ঢাকা ১১:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় স্বপ্ন বোনার সূচনা

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:৩৮:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
  • / 4

মরিয়ম আক্তার রিয়ার স্বপ্ন নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া আর পরিবারের পাশে দাঁড়ানো। গৌরীপুরের স্থানীয় একটি মাদরাসায় আলিম পড়ছেন তিনি। বাবা কৃষক, মা গৃহিণী। কৃষিকাজের সীমিত আয়ে সংসারের খরচ চালানোই খুব কঠিন।

এজন্যই নিজের পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবারের জন্য কিছু করার ইচ্ছাটা আরও বড় হয়ে ওঠে রিয়ার। তার সেই ইচ্ছা পূরণের পথ দেখিয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। তিন মাস সেলাই প্রশিক্ষণ শেষে রিয়ার হাতে বসুন্ধরা গ্রুপের উপহার হিসেবে তুলে দেওয়া হয়েছে একটি সেলাই মেশিন। এই মেশিনটিই এখন তার নিজের পায়ে দাঁড়ানোর নতুন সুযোগ।

পড়াশোনার পাশাপাশি সেলাইয়ের কাজ করে আয় করতে পারবেন তিনি, ভাগ করে নিতে পারবেন পরিবারের দায়িত্ব। এই মেশিনটিই হয়তো একদিন তার স্বপ্ন আরও বড় করে তুলবে। অন্যদিকে কাকলী রানি দাসের সংগ্রামের অধ্যায় আরও দীর্ঘ। মা-বাবা নেই। পাঁচ ভাই-বোনের সংসারে একজন ছাড়া সবাই বেকার। অভাবের সঙ্গে প্রতিদিনের লড়াইয়ে বসুন্ধরার দেওয়া একটি সেলাই মেশিন হয়ে উঠেছে তার ভরসা। ঘরে বসেই কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে, আসবে কিছু আয়। পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে সেই আয় হয়ে উঠবে বড় সহায়।

মরিয়ম ও কাকলীর গল্প আলাদা, কিন্তু স্বপ্নটা একই অভাবের কাছে হার না মানা, নিজের হাতে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা। আর তাদের সেই স্বপ্ন বোনার সূচনায় বসুন্ধরা গ্রুপের উপহারের সেলাই মেশিন হয়ে উঠেছে নতুন আস্থার প্রতীক।

সম্প্রতি গৌরীপুর প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে জীবনযুদ্ধে হার না-মানা এমনই ২০ জন অসচ্ছল নারীর হাতে সেলাই মেশিন ও একটি করে গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়। সেলিম আল রাজের সঞ্চালনায় ও শংকর ঘোষ পিলুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন নন্দিত কথাসাহিত্যিক, বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ও শুভসংঘ প্রধান ইমদাদুল হক মিলন।

আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গৌরীপুর সার্কেল) দেবাশীষ কর্মকার, গৌরীপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ড. মো. হারুনুর রশিদ, গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ হাবিবুর রহমান, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আলী আকবর আনিছ, গৌরীপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি বেগ ফারুক আহম্মদ, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি কাজী আব্দুল্লাহ আল আমান, সাবেক আহ্বায়ক রইছ উদ্দিন, নান্দাইলের অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা কামরুল হাসান কামু, গৌরীপুর লেখক সংঘের সাধারণ সম্পাদক পলাশ আজহার প্রমুখ।

হাবিবুর রহমান বলেন, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়ার এই উদ্যোগ খুবই সময়োপযোগী। একটি সেলাই মেশিন হবে একজন নারীর আত্মনির্ভরতার হাতিয়ার। এর মাধ্যমে তারা ঘরে বসেই আয় করতে পারবেন এবং পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন। নারীদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে এমন উদ্যোগ সমাজের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

দেবাশীষ কর্মকার বলেন, অসচ্ছল নারীদের হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়ার উদ্যোগটি অত্যন্ত মহৎ ও প্রশংসনীয়। এই সেলাই মেশিনটি শুধু একটি যন্ত্র নয়, একজন নারীর জন্য নিজের পায়ে দাঁড়ানোর, পরিবারের পাশে থাকার এবং ভবিষ্যেতে নতুনভাবে গড়ে তোলার সুযোগ। প্রশিক্ষণের পর তাদের হাতে মেশিন তুলে দেওয়া হয়েছে, এটি অনন্য এবং এই উদ্যোগকে আরও অর্থবহ করেছে।

ইমদাদুল হক মিলন বলেন, দারিদ্র্য পরিবারের নারীদের স্বাবলম্বী করতে তাদের হাতে শুধু একটি সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া নয়, এর মাধ্যমে তাদের নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ পেলে একজন নারী নিজের পরিবারের জন্য যেমন আয় করতে পারেন, তেমনি সমাজ ও দেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন। বসুন্ধরা শুভসংঘ মানবিকতার শিক্ষা দেয়, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা দেয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় স্বপ্ন বোনার সূচনা

