অস্ট্রেলিয়ার কাছে বড় ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ

- আপডেট সময় : ০৪:২৩:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
- / 1
অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশন বরাবরই এশিয়ার দেশগুলোর জন্য চ্যালেঞ্জিং। তবে অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি বলেছিলেন, চমক দেখাতে চায় তার দল। কিন্তু ব্যতিক্রম কিছু হয়নি। সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোর মতোই নিদারুণ ব্যাটিং ব্যর্থতা উপহার দেন ব্যাটাররা। সেখানেই ম্যাচ হেরে যায় বাংলাদেশ। এরপর বোলাররাও বেশি কিছু করতে পারেননি। ফলে বড় হার দিয়েই সিরিজ শুরু করল বাংলাদেশ।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ব্রিসবেনে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৪৯.৪ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৬৬ রান করে বাংলাদেশ। জবাব দিতে নেমে ২৫.৪ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌছে যায় অস্ট্রেলিয়া। জয় তুলে নেয় ৭ উইকেটের। এই জয়ে তিন ম্যাচ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল স্বাগতিকরা।
টস জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া। সেই সিদ্ধান্তের যথার্থতা প্রমাণ করেন অসি বোলাররা। ইনিংসের শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ। ফলে বড় সংগ্রহ গড়ার সুযোগ তৈরি হয়নি সফরকারীদের সামনে।
ম্যাচের প্রথম বলেই ফারজানা হক পিংকিকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে শুরুতেই চাপে ফেলেন মেগান শুট। তৃতীয় ওভারে শারমিন সুলতানাকে (৭ বলে ৪) আউট করে নিজের দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে নারী ওয়ানডেতে ১৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন অস্ট্রেলিয়ার এই পেসার। এই কীর্তি গড়া তৃতীয় অস্ট্রেলীয় নারী বোলার তিনি।
এরপর শারমিন আক্তার কিছুটা আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের চেষ্টা করেন। ২৬ বলে পাঁচটি চারের সাহায্যে ২৪ রান করেন তিনি। তবে অ্যানাবেল সাদারল্যান্ডের বলে শারমিনের বিদায়ে সেই প্রতিরোধ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।
অধিনায়ক নিগার সুলতানা এক প্রান্ত আগলে রেখে ৮৬ বলে ২৯ রান করেন। তার ধীরস্থির ইনিংস বাংলাদেশকে কিছুটা স্থিতিশীলতা দিলেও অন্য প্রান্তে নিয়মিত উইকেট পতন দলের ওপর চাপ বাড়ায়। একপর্যায়ে নিগারও সাজঘরে ফিরলে বড় সংগ্রহের আশা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
স্বর্ণা আক্তার ৫০ বলে ২১ রান করে দলের স্কোর এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। শেষ দিকে রিতু মনি ৩৭ বলে অপরাজিত ২৮ রানের ইনিংস খেলেন। তার ব্যাট থেকে আসে চারটি চার। নাহিদা আক্তার ১৯ রানে অপরাজিত থাকেন।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে অ্যানাবেল সাদারল্যান্ড তিনটি উইকেট নেন। মেগান শুটের শিকার দুটি উইকেট। এ ছাড়া তাহলিয়া ম্যাকগ্রা ও জর্জিয়া ওয়ারহ্যাম একটি করে উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপকে চাপে রাখেন।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে স্বাচ্ছন্দ্যে ইনিংস এগিয়ে নিতে থাকেন অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনার জর্জিয়া ভল ও ফোবি লিচফিল্ড। তবে ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে প্রথম সাফল্যের দেখা পায় বাংলাদেশ। হাবিবা ইসলামের বলে শারমিন আক্তারের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন জর্জিয়া ভল। ফেরার আগে ১৮ বলে ১৯ রান করেন তিনি।
এরপর দলের হাল ধরেন ফোবি লিচফিল্ড ও এলিসা পেরি। চার-ছক্কার ঝড় তুলে ক্রমাগত রানের চাকা সচল রাখেন এই দুই ব্যাটার। তবে ইনিংসের ১৭তম ওভারে রাবেয়া খানের ঘূর্ণিতে থামে ফোবি লিচফিল্ডের দুর্দান্ত ইনিংস। রিতু মনির হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে ১০ চার ও এক ছয়ে মাত্র ৫৭ বলে ৭৭ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলেন তিনি। মূলত লিচফিল্ডের এই বিধ্বংসী ইনিংসেই ম্যাচ থেকে অনেকটা ছিটকে যায় বাংলাদেশ।
এরপর বাংলাদেশের প্রাপ্তি বলতে ২০তম ওভারে হাবিবা ইসলামের দ্বিতীয় শিকার হয়ে বেথ মুনির বিদায়। তবে ততক্ষণে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি অস্ট্রেলিয়ার হাতে। বাকি পথ নির্বিঘ্নে পাড়ি দিয়ে এলিসা পেরির অপরাজিত ৪৫ বলে ২৬ রান ও অ্যানাবেল সাদারল্যান্ডের অপরাজিত ২৩ বলে ২৫ রানের ইনিংসে ভর করে ৭ উইকেটের বড় জয় তুলে নেয় অস্ট্রেলিয়া।
























