত্নশীল হতে হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ লালমনিরহাট জেলা কমিটির সভাপতি মো. জামাল হোসেন, আদিতমারী উপজেলা কমিটির সভাপতি জান্নাতি খাতুন, সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান, প্রচার সম্পাদক ভক্ত কুমার রায়, সদস্য সুশান্ত কুমার রায়, নিমাই রায়, মামুন মিয়া, পবিত্র কুমার রায় ও কনক রায়সহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

লালমনিরহাটে প্রবীণদের পাশে বসুন্ধরা শুভসংঘ

আপডেট সময় : ১১:৩৮:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশ্ব প্রবীণ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে লালমনিরহাটের আদিতমারীতে প্রবীণদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে তাদের জীবনের নানা অভিজ্ঞতা ও না-বলা গল্প শোনেন বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্যরা। পাশাপাশি দুজন প্রবীণের প্রয়োজনের কথা শুনে তাদের জন্য চশমা ও প্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যবস্থা করা হয়।

আম পাকলে হয় মিঠা, আর বয়স বাড়লে হয় তিতা—কথাটি বলেই কিছুক্ষণ নীরব হয়ে গেলেন এক প্রবীণ। বার্ধক্যে এসে অনেকটা একাকিত্বের মধ্যেই দিন কাটছে তাঁর। সন্তানরা কর্মব্যস্ত থাকায় আগের মতো সময় দিতে পারেন না। তাই কখনো কখনো কথা বলার একজন মানুষই হয়ে ওঠেন সবচেয়ে প্রয়োজনীয়।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সারপুকুর ইউনিয়নের টিপার বাজার গ্রামের সারপুকুর যুব ফোরাম পাঠাগারের হলরুমে এ আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় ২৮ জন প্রবীণ নারী-পুরুষ অংশ নেন। এ সময় তারা শৈশব, সংসারজীবন, সন্তানদের বড় করে তোলা, জীবনের নানা সংগ্রাম ও বার্ধক্যের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। নিজেদের কথা বলতে গিয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

৭৭ বছর বয়সী মোছা. জামেলা খাতুন জানান, চোখের সমস্যার কারণে তাঁর একটি পাওয়ারের চশমা প্রয়োজন ছিল। আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় এতদিন তা নিতে পারেননি। তাঁর জন্য একটি চশমার ব্যবস্থা করে দেয় বসুন্ধরা শুভসংঘ আদিতমারী উপজেলা কমিটি। এছাড়া ৮০ বছর বয়সী রাহেলা খাতুনের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যবস্থা করা হয়।

আয়োজকরা বলেন, প্রবীণদের পাশে দাঁড়ানো মানে শুধু আর্থিক সহায়তা দেওয়া নয়; তাদের কথা শোনা, সময় দেওয়া এবং জীবনের অভিজ্ঞতার প্রতি সম্মান দেখানোও দায়িত্বের অংশ। পরিবার ও সমাজে প্রবীণরা যেন একাকিত্ব বা অবহেলার শিকার না হন, সেদিকে সবাইকে আরও যত্নশীল হতে হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ লালমনিরহাট জেলা কমিটির সভাপতি মো. জামাল হোসেন, আদিতমারী উপজেলা কমিটির সভাপতি জান্নাতি খাতুন, সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান, প্রচার সম্পাদক ভক্ত কুমার রায়, সদস্য সুশান্ত কুমার রায়, নিমাই রায়, মামুন মিয়া, পবিত্র কুমার রায় ও কনক রায়সহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।