ঢাকা ০১:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নির্বাচন বন্ধ করার সাহস নেই বিএনপির: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৫:২৬:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জানুয়ারী ২০২৪
  • / 206

আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বন্ধ করার সাহস বিএনপির নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডির কলাবাগান ক্রীড়া চক্র মাঠে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় দেওয়া ভাষণে একথা বলেন।

তিনি বলেন, এই নির্বাচনে আপনাদের একটা কথা মনে রাখতে হবে ওই বিএনপি-জামাত সন্ত্রাস করে আপনাদের ভোট কেড়ে নিতে চায়। আর আপনারা তার জবাব দেবেন। প্রতিটি ভোটার পরিবার-পরিজন নিয়ে সকাল সকাল ভোটকেন্দ্রে যাবেন, আপনার ভোট আপনি দেবেন কেউ যেন ঠেকাতে না পারে। তাদের উপযুক্ত জবাব দেবেন। অগ্নি সন্ত্রাসের জবাব দেবেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপি টাকার বিনিময়ে মনোনয়ন বিক্রি করত। যার ফলে তাদের নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট হতো। ২০১৪ থেকে নির্বাচন ঠেকানোর নামে বিএনপির অগ্নিসন্ত্রাসের ভুক্তভোগী এখনও অনেক মানুষ ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন ভোট চুরি করতে পারে না বলেই নির্বাচনে আসে না বিএনপি। নির্বাচন নাকি তারা বানচাল করবে। মানুষের ভোটের অধিকার আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমরা অর্জন করেছি। সেই অধিকার কেড়ে নেবে, নির্বাচন বন্ধ করবে- এত সাহস তাদের নেই। তারা তা পারবে না।’

বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তারা নির্বাচন বর্জন করছে। বর্জন করাটা খুবই স্বাভাবিক। ভোট চুরি করতে পারবে না, নির্বাচন করবে না। কারণ, এরা ভোট চুরি করে অভ্যস্ত। চুরি করা ভোট দিয়েই তো তাদের সৃষ্টি। ক্ষমতা চুরি, ক্ষমতা দখল, ভোট চুরি- এ ছাড়া তো আর কিছু পারে না। এজন্যই তো নির্বাচন করতে চায় না।’

আওয়ামী লীগই প্রথম শান্তির মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছে জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘৭৫ এর পর যারা ক্ষমতায় এসেছে তারা অস্ত্রের মাধ্যমে এসেছে, লঙ্ঘন করেছে সংবিধান।’

প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের আমলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ, যাতায়াতসহ মানুষের জীবনমান পরিবর্তনে আওয়ামী লীগের ভূমিকা তুলে ধরেন। ঢাকার যানজট নিরসনে মেট্রোরেলে, এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ের ভূমিকাও তুলে ধরেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘দেশের সুবিধাবঞ্চিত শ্রেণির অনেককেই ভূমি ও ঘর দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ থাকলে পর্যায়ক্রমে সবাইকেই নিজ বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলার পদক্ষেপ নেওয়ার জন্যই নির্বাচন।’

নৌকায় ভোট দিয়ে দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘অনেক বুদ্ধিজীবী মিথ্যা কথা বলে জাতিকে বিভ্রান্ত করছেন, তাদের জবাব দেওয়া হবে।’

জাতির পিতার কন্যা বলেন, ‘আমিও আমার বাবার মতো জীবন উৎসর্গ করে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে পথে নেমেছি। আমার একমাত্র শক্তির উৎস দেশের জনগণ।’
তিনি বলেন, আমরা মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি। বারবার আমাকে হত্যার চেষ্টা করা হলেও কোনো অস্ত্র গোলাবারুদ আমাকে বাধা দিয়ে রাখতে পারেনি। আমার একটা প্রত্যয় ছিল এ দেশের মানুষের জন্য আমি কাজ করবো। সবার খাদ্য-চিকিৎসা-বাসস্থানের ব্যবস্থা করে একটি উন্নত জীবন দেব। সেটা আমরা করতে পেরেছি, এখনও আমাদের এই কাজ চলমান আছে।

প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর যানজট নিরসনে মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, ফ্লাইওভারসহ তাঁর সরকারের বাস্তবায়িত বিভিন্ন মেগা প্রকল্পগুলোর উল্লেখ করে আগামীতে ঢাকার চারপাশে ওয়াটারওয়েজ নির্মাণ এবং সেক্ষেত্রে জলযানের বাধামুক্ত চলাচল নিশ্চিত করতে নিচু সেতুগুলো পুনর্নির্মাণ করা, বঙ্গবাজার মার্কেটকে বহুতল ভবনে রপান্তরিত করে এখনকার দোকার মালিকদেরই সেখানে পুনর্বাসন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ৪ হাজার শয্যায় উন্নীত করে আধুনিক রূপে গড়ে তোলার মত বিভিন্ন চিন্তা-ভাবনার উল্লেখ করেন।

তবে, সবার শুরুতে তিনি সমাবেশে আগত জনতা এবং দেশবাসীকে ইংরেজী নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সভাপতি মন্ডলীর সদস্য ও ঢাকা- ১৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী জাহাঙ্গীর কবির নানক, দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, ঢাকা ১০ আসনের প্রার্থী চিত্রনায়ক ফেরদৌস সমাবেশে বক্তৃতা করেন।

মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তরের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান সমাবেশে সভাপত্বি করেন এবং দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির সঞ্চালনা করেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্র, মহানগর এবং সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

