ঢাকা ০২:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পরিকল্পিত নগরায়ণে মাস্টারপ্ল্যানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:৪৬:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / 1

পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিতে দেশের সব জেলা ও সিটি করপোরেশনে মাস্টারপ্ল্যানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমনটা জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের শহর-বন্দর নগরে প্রতিনিয়ত মানুষের বসতি ও বসবাস বেড়েই চলছে। অস্বীকার করার উপায় নেই, বর্তমানে রাজধানী ঢাকা ওভার পপুলেটেড। দেশের অন্যান্য শহরগুলোতেও প্রায় একই অবস্থা। শহরাঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়েও কয়েকগুণ বেশি মানুষের বসবাস। এমন বাস্তবতায় ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’— এই ধারণাটি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। শহরগুলোতে সব মানুষের জন্য নিরাপদ, মানসম্মত, সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও সুপরিকল্পিত নগর গড়ে তোলা জরুরি।

তবে এই বিষয়গুলো বলা যতটা সহজ, দেশের বিদ্যমান বাস্তবতায় এর বাস্তবায়ন ততটাই কঠিন উল্লেখ করে তিনি বলেন, সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সবার জন্য বাসযোগ্য, সাশ্রয়ী, পরিবেশসম্মত, নিরাপদ, মৌলিক সেবা-পরিষেবা সম্বলিত বাসস্থান তথা সর্বজনীন আবাসন নাগরিকদের মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার। এই অধিকার নিশ্চিত ও নিরাপদ করতে বর্তমান সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

সরকারপ্রধান বলেন, পরিকল্পিত, নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব, অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর গড়ে তোলা বর্তমান সরকারের লক্ষ্য। একইসঙ্গে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য বাসযোগ্য, নিরাপদ, ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসনের ব্যবস্থাও গুরুত্বের সঙ্গে সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে। পরিকল্পিত নগরায়ণ ও আবাসন নিশ্চিত করা এবং সীমিত আয়ের মানুষের জন্য বাসস্থান সুবিধা প্রদান বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান নির্বাচনি অঙ্গীকার।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সেই লক্ষ্যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, পরিকল্পিত নগরায়ণের জন্য প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে। এরই মধ্যে সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর ও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে। এর ফলে অন্তর্ভুক্তিমূলক, নিরাপদ, সহনশীল ও টেকসই নগর গড়ে তোলার মাধ্যমে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজির ১১ নম্বর অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জন করা সহজ হবে।

পরে বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬ এর সব কার্যক্রমের সাফল্য কামনা করে এবং আবাসন মেলার উদ্বোধন উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনের সভাপতিত্বে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেচনিয়াক এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য দেন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এদিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

পরিকল্পিত নগরায়ণে মাস্টারপ্ল্যানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ১২:৪৬:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিতে দেশের সব জেলা ও সিটি করপোরেশনে মাস্টারপ্ল্যানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমনটা জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের শহর-বন্দর নগরে প্রতিনিয়ত মানুষের বসতি ও বসবাস বেড়েই চলছে। অস্বীকার করার উপায় নেই, বর্তমানে রাজধানী ঢাকা ওভার পপুলেটেড। দেশের অন্যান্য শহরগুলোতেও প্রায় একই অবস্থা। শহরাঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়েও কয়েকগুণ বেশি মানুষের বসবাস। এমন বাস্তবতায় ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’— এই ধারণাটি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। শহরগুলোতে সব মানুষের জন্য নিরাপদ, মানসম্মত, সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও সুপরিকল্পিত নগর গড়ে তোলা জরুরি।

তবে এই বিষয়গুলো বলা যতটা সহজ, দেশের বিদ্যমান বাস্তবতায় এর বাস্তবায়ন ততটাই কঠিন উল্লেখ করে তিনি বলেন, সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সবার জন্য বাসযোগ্য, সাশ্রয়ী, পরিবেশসম্মত, নিরাপদ, মৌলিক সেবা-পরিষেবা সম্বলিত বাসস্থান তথা সর্বজনীন আবাসন নাগরিকদের মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার। এই অধিকার নিশ্চিত ও নিরাপদ করতে বর্তমান সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

সরকারপ্রধান বলেন, পরিকল্পিত, নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব, অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর গড়ে তোলা বর্তমান সরকারের লক্ষ্য। একইসঙ্গে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য বাসযোগ্য, নিরাপদ, ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসনের ব্যবস্থাও গুরুত্বের সঙ্গে সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে। পরিকল্পিত নগরায়ণ ও আবাসন নিশ্চিত করা এবং সীমিত আয়ের মানুষের জন্য বাসস্থান সুবিধা প্রদান বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান নির্বাচনি অঙ্গীকার।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সেই লক্ষ্যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, পরিকল্পিত নগরায়ণের জন্য প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে। এরই মধ্যে সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর ও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে। এর ফলে অন্তর্ভুক্তিমূলক, নিরাপদ, সহনশীল ও টেকসই নগর গড়ে তোলার মাধ্যমে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজির ১১ নম্বর অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জন করা সহজ হবে।

পরে বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬ এর সব কার্যক্রমের সাফল্য কামনা করে এবং আবাসন মেলার উদ্বোধন উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনের সভাপতিত্বে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেচনিয়াক এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য দেন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এদিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।