স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে যেসব অভিযোগ তুললেন হাসনাত আব্দুল্লাহ

- আপডেট সময় : ১০:৫৯:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
- / 1
বিএনপি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ ও প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব অভিযোগ ও প্রশ্ন তোলেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহর পোস্ট অনুযায়ী, সালাহউদ্দিন আহমদ প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে এক কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় একটি দুর্নীতি মামলায় সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিলেন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মীর আকতার হোসেন লিমিটেডের মালিক মীর জহির হোসেনের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন ২০০৭ সালের মে মাসে ধানমন্ডি থানায় মামলাটি করে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
হাসনাতের দাবি, ওই মামলায় সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি এক কোটি টাকা জরিমানা এবং জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে ঘুষের এক কোটি টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি পোস্টে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও দাবি করেন, ২০০৮ সালে অবৈধভাবে চার কোটি টাকার সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে সালাহউদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে করা আরেকটি দুর্নীতি মামলায় ১৩ বছরের সাজা হয়েছিল। এ ছাড়া চকরিয়ায় মাছের ঘের দখলের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলা ছিল বলে পোস্টে উল্লেখ করেন হাসনাত।
হাসনাতের ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে এসব মামলার কয়েকটি থেকে সালাহউদ্দিন আহমদ খালাস পান। তিনি আরও দাবি করেন, বিএনপির কয়েকজন বর্তমান মন্ত্রীও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে দুর্নীতির মামলায় খালাস পেয়েছেন এবং তাঁরা এসব মামলাকে রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা হিসেবে দাবি করেছিলেন।
বর্তমান সরকারের সময়ে দুর্নীতির অভিযোগ ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলার পর কারও ব্যাংক হিসাব তলব করা হলে তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। একই সঙ্গে তিনি রাষ্ট্রীয় স্বচ্ছতার স্বার্থে এমপি-মন্ত্রীদের ব্যাংক হিসাব তলবের দাবি জানান।
সালাহউদ্দিন আহমদের সম্পদের পরিমাণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন হাসনাত। তাঁর পোস্টে বলা হয়, প্রায় ২০ বছর আগে গুলশানের প্লাটিনাম রেসিডেন্সে একটি অ্যাপার্টমেন্টের মালিক হন সালাহউদ্দিন আহমদ। গুলশানে তাঁর একাধিক বাড়ি ও সম্পদ রয়েছে বলেও আলোচনার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
হাসনাতের পোস্টে নির্বাচনী হলফনামার তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়, ২০০৮ সালে সালাহউদ্দিন আহমদ ও তাঁর স্ত্রী হাসিনা আহমদের মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ৬ দশমিক ৩ কোটি টাকা। ২০১৮ সালে তা বেড়ে ১২ দশমিক ৭ কোটি এবং ২০২৫ সালে ৩০ কোটি টাকায় দাঁড়ায় বলে দাবি করেন তিনি।
এসব সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলে হাসনাত বলেন, সালাহউদ্দিন আহমদ ১৯৮৫ ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা ছিলেন। ১৯৯৬ সালে রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার আগে তিনি সরকারি চাকরিতে ছিলেন। চাকরি ছাড়ার সময় তাঁর মাসিক বেতন-ভাতা প্রায় ছয় হাজার টাকা ছিল বলে উল্লেখ করে গুলশানে তাঁর সম্পদ অর্জনের উৎস সম্পর্কে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দাবি করেন তিনি।
হাসনাত আরও প্রশ্ন তোলেন, ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত বিএনপি বিরোধী দলে থাকা এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় সালাহউদ্দিন আহমদ কীভাবে ব্যবসা ও সম্পদ গড়ে তুলেছিলেন। তবে এসব প্রশ্নের পক্ষে তিনি যে তথ্য উপস্থাপন করেছেন, সেগুলোর স্বতন্ত্র যাচাই তাঁর পোস্টে নেই।
সালাহউদ্দিন আহমদের সন্তানদের বিদেশে উচ্চশিক্ষার ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন হাসনাত। তিনি জানতে চান, বিদেশে তাঁদের পড়াশোনার পেছনে ব্যয় হওয়া অর্থের উৎস কী এবং ওই অর্থ কীভাবে বৈধভাবে বিদেশে পাঠানো হয়েছে।
পাশাপাশি একজন সরকারি কর্মকর্তা থেকে সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী হওয়া পর্যন্ত সালাহউদ্দিন আহমদের ঘোষিত আয়, সম্পদ বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের মধ্যে কোনো অসামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা জনস্বার্থে খতিয়ে দেখার দাবি জানান তিনি।
পোস্টের শেষ দিকে হাসনাত আব্দুল্লাহ রাষ্ট্রীয় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এমপি-মন্ত্রীদের পাশাপাশি তাঁদের নিকটাত্মীয় ও আত্মীয়স্বজনের ব্যাংক হিসাবও নিয়মিত তলবের দাবি জানান। তিনি নিজের ক্ষেত্রেও এমন প্রক্রিয়া শুরু করার আহ্বান জানান।






















