ঢাকা ০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতীয় সরকারে ঐকমত্য থাকলেও নেই বাস্তবায়নের স্পষ্ট রূপরেখা

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:১২:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 123
141

জাতীয় সরকার নিয়ে দলগুলোর ভাবনা থাকলেও বাস্তবায়নের রূপরেখা প্রকাশ করেনি কেউ। তবে বিএনপি ও জামায়াত নির্বাচনে তাদের সক্ষমতা যাচাইয়ের পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা জানিয়েছে। নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে এ আলোচনা ফিকে হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও রাষ্ট্রের স্বার্থে তা বাস্তবায়নের জোর তাগিদ বিশেষজ্ঞদের।

জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘পাঁচ বছরের জন্য আমরা জাতির স্থিতিশীলতার স্বার্থে সবাই মিলে মিশে ভালো কোনো চিন্তা করতে পারি সেটাও আমাদের চিন্তা করা দরকার।’

তবে বর্তমানে বিএনপির পক্ষ থেকে জাতীয় সরকারের পরিবর্তে জাতীয় ঐকমত্যের সরকারের কথা বলা হচ্ছে। যেখানে বিএনপির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেয়া দলগুলোকেই সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেয়া হবে। তবে নাম যাই হোক সেই সরকারে জামায়াতকে না রাখার বিষয়টিও স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। নির্বাচনের ফলের পরে সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘আমরা তো প্রথম থেকেই জাতীয় ঐকমত্যের সরকারের কথা বলেছি, যাদের সঙ্গে আমাদের ঐকমত্য আছে তাদের সঙ্গে তো সরকার করবো আমরা। আমাদের থেকে যদি কারও চিন্তা ধারা যোজন যোজন দূরে থাকে তার সঙ্গে তো করবো না। পরবর্তী পরিস্থিতি কী হবে সেটা সেটা তো পরের ব্যাপার, আর রাজনীতিতে শেষ বলে কোনো যেহেতু নেই, তাই দেখা যাক রাজনীতির পানি কোথায় থেকে কোথায় যায়।’

নির্বাচনে বিদেশ ফেরত প্রার্থী, কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ

যদিও বর্তমানে জামায়াতের দাবি, তারা জাতীয় সরকার শব্দটি কোথাও ব্যবহার করেননি। তবে ক্ষমতায় গেলে জুলাইয়ের পক্ষের সবদলকে নিয়ে সরকার গঠন করবে। বাদ যাবে না বিএনপিও। এমনটিই জানান জামায়াতের মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

তিনি বলেন, ‘আমরা সবাইকে নিয়ে একটা সরকার গঠন করবো। কিন্তু এক্ষেত্রে আমরা কিছু শর্ত দিয়েছি। শর্তগুলোর মধ্যে আছে—কোনো অবস্থায় কারো দুর্নীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারবে না। স্বচ্ছতার নীতি অনুসরণ করবো। এরই সঙ্গে সংস্কারের বিষয়টা যেটা আছে তাকে ওন করে সেটাকে বাস্তবায়ন করবো।’

তবে এনসিপির দাবি, জাতীয় সরকারের ধারণা ও রূপরেখা বিএনপি জামায়াত কেউ ই স্পষ্ট করেনি। তবে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনে তারা বিরোধী দলে থাকতে চাই।

এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, ‘সরকার গেলে যতটুকু না জনগণের জন্য কাজ করা তার চেয়ে এনসিপির দীর্ঘমেয়াদি রাজনীতির জন্য, এনসিপি বিরোধীদল থাকলে আরও বেশি ভালো ভূমিকা পালন করবে, এনসিপি জনগণের কথা বলতে পারবে এবং জনগণের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক স্থাপনের জায়গাটা আরও দৃঢ় হবে।’

বিপ্লব বেহাত হয়েছে জানিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক শরিফ জাতীয় সরকার গঠনের পক্ষে জোরালো মতামত ব্যক্ত করেন। অন্যথায় জুলাই বিপ্লবের স্বীকৃতি ও জুলাই যোদ্ধাদের জীবন দুটোই বিপন্ন হতে পারে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক শরিফ বলেন, ‘বিপ্লবী সরকার বা জাতীয় সরকার যেটাই বলেন সেটাই এখন দরকার। যাতে মানুষ আস্থা রাখতে পারে যেন সত্যিকার অর্থে বুঝতে পারে একটা নির্বাচন হতে যাচ্ছে। জুলাইয়ের পক্ষে সকল শক্তিকে নিয়ে একটি সরকার করলে একদিকের তার বৈধতা যেমন ও স্বীকৃতি যেমন সারা বিশ্বব্যাপী পাওয়া যাবে, তেমনি করে আরকের দিকে নির্বাচনটিও সঠিকভাবে অনুষ্ঠিত হবে।’

তবে নির্বাচনে কোন জোট কেমন ফল করবে, তার ওপর নির্ভর করছে জাতীয় সরকার বা সমমানের অন্য কোন সরকার আদৌ গঠন হবে কি না।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

