ঢাকা ০৭:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসরায়েলের সাথে সমঝোতা করতে রাজি নয় হামাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:৪০:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ অক্টোবর ২০২৩
  • / 218

ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাসের রকেট হামলার জবাবে গাজায় একের পর এক বোমা ফেলেই যাচ্ছে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী। এমতাবস্থায় হামাস জানিয়েছে, তাদের হাতে জিম্মি কারও ব্যাপারে ইসরায়েলের সাথে আপস বা সমঝোতা করতে রাজি নয় তারা। এমনকি এ ব্যাপারে আলোচনা করতে হলে আগে এই হামলা থামাতে হবে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন বলছে, এক ভিডিও বার্তায় এমন কথাই বলেছেন হামাসের এক মুখমাত্র। ভিডিও বার্তায় মূলত কথা বলেন হামাসের অঙ্গসংগঠন আল–কাসামের মুখপাত্র আবু ওবাইদা।

আল–কাসামের মুখপাত্র আবু ওবাইদা বলেন, ‘আমাদের কাছে জিম্মি থাকা শত্রুশিবিরের ব্যক্তিরা যেমন হুমকিতে আছেন, তেমনই হুমকিতে আছেন আমাদের জনগণও। এ কারণে আলোচনা করতে হলে আগে আমাদের ওপর এসব হামলা বন্ধ করতে হবে।’

হামাসের কাছে কতজন জিম্মি আছেন, এ ব্যাপারে কোনো তথ্য জানাননি ওবাইদা। তবে তিনি বলেন, এই সংখ্যাটা ধারণার চেয়েও বেশি। আর এদের মধ্যে অনেককেই মেরে ফেলা হয়েছে। অন্তত ৪ জনকে মেরে ফেলার তথ্য পেয়েছে সিএনএন।

এর আগে সোমবার রাতে গাজায় দফায় দফায় বিমান হামলা করেছে ইসরায়েল। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, এক রাতেই গাজার ২০০ জায়গায় বিমান হামলা করা হয়েছে। এতে গুড়িয়ে গেছে অনেক স্থাপণা।

গাজা উপত্যকা পুরোপুরি অবরোধ করার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েল। বন্ধ করা হয়েছে পশ্চিম তীরের প্রবেশপথও। এরই মধ্যে ৩ লাখ রিজার্ভ সেনাসদস্যকে তলব করেছে দেশটি। অন্যদিকে, পাল্টা অবস্থানে রয়েছে হামাস। সংঘাতে এখন পর্যন্ত দেড় হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। দুই পক্ষে আহতের সংখ্যা ৬ হাজারের বেশি।

ইসরায়েলের দাবি, হামাসের হামলায় তিন দিনে অন্তত ৯০০ ইসরায়েলি নিহত হয়েছে। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, ইসরায়েলের পাল্টা হামলায় গাজায় মারা গেছে কমপক্ষে ৭০৪ ফিলিস্তিনি। জাতিসংঘ বলছে, বাস্তুচ্যুত হয়েছে গাজার লক্ষাধিক বাসিন্দা।

হামাসের হঠাৎ হামলার পর গাজা সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে ইসরায়েল। সাঁজোয়া যান, ট্যাংকসহ ভারী যুদ্ধাস্ত্র নিয়ে সীমান্তে অবস্থান নিয়েছে অন্তত এক লাখ ইসরায়েলি সেনা। বিদেশে অবস্থানরত সেনাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করেছে ইসরায়েল।

গাজায় প্রায় ২৩ লাখ ফিলিস্তিনি বাস করে। ২০০৭ সাল থেকেই গাজার আকাশ, স্থল ও সমুদ্র অবরুদ্ধ করে রেখেছে ইসরায়েল। তাই, মূলত আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল সেখানকার বাসিন্দারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইসরায়েলের সাথে সমঝোতা করতে রাজি নয় হামাস

আপডেট সময় : ০৬:৪০:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ অক্টোবর ২০২৩

ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাসের রকেট হামলার জবাবে গাজায় একের পর এক বোমা ফেলেই যাচ্ছে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী। এমতাবস্থায় হামাস জানিয়েছে, তাদের হাতে জিম্মি কারও ব্যাপারে ইসরায়েলের সাথে আপস বা সমঝোতা করতে রাজি নয় তারা। এমনকি এ ব্যাপারে আলোচনা করতে হলে আগে এই হামলা থামাতে হবে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন বলছে, এক ভিডিও বার্তায় এমন কথাই বলেছেন হামাসের এক মুখমাত্র। ভিডিও বার্তায় মূলত কথা বলেন হামাসের অঙ্গসংগঠন আল–কাসামের মুখপাত্র আবু ওবাইদা।

আল–কাসামের মুখপাত্র আবু ওবাইদা বলেন, ‘আমাদের কাছে জিম্মি থাকা শত্রুশিবিরের ব্যক্তিরা যেমন হুমকিতে আছেন, তেমনই হুমকিতে আছেন আমাদের জনগণও। এ কারণে আলোচনা করতে হলে আগে আমাদের ওপর এসব হামলা বন্ধ করতে হবে।’

হামাসের কাছে কতজন জিম্মি আছেন, এ ব্যাপারে কোনো তথ্য জানাননি ওবাইদা। তবে তিনি বলেন, এই সংখ্যাটা ধারণার চেয়েও বেশি। আর এদের মধ্যে অনেককেই মেরে ফেলা হয়েছে। অন্তত ৪ জনকে মেরে ফেলার তথ্য পেয়েছে সিএনএন।

এর আগে সোমবার রাতে গাজায় দফায় দফায় বিমান হামলা করেছে ইসরায়েল। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, এক রাতেই গাজার ২০০ জায়গায় বিমান হামলা করা হয়েছে। এতে গুড়িয়ে গেছে অনেক স্থাপণা।

গাজা উপত্যকা পুরোপুরি অবরোধ করার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েল। বন্ধ করা হয়েছে পশ্চিম তীরের প্রবেশপথও। এরই মধ্যে ৩ লাখ রিজার্ভ সেনাসদস্যকে তলব করেছে দেশটি। অন্যদিকে, পাল্টা অবস্থানে রয়েছে হামাস। সংঘাতে এখন পর্যন্ত দেড় হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। দুই পক্ষে আহতের সংখ্যা ৬ হাজারের বেশি।

ইসরায়েলের দাবি, হামাসের হামলায় তিন দিনে অন্তত ৯০০ ইসরায়েলি নিহত হয়েছে। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, ইসরায়েলের পাল্টা হামলায় গাজায় মারা গেছে কমপক্ষে ৭০৪ ফিলিস্তিনি। জাতিসংঘ বলছে, বাস্তুচ্যুত হয়েছে গাজার লক্ষাধিক বাসিন্দা।

হামাসের হঠাৎ হামলার পর গাজা সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে ইসরায়েল। সাঁজোয়া যান, ট্যাংকসহ ভারী যুদ্ধাস্ত্র নিয়ে সীমান্তে অবস্থান নিয়েছে অন্তত এক লাখ ইসরায়েলি সেনা। বিদেশে অবস্থানরত সেনাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করেছে ইসরায়েল।

গাজায় প্রায় ২৩ লাখ ফিলিস্তিনি বাস করে। ২০০৭ সাল থেকেই গাজার আকাশ, স্থল ও সমুদ্র অবরুদ্ধ করে রেখেছে ইসরায়েল। তাই, মূলত আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল সেখানকার বাসিন্দারা।