যে কারণে রোনালদোকে ‘কাঁদিয়ে ছেড়েছিলেন’ মরিনহো

- আপডেট সময় : ০৪:৪৫:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
- / 65
ফুটবলে কোচিংয়ের জগতে তিনি পরিচিত ‘স্পেশাল ওয়ান’ নামে। কোচিং ক্যারিয়ারে বহু সাফল্যের অধিকারী জোসে মরিনহো নিজেই ঘোষণা করেছিলেন এই নাম। ক্লাব ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম সেরা এই কোচ কিন্তু শিষ্যদের কাছে পরিচিত বেশ কড়া ‘হেড মাস্টার’ হিসেবেও।
প্রায়ই বিতর্কিত কথা বলে আলোচনায় আসা এই পর্তুগিজ কোচ মরিনহো একবার নাকি বেশ শাসিয়ে ছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে। মরিনহোর বকাঝকার মাত্রা এতটাই বেশি ছিল যে পর্তুগিজ মহাতারকা নাকি কেঁদেই দেন। রিয়াল মাদ্রিদে থাকাকালীন এমন ঘটনার বর্ণনাই দিলেন রোনালদোর সাবেক সতীর্থ লুকা মড্রিচ।
রিয়াল মাদ্রিদের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার শেষে এসি মিলানে যোগ দেওয়া মড্রিচ ইতালীয় সংবাদপত্র কোরিয়েরে দেলা সেরা’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফুটবল ক্যারিযারের স্মৃতি সহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন। একটা সময় উঠে আসে সাবেক সতীর্থ মরিনহোর প্রসঙ্গ।
পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে ধূমপান নিষিদ্ধ, অধ্যাদেশ কার্যকর
মরিনহোর বকুনিতে রোনালদোর কান্নার ওই ঘটনা নিয়ে মড্রিচ বলেন, ‘আমি দেখেছি কিভাবে মরিনহো ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে লকাররুমে কাঁদিয়ে ছাড়েন¬—এমন একজন খেলোয়াড় যিনি মাঠে সবকিছু উজাড় করে দেন। কারণ একবার সে প্রতিপক্ষের ফুলব্যাককে ধাওয়া করতে ব্যর্থ হয়েছিল।’
অবশ্য কড়া শিক্ষক হলেও মরিনহো যে দারুণ একজন কোচ সেটা মনে করিয়ে দিলেন মড্রিচ। পোর্তো ও ইন্টার মিলানকে চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতানো এই কোচের পরামর্শেই মড্রিচকে দলে ভেড়ায় রিয়াল। এরপর তো দীর্ঘ এক যুগ কাটিয়ে স্প্যানিশ জায়ান্ট ক্লাবটির ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন ক্রোয়েশিয়ান মিডফিল্ডার। মড্রিচ বলেন, ‘একজন কোচ এবং একজন মানুষ হিসেবে তিনি দারুণ। আমাকে রিয়াল মাদ্রিদে দেখতে চাওয়া একজন ছিলেন তিনি।মরিনহো ছাড়া আমি কখনোও সেখানে পৌঁছাতাম না। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে, আমি তাকে মাত্র এক মৌসুম পেয়েছি।’
৪০ বছর বয়সী রোনালদো খেলছেন এখন আল নাসরে। পর্তুাগালের এই মহাতারকা মরিনহোর অধীনে মাদ্রিদে তিন বছর (২০১০–২০১৩) ছিলেন। মরিনহোর বকায় রোনালদোর কেঁদে দেওয়ার ঘটনা ২০১৫ সালে পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ীর জীবনীতে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছিলেন স্প্যানিশ সাংবাদিক গুইলেম বালাগুর তার লেখা বইয়ে।
৬২ বছর বয়সী মরিনহো তুর্কি ক্লাব ফেনেরবাচের দায়িত্ব ছেড়ে গত সেপ্টেম্বরে দুই বছরের চুক্তিতে পর্তুগালের ক্লাব বেনফিকার দায়িত্ব নেন। ক্যারিয়ারে এফসি পোর্তো, চেলসি, ইন্টার মিলান, রিয়াল মাদ্রিদ, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এবং এ.এস. রোমার হয়ে মোট ২৬টি বড় শিরোপা জিতেছেন তিনি। এছাড়া ১৭ মাস টটেনহ্যাম হটস্পারের কোচও ছিলেন।
কোচিং ক্যারিয়ারে প্রায়ই দলের অনেক ফুটবলারের সঙ্গে মরিনহোর রেষারেষির খবর শোন যেত। ঠোঁট কাটা স্বভাবের এই কোচ সবসময় যা বলার সরাসরি মুখের ওপরই বলে দিতেন। সাবেক গুরুর এই গুণের সঙ্গে এসি মিলানের বর্তমান কোচ মাসিমিলিয়ানো আলেগ্রির মিল খুঁজে পান মড্রিচ, ‘মরিনহো খেলোয়াড়দের সঙ্গে খুব সরাসরি কথা বলেন, তবে সততার সঙ্গে। তিনি সার্জিও রামোস কিংবা ক্লাবে নতুন যোগ দেওয়া খেলোয়াড়—উভয়ের সঙ্গেই একই ব্যবহার করতেন, যা বলার প্রয়োজন, তা সরাসরি বলতেন। আলেগ্রিওও একই রকম: তিনি কী ঠিক, কী ভুল তা মুখোমুখি বলে দেন। সততা হলো মূল ভিত্তি।’


