জাতীয় সরকারে ঐকমত্য থাকলেও নেই বাস্তবায়নের স্পষ্ট রূপরেখা

আপডেট সময় : ০২:১২:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
141

জাতীয় সরকার নিয়ে দলগুলোর ভাবনা থাকলেও বাস্তবায়নের রূপরেখা প্রকাশ করেনি কেউ। তবে বিএনপি ও জামায়াত নির্বাচনে তাদের সক্ষমতা যাচাইয়ের পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা জানিয়েছে। নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে এ আলোচনা ফিকে হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও রাষ্ট্রের স্বার্থে তা বাস্তবায়নের জোর তাগিদ বিশেষজ্ঞদের।

জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘পাঁচ বছরের জন্য আমরা জাতির স্থিতিশীলতার স্বার্থে সবাই মিলে মিশে ভালো কোনো চিন্তা করতে পারি সেটাও আমাদের চিন্তা করা দরকার।’

তবে বর্তমানে বিএনপির পক্ষ থেকে জাতীয় সরকারের পরিবর্তে জাতীয় ঐকমত্যের সরকারের কথা বলা হচ্ছে। যেখানে বিএনপির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেয়া দলগুলোকেই সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেয়া হবে। তবে নাম যাই হোক সেই সরকারে জামায়াতকে না রাখার বিষয়টিও স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। নির্বাচনের ফলের পরে সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘আমরা তো প্রথম থেকেই জাতীয় ঐকমত্যের সরকারের কথা বলেছি, যাদের সঙ্গে আমাদের ঐকমত্য আছে তাদের সঙ্গে তো সরকার করবো আমরা। আমাদের থেকে যদি কারও চিন্তা ধারা যোজন যোজন দূরে থাকে তার সঙ্গে তো করবো না। পরবর্তী পরিস্থিতি কী হবে সেটা সেটা তো পরের ব্যাপার, আর রাজনীতিতে শেষ বলে কোনো যেহেতু নেই, তাই দেখা যাক রাজনীতির পানি কোথায় থেকে কোথায় যায়।’

নির্বাচনে বিদেশ ফেরত প্রার্থী, কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ

যদিও বর্তমানে জামায়াতের দাবি, তারা জাতীয় সরকার শব্দটি কোথাও ব্যবহার করেননি। তবে ক্ষমতায় গেলে জুলাইয়ের পক্ষের সবদলকে নিয়ে সরকার গঠন করবে। বাদ যাবে না বিএনপিও। এমনটিই জানান জামায়াতের মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

তিনি বলেন, ‘আমরা সবাইকে নিয়ে একটা সরকার গঠন করবো। কিন্তু এক্ষেত্রে আমরা কিছু শর্ত দিয়েছি। শর্তগুলোর মধ্যে আছে—কোনো অবস্থায় কারো দুর্নীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারবে না। স্বচ্ছতার নীতি অনুসরণ করবো। এরই সঙ্গে সংস্কারের বিষয়টা যেটা আছে তাকে ওন করে সেটাকে বাস্তবায়ন করবো।’

তবে এনসিপির দাবি, জাতীয় সরকারের ধারণা ও রূপরেখা বিএনপি জামায়াত কেউ ই স্পষ্ট করেনি। তবে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনে তারা বিরোধী দলে থাকতে চাই।

এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, ‘সরকার গেলে যতটুকু না জনগণের জন্য কাজ করা তার চেয়ে এনসিপির দীর্ঘমেয়াদি রাজনীতির জন্য, এনসিপি বিরোধীদল থাকলে আরও বেশি ভালো ভূমিকা পালন করবে, এনসিপি জনগণের কথা বলতে পারবে এবং জনগণের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক স্থাপনের জায়গাটা আরও দৃঢ় হবে।’

বিপ্লব বেহাত হয়েছে জানিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক শরিফ জাতীয় সরকার গঠনের পক্ষে জোরালো মতামত ব্যক্ত করেন। অন্যথায় জুলাই বিপ্লবের স্বীকৃতি ও জুলাই যোদ্ধাদের জীবন দুটোই বিপন্ন হতে পারে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক শরিফ বলেন, ‘বিপ্লবী সরকার বা জাতীয় সরকার যেটাই বলেন সেটাই এখন দরকার। যাতে মানুষ আস্থা রাখতে পারে যেন সত্যিকার অর্থে বুঝতে পারে একটা নির্বাচন হতে যাচ্ছে। জুলাইয়ের পক্ষে সকল শক্তিকে নিয়ে একটি সরকার করলে একদিকের তার বৈধতা যেমন ও স্বীকৃতি যেমন সারা বিশ্বব্যাপী পাওয়া যাবে, তেমনি করে আরকের দিকে নির্বাচনটিও সঠিকভাবে অনুষ্ঠিত হবে।’

তবে নির্বাচনে কোন জোট কেমন ফল করবে, তার ওপর নির্ভর করছে জাতীয় সরকার বা সমমানের অন্য কোন সরকার আদৌ গঠন হবে কি না।