নির্বাচনে বড় পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে কমনওয়েলথ-ইইউ

- আপডেট সময় : ০৪:২০:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
- / 94
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সংস্কার সনদ নিয়ে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় গণভোট পর্যবেক্ষণে কমনওয়েলথ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বড় আকারের পর্যবেক্ষক দল পাঠাতে যাচ্ছে। ঢাকায় প্রাপ্ত বার্তা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
কমনওয়েলথ সেক্রেটারি-জেনারেল মাননীয় শার্লি বচওয়ে চলতি মাসের শুরুতে লন্ডনে এক ঘোষণায় জানান, ১৪ সদস্যের কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দলের নেতৃত্ব দেবেন ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট নানান আকুফো-আড্ডো।
এই পর্যবেক্ষক দলে রাজনীতি, আইন, গণমাধ্যম, জেন্ডার ও নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞ কমনওয়েলথভুক্ত বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। দলটিকে সহায়তা করবে কমনওয়েলথ সচিবালয়ের একটি টিম, যার নেতৃত্বে থাকবেন ইলেক্টোরাল সাপোর্ট সেকশনের প্রধান ও উপদেষ্টা লিনফোর্ড অ্যানড্রুজ।
শেরপুরের ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত, সুষ্ঠু তদন্ত চায় বিএনপি : মাহদী আমিন
২১ জানুয়ারি প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কমনওয়েলথ জানায়, পর্যবেক্ষক দলের ম্যান্ডেট হলো—নির্বাচন ও গণভোট প্রক্রিয়া বিশ্বাসযোগ্য, স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা স্বাধীনভাবে মূল্যায়ন করা।
বিবৃতিতে বলা হয়, “বাংলাদেশ যে মানদণ্ড ও অঙ্গীকারে সম্মত হয়েছে—জাতীয় আইনসহ—তার আলোকে নির্বাচন প্রক্রিয়ার পরিচালনা সম্পর্কে পর্যবেক্ষক দল প্রতিবেদন দেবে।”
কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দলে রয়েছেন মালদ্বীপের সাবেক উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী জেফ্রি সালিম ওয়াহিদ, সিয়েরা লিওনের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড জন ফ্রান্সিস, মালয়েশিয়ার সাবেক সিনেটর রাস আদিবা মোহদ রাজ্জিসহ অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, কানাডা, ফিজি, মরিশাস, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা, উগান্ডা, যুক্তরাজ্য ও জাম্বিয়ার প্রতিনিধিরা।
এ দিকে কমনওয়েলথের ঘোষণার পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিশ্চিত করেছে যে, তাদের নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনে (ইইউ ইওএম) ২৭টি ইইউ সদস্য রাষ্ট্রের পাশাপাশি নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড ও কানাডা থেকে প্রায় ২০০ পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে আসবেন।
ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন লাটভিয়ার ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য ইভার্স ইজাবস।
এই মিশনে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের আরও অন্তত সাতজন সদস্য থাকবেন— অস্ট্রিয়ার লুকাস মান্ডল, রোমানিয়ার লোরান্ত ভিনচে ও শেরবান দিমিত্রিয়ে স্টুরদজা, চেকিয়ার তোমাশ জদেখভস্কি, স্পেনের লাইরে পাইহিন, আয়ারল্যান্ডের মাইকেল ম্যাকনামারা এবং নেদারল্যান্ডসের ক্যাটারিনা ভিয়েরা। তারা ১০ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাংলাদেশ সফর করবেন।
ইইউ পর্যবেক্ষক মিশনের কার্যক্রম শুরু হয় গত ২৯ ডিসেম্বর, যখন একটি কোর টিম বাংলাদেশে পৌঁছে। ১১ জন বিশ্লেষক নিয়ে গঠিত এই কোর টিমের সঙ্গে রয়েছেন লজিস্টিক ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। তারা নির্বাচন প্রক্রিয়ার আইনগত, রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও গণমাধ্যমসংক্রান্ত সব দিক মূল্যায়ন করছেন।
এ ছাড়া ১৭ জানুয়ারি থেকে দেশের সব প্রশাসনিক বিভাগে ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক মোতায়েন করা হয়েছে। তারা নিজ নিজ এলাকায় নির্বাচনসংক্রান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ঢাকার কোর টিমকে প্রতিবেদন দিচ্ছেন। নির্বাচনের ঠিক আগে তাদের সঙ্গে যোগ দেবেন আরও ৯০ জন স্বল্পমেয়াদী পর্যবেক্ষক।
নির্বাচনের দিন কূটনৈতিক মিশনে কর্মরত পর্যবেক্ষক ও ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্যদের মাধ্যমে মিশনটি আরও শক্তিশালী করা হবে। তারা ভোটগ্রহণ, ভোট গণনা এবং ফলাফল সংকলন পর্যবেক্ষণ করবেন।
ইইউ জানায়, তাদের পর্যবেক্ষকরা আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ আচরণবিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করবেন এবং নিরপেক্ষতা বজায় রেখে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকবেন।
নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের সফর সমন্বয়ে সরকারের পক্ষে দায়িত্ব পালনকারী সিনিয়র সচিব ও এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে প্রতিদিনই পর্যবেক্ষক পাঠানোর নিশ্চয়তা বাড়ছে।
তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার পর্যবেক্ষকদের বাড়তে থাকা আগ্রহ আমাদের উৎসাহিত করছে। এটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকার ও বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ওপর তাদের আস্থার প্রতিফলন।
উল্লেখ্য, ৫০টিরও বেশি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতিনিধিত্বে প্রায় ২ হাজার প্রার্থী ৩০০টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে জুলাই সংস্কার সনদ নিয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।























