ঢাকা ১২:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বৈরাচার এবং গুপ্ত রাজনীতি করা পক্ষ একসঙ্গে হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:৩৪:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
  • / 1

স্বৈরাচার ও গুপ্ত রাজনীতি করা একটি পক্ষ আবারও একসঙ্গে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, অতীতেও বিভিন্ন সময়ে তাদের মধ্যে একসঙ্গে কাজ করার নজির ছিল।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে ফেনীর ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার কয়েকদিন পর গুপ্ত বাহিনীর লোকজন তাদের ফিরে আসা বা কাজ করার বিষয়ে আপত্তি না থাকার কথা বলেছিল। অতীতের বিভিন্ন সময়েও তারা একসঙ্গে ছিল বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি বলেন, ১৯৯১ ও ১৯৮৬ সালসহ গত নির্বাচনেও তারা একসঙ্গে কাজ করেছে। এ কারণে তাদের গুপ্ত বলা হয় বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

গত ১৭ বছরে বিএনপির নেতাকর্মীরা নির্যাতন, জেল-জুলুম, হত্যা ও গায়েবি মামলার শিকার হয়েছেন দাবি করে তারেক রহমান বলেন, ওই সময় যারা হরতাল, মিছিল-মিটিং ও আন্দোলন করেছিলেন, তাদের মধ্যে অনেককে রাজপথে দেখা যায়নি।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের কিছু মানুষ অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে। এক দফার কথা বলা হলেও তাদের কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ ও খেটে খাওয়া মানুষের কী উপকার হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা দেশ থেকে পালিয়ে গেছে এবং যাদের বিরুদ্ধে মানুষ আন্দোলন করেছিল, তাদের কি ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানি কিংবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যা বাড়ানোর মতো কোনো কর্মসূচি আছে? জনগণের জন্য তাদের কর্মসূচি কোথায়, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, দেশের মানুষ এখন ভাগ্যের পরিবর্তন চায়। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে মা-বোনদের সহযোগিতা, ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ ধর্মীয় ব্যক্তিদের জন্য সহযোগিতা এবং কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের সহায়তা পৌঁছে দেওয়া গেলে ধীরে ধীরে মানুষের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন হবে।

তিনি বলেন, বিএনপি ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানি, কৃষক কার্ড, খাল খনন এবং বন্ধ মিল-কারখানা চালুর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চায়। অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচির সঙ্গে এসব পরিকল্পনা তুলনা করে দেখার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যারা গুপ্ত ও স্বৈরাচারী রাজনীতি করে এবং জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি নেই, তাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে।

নির্বাচনের আগে একটি রাজনৈতিক দল বেহেশতের টিকিট বিক্রির কথা বলেছিল উল্লেখ করে তিনি এর সমালোচনা করেন। বেহেশত-দোজখের মালিকানা একমাত্র আল্লাহর উল্লেখ করে এ ধরনের বক্তব্যের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সরকার জনগণের জন্য কাজ করে—এটি বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রমাণ করেছে। বিএনপি ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এর আগে সভার শুরুতে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানি প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।

সভা শেষে ফুলগাজীর জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি।

এদিন দুপুর আড়াইটার দিকে ফেনী সফরের অংশ হিসেবে প্রথমে পরশুরামে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের উদ্বোধন ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে ফুলগাজীর বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

স্বৈরাচার এবং গুপ্ত রাজনীতি করা পক্ষ একসঙ্গে হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ১১:৩৪:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

স্বৈরাচার ও গুপ্ত রাজনীতি করা একটি পক্ষ আবারও একসঙ্গে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, অতীতেও বিভিন্ন সময়ে তাদের মধ্যে একসঙ্গে কাজ করার নজির ছিল।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে ফেনীর ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার কয়েকদিন পর গুপ্ত বাহিনীর লোকজন তাদের ফিরে আসা বা কাজ করার বিষয়ে আপত্তি না থাকার কথা বলেছিল। অতীতের বিভিন্ন সময়েও তারা একসঙ্গে ছিল বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি বলেন, ১৯৯১ ও ১৯৮৬ সালসহ গত নির্বাচনেও তারা একসঙ্গে কাজ করেছে। এ কারণে তাদের গুপ্ত বলা হয় বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

গত ১৭ বছরে বিএনপির নেতাকর্মীরা নির্যাতন, জেল-জুলুম, হত্যা ও গায়েবি মামলার শিকার হয়েছেন দাবি করে তারেক রহমান বলেন, ওই সময় যারা হরতাল, মিছিল-মিটিং ও আন্দোলন করেছিলেন, তাদের মধ্যে অনেককে রাজপথে দেখা যায়নি।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের কিছু মানুষ অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে। এক দফার কথা বলা হলেও তাদের কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ ও খেটে খাওয়া মানুষের কী উপকার হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা দেশ থেকে পালিয়ে গেছে এবং যাদের বিরুদ্ধে মানুষ আন্দোলন করেছিল, তাদের কি ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানি কিংবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যা বাড়ানোর মতো কোনো কর্মসূচি আছে? জনগণের জন্য তাদের কর্মসূচি কোথায়, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, দেশের মানুষ এখন ভাগ্যের পরিবর্তন চায়। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে মা-বোনদের সহযোগিতা, ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ ধর্মীয় ব্যক্তিদের জন্য সহযোগিতা এবং কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের সহায়তা পৌঁছে দেওয়া গেলে ধীরে ধীরে মানুষের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন হবে।

তিনি বলেন, বিএনপি ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানি, কৃষক কার্ড, খাল খনন এবং বন্ধ মিল-কারখানা চালুর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চায়। অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচির সঙ্গে এসব পরিকল্পনা তুলনা করে দেখার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যারা গুপ্ত ও স্বৈরাচারী রাজনীতি করে এবং জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি নেই, তাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে।

নির্বাচনের আগে একটি রাজনৈতিক দল বেহেশতের টিকিট বিক্রির কথা বলেছিল উল্লেখ করে তিনি এর সমালোচনা করেন। বেহেশত-দোজখের মালিকানা একমাত্র আল্লাহর উল্লেখ করে এ ধরনের বক্তব্যের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সরকার জনগণের জন্য কাজ করে—এটি বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রমাণ করেছে। বিএনপি ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এর আগে সভার শুরুতে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানি প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।

সভা শেষে ফুলগাজীর জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি।

এদিন দুপুর আড়াইটার দিকে ফেনী সফরের অংশ হিসেবে প্রথমে পরশুরামে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের উদ্বোধন ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে ফুলগাজীর বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।