নির্বাচন বন্ধ করার সাহস নেই বিএনপির: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৫:২৬:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জানুয়ারী ২০২৪

আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বন্ধ করার সাহস বিএনপির নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডির কলাবাগান ক্রীড়া চক্র মাঠে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় দেওয়া ভাষণে একথা বলেন।

তিনি বলেন, এই নির্বাচনে আপনাদের একটা কথা মনে রাখতে হবে ওই বিএনপি-জামাত সন্ত্রাস করে আপনাদের ভোট কেড়ে নিতে চায়। আর আপনারা তার জবাব দেবেন। প্রতিটি ভোটার পরিবার-পরিজন নিয়ে সকাল সকাল ভোটকেন্দ্রে যাবেন, আপনার ভোট আপনি দেবেন কেউ যেন ঠেকাতে না পারে। তাদের উপযুক্ত জবাব দেবেন। অগ্নি সন্ত্রাসের জবাব দেবেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপি টাকার বিনিময়ে মনোনয়ন বিক্রি করত। যার ফলে তাদের নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট হতো। ২০১৪ থেকে নির্বাচন ঠেকানোর নামে বিএনপির অগ্নিসন্ত্রাসের ভুক্তভোগী এখনও অনেক মানুষ ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন ভোট চুরি করতে পারে না বলেই নির্বাচনে আসে না বিএনপি। নির্বাচন নাকি তারা বানচাল করবে। মানুষের ভোটের অধিকার আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমরা অর্জন করেছি। সেই অধিকার কেড়ে নেবে, নির্বাচন বন্ধ করবে- এত সাহস তাদের নেই। তারা তা পারবে না।’

বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তারা নির্বাচন বর্জন করছে। বর্জন করাটা খুবই স্বাভাবিক। ভোট চুরি করতে পারবে না, নির্বাচন করবে না। কারণ, এরা ভোট চুরি করে অভ্যস্ত। চুরি করা ভোট দিয়েই তো তাদের সৃষ্টি। ক্ষমতা চুরি, ক্ষমতা দখল, ভোট চুরি- এ ছাড়া তো আর কিছু পারে না। এজন্যই তো নির্বাচন করতে চায় না।’

আওয়ামী লীগই প্রথম শান্তির মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছে জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘৭৫ এর পর যারা ক্ষমতায় এসেছে তারা অস্ত্রের মাধ্যমে এসেছে, লঙ্ঘন করেছে সংবিধান।’

প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের আমলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ, যাতায়াতসহ মানুষের জীবনমান পরিবর্তনে আওয়ামী লীগের ভূমিকা তুলে ধরেন। ঢাকার যানজট নিরসনে মেট্রোরেলে, এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ের ভূমিকাও তুলে ধরেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘দেশের সুবিধাবঞ্চিত শ্রেণির অনেককেই ভূমি ও ঘর দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ থাকলে পর্যায়ক্রমে সবাইকেই নিজ বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলার পদক্ষেপ নেওয়ার জন্যই নির্বাচন।’

নৌকায় ভোট দিয়ে দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘অনেক বুদ্ধিজীবী মিথ্যা কথা বলে জাতিকে বিভ্রান্ত করছেন, তাদের জবাব দেওয়া হবে।’

জাতির পিতার কন্যা বলেন, ‘আমিও আমার বাবার মতো জীবন উৎসর্গ করে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে পথে নেমেছি। আমার একমাত্র শক্তির উৎস দেশের জনগণ।’
তিনি বলেন, আমরা মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি। বারবার আমাকে হত্যার চেষ্টা করা হলেও কোনো অস্ত্র গোলাবারুদ আমাকে বাধা দিয়ে রাখতে পারেনি। আমার একটা প্রত্যয় ছিল এ দেশের মানুষের জন্য আমি কাজ করবো। সবার খাদ্য-চিকিৎসা-বাসস্থানের ব্যবস্থা করে একটি উন্নত জীবন দেব। সেটা আমরা করতে পেরেছি, এখনও আমাদের এই কাজ চলমান আছে।

প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর যানজট নিরসনে মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, ফ্লাইওভারসহ তাঁর সরকারের বাস্তবায়িত বিভিন্ন মেগা প্রকল্পগুলোর উল্লেখ করে আগামীতে ঢাকার চারপাশে ওয়াটারওয়েজ নির্মাণ এবং সেক্ষেত্রে জলযানের বাধামুক্ত চলাচল নিশ্চিত করতে নিচু সেতুগুলো পুনর্নির্মাণ করা, বঙ্গবাজার মার্কেটকে বহুতল ভবনে রপান্তরিত করে এখনকার দোকার মালিকদেরই সেখানে পুনর্বাসন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ৪ হাজার শয্যায় উন্নীত করে আধুনিক রূপে গড়ে তোলার মত বিভিন্ন চিন্তা-ভাবনার উল্লেখ করেন।

তবে, সবার শুরুতে তিনি সমাবেশে আগত জনতা এবং দেশবাসীকে ইংরেজী নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সভাপতি মন্ডলীর সদস্য ও ঢাকা- ১৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী জাহাঙ্গীর কবির নানক, দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, ঢাকা ১০ আসনের প্রার্থী চিত্রনায়ক ফেরদৌস সমাবেশে বক্তৃতা করেন।

মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তরের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান সমাবেশে সভাপত্বি করেন এবং দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির সঞ্চালনা করেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্র, মহানগর এবং সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।