বাণিজ্য-বিনিয়োগ ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে একমত বাংলাদেশ-দ. কোরিয়া

- আপডেট সময় : ১০:৪৯:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
- / 1
বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়া রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতাসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করতে সম্মত হয়েছে। এ লক্ষ্যে দু’দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
সিউলে দক্ষিণ কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রথম উপমন্ত্রী পার্ক ইউন-জু এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপমন্ত্রী লি ডু-হির সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। এসব বৈঠকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দু’দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রথম উপমন্ত্রী পার্ক ইউন-জুর সঙ্গে বৈঠকে হুমায়ুন কবির দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ বাংলাদেশ-দক্ষিণ কোরিয়া সম্পর্ককে আরও গভীর ও বিস্তৃত করার লক্ষ্যে কোরীয় সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার বিষয়ে বাংলাদেশের প্রস্তুতির কথা জানান।
এ সময় তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউংয়ের কাছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে একটি আমন্ত্রণপত্র হস্তান্তর করেন। আমন্ত্রণপত্রে সুবিধাজনক সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিশ্ব অর্থনীতি ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়ার অভাবনীয় অগ্রগতির প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, দক্ষিণ কোরিয়ার উন্নয়নের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশকে প্রতিনিয়ত অনুপ্রাণিত করছে। একই সঙ্গে নিয়মিত পররাষ্ট্র বিষয়ক পরামর্শ সভা বা ফরেন অফিস কনসালটেশন এবং অন্যান্য উচ্চপর্যায়ের বিনিময়ের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট বা CEPA স্বাক্ষরের পথে অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়ে চুক্তিটি দ্রুত স্বাক্ষরের আশা প্রকাশ করেন তিনি।
দু’দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্ব দেন হুমায়ুন কবির। বাংলাদেশি পণ্যের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে অধিকতর সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর, ইলেকট্রনিক্স, জাহাজ নির্মাণ, হালকা প্রকৌশল, উচ্চমানের তৈরি পোশাক, তথ্যপ্রযুক্তি ও অন্যান্য প্রযুক্তিনির্ভর খাতে কোরিয়ান বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
এ ছাড়া কৃষি, কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ, লজিস্টিকস, ডিজিটাল রূপান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সেবা খাতেও সহযোগিতার সুযোগের বিষয়টি তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। এমপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেমের আওতায় দক্ষ ও আধা-দক্ষ বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আরও বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে দক্ষিণ কোরিয়ার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
বৈঠকে রোহিঙ্গাদের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার মানবিক সহায়তারও প্রশংসা করেন হুমায়ুন কবির। রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসনের বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার অব্যাহত সমর্থন প্রত্যাশা করেন তিনি।
অন্যদিকে, জাতীয় প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপমন্ত্রী লি ডু-হির সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম এবং প্রতিরক্ষা শিল্প-সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে দুই পক্ষ আলোচনা করে।
বৈঠকে হুমায়ুন কবির কোরীয় পক্ষকে জানান, বাংলাদেশ একটি প্রতিরক্ষা শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। প্রযুক্তি ও শিল্প-সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি উভয় দেশের পারস্পরিক অর্থনৈতিক সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ওই উদ্যোগে বিনিয়োগের সুযোগ খতিয়ে দেখার জন্য কোরীয় পক্ষকে আহ্বান জানান তিনি।
দুই বৈঠকেই আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় হয়। একই সঙ্গে বহুপাক্ষিক ফোরামগুলোতে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদারের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করা হয়। এসব আলোচনার মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক, প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা খাতে দু’দেশের বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে উভয় পক্ষের আগ্রহের বিষয়টি উঠে আসে।

























