ঢাকা ১১:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সে ফার্স্টক্লাস ফার্স্ট রুমা এখন বৃদ্ধাশ্রমে

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:৩১:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
  • / 1

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স পরীক্ষায় ফার্স্টক্লাস ফার্স্ট হওয়া রুমা বেগমের জীবনের গল্প এখন নতুন করে সামনে এসেছে। একসময় শিক্ষাজীবনের অসাধারণ সাফল্যে যিনি ছিলেন আলোচিত, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তাঁর দিন কাটছে বরিশাল নগরীর কাউনিয়া এলাকার একটি বৃদ্ধাশ্রমে। বিষয়টি নিয়ে ১ অক্টোবর ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁর বর্তমান জীবনের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই বৃদ্ধাশ্রমে বর্তমানে প্রায় ৭০ জন প্রবীণ নারী-পুরুষ বসবাস করছেন। তাঁদের একজন রুমা বেগম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সে ফার্স্টক্লাস ফার্স্ট হওয়া রুমা একসময় মেধা, শিক্ষা ও ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু বয়সের শেষ পর্যায়ে এসে তাঁর ঠিকানা হয়েছে স্বজনহীন এই আশ্রয়কেন্দ্র।

বৃদ্ধাশ্রমে রুমার দিন কাটে অনেকটা নীরবে। সেখানে থাকা অন্যদের সঙ্গে কথা বলেন, মিশতে চেষ্টা করেন। তবে অতীতের কথা উঠলে তাঁর মধ্যে নীরবতা নেমে আসে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একসময় শিক্ষাজীবনের সাফল্য ছিল তাঁর পরিচয়ের বড় অংশ, আর এখন জীবনের বড় শূন্যতা হয়ে দাঁড়িয়েছে আপনজনের সঙ্গের অভাব।

রুমার মতো ওই বৃদ্ধাশ্রমে থাকা অন্য প্রবীণদের জীবনেও রয়েছে বিচ্ছিন্নতা ও একাকিত্বের নানা গল্প। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আসমা, খাদেজা, অঞ্জলী, উষা রানী, বানু ও কহিনূর বেগম। কারও সন্তান ও পরিবারের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, আবার কেউ দীর্ঘদিনের পারিবারিক জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে শেষ বয়সে বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রয় নিয়েছেন।

প্রতিবেদনে অঞ্জলী রানীর কথাও উঠে এসেছে। তাঁর চাওয়া খুব বেশি নয়। শেষ বয়সে সন্তানরা কাছে এসে কিছুক্ষণ বসুক, তাঁর সঙ্গে দুটো কথা বলুক—এটুকুই তাঁর প্রত্যাশা। সারাজীবন পরিবারের জন্য কাজ করার পর শেষ সময়ে আপনজনের সামান্য সময় ও সঙ্গকেই তিনি সবচেয়ে মূল্যবান মনে করছেন।

বৃদ্ধাশ্রমটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক সাখাওয়াত জানান, সেখানে থাকা প্রায় ৭০ জন প্রবীণ মানুষের প্রত্যেকের জীবনেই রয়েছে আলাদা কষ্টের গল্প। কেউ সন্তানদের অবহেলার কারণে এখানে এসেছেন, আবার কেউ পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। তাঁদের অনেকেই এখনো স্বজনদের ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন।

রুমা বেগমের জীবন তাই একদিকে শিক্ষাজীবনের সাফল্যের গল্প, অন্যদিকে বার্ধক্যের নিঃসঙ্গতার বাস্তব চিত্র। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো দেশের অন্যতম প্রধান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাস্টার্সে ফার্স্টক্লাস ফার্স্ট হওয়ার অর্জন তাঁর জীবনের উজ্জ্বল অধ্যায় হলেও শেষ বয়সে এসে সেই সাফল্যের চেয়ে আপন মানুষের সঙ্গের প্রয়োজনই যেন বড় হয়ে উঠেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সে ফার্স্টক্লাস ফার্স্ট রুমা এখন বৃদ্ধাশ্রমে