আপডেট সময় : ১০:৩৮:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

মরিয়ম আক্তার রিয়ার স্বপ্ন নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া আর পরিবারের পাশে দাঁড়ানো। গৌরীপুরের স্থানীয় একটি মাদরাসায় আলিম পড়ছেন তিনি। বাবা কৃষক, মা গৃহিণী। কৃষিকাজের সীমিত আয়ে সংসারের খরচ চালানোই খুব কঠিন।

এজন্যই নিজের পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবারের জন্য কিছু করার ইচ্ছাটা আরও বড় হয়ে ওঠে রিয়ার। তার সেই ইচ্ছা পূরণের পথ দেখিয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। তিন মাস সেলাই প্রশিক্ষণ শেষে রিয়ার হাতে বসুন্ধরা গ্রুপের উপহার হিসেবে তুলে দেওয়া হয়েছে একটি সেলাই মেশিন। এই মেশিনটিই এখন তার নিজের পায়ে দাঁড়ানোর নতুন সুযোগ।

পড়াশোনার পাশাপাশি সেলাইয়ের কাজ করে আয় করতে পারবেন তিনি, ভাগ করে নিতে পারবেন পরিবারের দায়িত্ব। এই মেশিনটিই হয়তো একদিন তার স্বপ্ন আরও বড় করে তুলবে। অন্যদিকে কাকলী রানি দাসের সংগ্রামের অধ্যায় আরও দীর্ঘ। মা-বাবা নেই। পাঁচ ভাই-বোনের সংসারে একজন ছাড়া সবাই বেকার। অভাবের সঙ্গে প্রতিদিনের লড়াইয়ে বসুন্ধরার দেওয়া একটি সেলাই মেশিন হয়ে উঠেছে তার ভরসা। ঘরে বসেই কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে, আসবে কিছু আয়। পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে সেই আয় হয়ে উঠবে বড় সহায়।

মরিয়ম ও কাকলীর গল্প আলাদা, কিন্তু স্বপ্নটা একই অভাবের কাছে হার না মানা, নিজের হাতে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা। আর তাদের সেই স্বপ্ন বোনার সূচনায় বসুন্ধরা গ্রুপের উপহারের সেলাই মেশিন হয়ে উঠেছে নতুন আস্থার প্রতীক।

সম্প্রতি গৌরীপুর প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে জীবনযুদ্ধে হার না-মানা এমনই ২০ জন অসচ্ছল নারীর হাতে সেলাই মেশিন ও একটি করে গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়। সেলিম আল রাজের সঞ্চালনায় ও শংকর ঘোষ পিলুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন নন্দিত কথাসাহিত্যিক, বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ও শুভসংঘ প্রধান ইমদাদুল হক মিলন।

আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গৌরীপুর সার্কেল) দেবাশীষ কর্মকার, গৌরীপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ড. মো. হারুনুর রশিদ, গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ হাবিবুর রহমান, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আলী আকবর আনিছ, গৌরীপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি বেগ ফারুক আহম্মদ, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি কাজী আব্দুল্লাহ আল আমান, সাবেক আহ্বায়ক রইছ উদ্দিন, নান্দাইলের অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা কামরুল হাসান কামু, গৌরীপুর লেখক সংঘের সাধারণ সম্পাদক পলাশ আজহার প্রমুখ।

হাবিবুর রহমান বলেন, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়ার এই উদ্যোগ খুবই সময়োপযোগী। একটি সেলাই মেশিন হবে একজন নারীর আত্মনির্ভরতার হাতিয়ার। এর মাধ্যমে তারা ঘরে বসেই আয় করতে পারবেন এবং পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন। নারীদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে এমন উদ্যোগ সমাজের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

দেবাশীষ কর্মকার বলেন, অসচ্ছল নারীদের হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়ার উদ্যোগটি অত্যন্ত মহৎ ও প্রশংসনীয়। এই সেলাই মেশিনটি শুধু একটি যন্ত্র নয়, একজন নারীর জন্য নিজের পায়ে দাঁড়ানোর, পরিবারের পাশে থাকার এবং ভবিষ্যেতে নতুনভাবে গড়ে তোলার সুযোগ। প্রশিক্ষণের পর তাদের হাতে মেশিন তুলে দেওয়া হয়েছে, এটি অনন্য এবং এই উদ্যোগকে আরও অর্থবহ করেছে।

ইমদাদুল হক মিলন বলেন, দারিদ্র্য পরিবারের নারীদের স্বাবলম্বী করতে তাদের হাতে শুধু একটি সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া নয়, এর মাধ্যমে তাদের নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ পেলে একজন নারী নিজের পরিবারের জন্য যেমন আয় করতে পারেন, তেমনি সমাজ ও দেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন। বসুন্ধরা শুভসংঘ মানবিকতার শিক্ষা দেয়, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা দেয়।