আপডেট সময় : ১০:৩১:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স পরীক্ষায় ফার্স্টক্লাস ফার্স্ট হওয়া রুমা বেগমের জীবনের গল্প এখন নতুন করে সামনে এসেছে। একসময় শিক্ষাজীবনের অসাধারণ সাফল্যে যিনি ছিলেন আলোচিত, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তাঁর দিন কাটছে বরিশাল নগরীর কাউনিয়া এলাকার একটি বৃদ্ধাশ্রমে। বিষয়টি নিয়ে ১ অক্টোবর ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁর বর্তমান জীবনের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই বৃদ্ধাশ্রমে বর্তমানে প্রায় ৭০ জন প্রবীণ নারী-পুরুষ বসবাস করছেন। তাঁদের একজন রুমা বেগম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সে ফার্স্টক্লাস ফার্স্ট হওয়া রুমা একসময় মেধা, শিক্ষা ও ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু বয়সের শেষ পর্যায়ে এসে তাঁর ঠিকানা হয়েছে স্বজনহীন এই আশ্রয়কেন্দ্র।

বৃদ্ধাশ্রমে রুমার দিন কাটে অনেকটা নীরবে। সেখানে থাকা অন্যদের সঙ্গে কথা বলেন, মিশতে চেষ্টা করেন। তবে অতীতের কথা উঠলে তাঁর মধ্যে নীরবতা নেমে আসে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একসময় শিক্ষাজীবনের সাফল্য ছিল তাঁর পরিচয়ের বড় অংশ, আর এখন জীবনের বড় শূন্যতা হয়ে দাঁড়িয়েছে আপনজনের সঙ্গের অভাব।

রুমার মতো ওই বৃদ্ধাশ্রমে থাকা অন্য প্রবীণদের জীবনেও রয়েছে বিচ্ছিন্নতা ও একাকিত্বের নানা গল্প। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আসমা, খাদেজা, অঞ্জলী, উষা রানী, বানু ও কহিনূর বেগম। কারও সন্তান ও পরিবারের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, আবার কেউ দীর্ঘদিনের পারিবারিক জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে শেষ বয়সে বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রয় নিয়েছেন।

প্রতিবেদনে অঞ্জলী রানীর কথাও উঠে এসেছে। তাঁর চাওয়া খুব বেশি নয়। শেষ বয়সে সন্তানরা কাছে এসে কিছুক্ষণ বসুক, তাঁর সঙ্গে দুটো কথা বলুক—এটুকুই তাঁর প্রত্যাশা। সারাজীবন পরিবারের জন্য কাজ করার পর শেষ সময়ে আপনজনের সামান্য সময় ও সঙ্গকেই তিনি সবচেয়ে মূল্যবান মনে করছেন।

বৃদ্ধাশ্রমটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক সাখাওয়াত জানান, সেখানে থাকা প্রায় ৭০ জন প্রবীণ মানুষের প্রত্যেকের জীবনেই রয়েছে আলাদা কষ্টের গল্প। কেউ সন্তানদের অবহেলার কারণে এখানে এসেছেন, আবার কেউ পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। তাঁদের অনেকেই এখনো স্বজনদের ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন।

রুমা বেগমের জীবন তাই একদিকে শিক্ষাজীবনের সাফল্যের গল্প, অন্যদিকে বার্ধক্যের নিঃসঙ্গতার বাস্তব চিত্র। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো দেশের অন্যতম প্রধান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাস্টার্সে ফার্স্টক্লাস ফার্স্ট হওয়ার অর্জন তাঁর জীবনের উজ্জ্বল অধ্যায় হলেও শেষ বয়সে এসে সেই সাফল্যের চেয়ে আপন মানুষের সঙ্গের প্রয়োজনই যেন বড় হয়ে উঠেছে।