ঢাকা ১১:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হয় সমঝোতা, নয়তো ফের ‘মিডনাইট হ্যামার’, ইরানকে হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৩:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 91
109

আগামী মাসে অর্থাৎ মার্চেই ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটন একটি সমঝোতা চুক্তি হবে বলে আশা করছেন ট্রাম্প। যদি তা না হয়, তাহলে ‘ভয়ঙ্কর কিছু’ ঘটবে বলে সতর্কবার্তাও দিয়েছেন তিনি।

গতকাল শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন ও দপ্তর হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময়কালে এক প্রশ্নের উত্তরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “আমার মনে হয় সামনের মাসে, এমন সময়ের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি হবে।”

“আমাদের অবশ্যই একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে। নয়তো যা ঘটবে তা হবে খুব ভয়ঙ্কর, ভয়ঙ্কর। আমি এমনটা চাই না, কিন্তু আমাদের একটা সমঝোতা চুক্তি করতেই হবে এবং এক্ষেত্রে তাদের এগিয়ে আসতে হবে। যদি তারা না এগোয় তাহলে ফের অপারেশন মিডনাইট হ্যামার শুরু হবে এবং এবার এই অপারেশন হবে আরও ভয়াবহ।”

মাদাগাস্কারে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে লণ্ডভণ্ড বন্দরনগরী, নিহত ৩১

উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে প্রায় দু’যুগ ধরে তেহরানের সঙ্গে উত্তজনা চলছে ওয়াশিংটনের। ২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর এ উত্তেজনা বাড়তে থাকে।

২০২৪ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। তার ধারাবাকিতাতেই ২০২৫ সালের জুন মাসে ইরান-ইসরায়েলের সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র। সে সময়েই তেহরানের বিরুদ্ধে অপারেশন মিডনাইট হ্যামার পরিচালনা করেছিল মার্কিন সেনাবাহিনী।

তারপর থেকে যুদ্ধবিরতি চললেও দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পর্যায়ে নেই এখনও।

এর মধ্যে গত ডিসেম্বরে ইরানে ব্যাপকমাত্রায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর ফের যুক্তিরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার পারদ চড়তে থাকে। ইরানে ক্ষমতাসীন ইসলামিক প্রজাতন্ত্রী সরকার নিষ্ঠুরভাবে বিক্ষোভ দমন করা শুরু করার পর ট্রাম্প ইরানে সামরিক অভিযানের হুমকি দিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত গত জানুয়ারির মাঝামাঝি বিক্ষোভ শান্ত হয়েছে ইরানে, ট্রাম্পও আর অভিযানের নির্দেশ দেননি।

কিন্তু একই সময়ে, অর্থাৎ গত জানুয়ারির মাঝামাঝি আরব সাগরের মধ্যপ্রাচ্য অংশে নিজেদের বিশাল আকৃতির বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনসহ বেশ কয়েকটি রণতরী মোতায়েন করে যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে আরব সাগর, লোহিত সাগর, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের ৫টি বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ এবং শত শত রণতরী টহল দিয়ে বেড়াচ্ছে।

গত জানুয়ারির শেষ দিকে ওমানের রাজধানী মাস্কাটে ইরানের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করছে মার্কিন প্রতিনিধি দল, প্রধান ইস্যু ইরানের পরমাণু প্রকাল্প। এ বৈঠকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে মাস্কাটে ইরান ও মার্কিন প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক এখন পর্যন্ত ইতিবাচক দিকেই যাচ্ছে। সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

হয় সমঝোতা, নয়তো ফের ‘মিডনাইট হ্যামার’, ইরানকে হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

আপডেট সময় : ০৫:৫৩:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
109

আগামী মাসে অর্থাৎ মার্চেই ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটন একটি সমঝোতা চুক্তি হবে বলে আশা করছেন ট্রাম্প। যদি তা না হয়, তাহলে ‘ভয়ঙ্কর কিছু’ ঘটবে বলে সতর্কবার্তাও দিয়েছেন তিনি।

গতকাল শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন ও দপ্তর হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময়কালে এক প্রশ্নের উত্তরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “আমার মনে হয় সামনের মাসে, এমন সময়ের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি হবে।”

“আমাদের অবশ্যই একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে। নয়তো যা ঘটবে তা হবে খুব ভয়ঙ্কর, ভয়ঙ্কর। আমি এমনটা চাই না, কিন্তু আমাদের একটা সমঝোতা চুক্তি করতেই হবে এবং এক্ষেত্রে তাদের এগিয়ে আসতে হবে। যদি তারা না এগোয় তাহলে ফের অপারেশন মিডনাইট হ্যামার শুরু হবে এবং এবার এই অপারেশন হবে আরও ভয়াবহ।”

মাদাগাস্কারে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে লণ্ডভণ্ড বন্দরনগরী, নিহত ৩১

উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে প্রায় দু’যুগ ধরে তেহরানের সঙ্গে উত্তজনা চলছে ওয়াশিংটনের। ২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর এ উত্তেজনা বাড়তে থাকে।

২০২৪ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। তার ধারাবাকিতাতেই ২০২৫ সালের জুন মাসে ইরান-ইসরায়েলের সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র। সে সময়েই তেহরানের বিরুদ্ধে অপারেশন মিডনাইট হ্যামার পরিচালনা করেছিল মার্কিন সেনাবাহিনী।

তারপর থেকে যুদ্ধবিরতি চললেও দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পর্যায়ে নেই এখনও।

এর মধ্যে গত ডিসেম্বরে ইরানে ব্যাপকমাত্রায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর ফের যুক্তিরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার পারদ চড়তে থাকে। ইরানে ক্ষমতাসীন ইসলামিক প্রজাতন্ত্রী সরকার নিষ্ঠুরভাবে বিক্ষোভ দমন করা শুরু করার পর ট্রাম্প ইরানে সামরিক অভিযানের হুমকি দিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত গত জানুয়ারির মাঝামাঝি বিক্ষোভ শান্ত হয়েছে ইরানে, ট্রাম্পও আর অভিযানের নির্দেশ দেননি।

কিন্তু একই সময়ে, অর্থাৎ গত জানুয়ারির মাঝামাঝি আরব সাগরের মধ্যপ্রাচ্য অংশে নিজেদের বিশাল আকৃতির বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনসহ বেশ কয়েকটি রণতরী মোতায়েন করে যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে আরব সাগর, লোহিত সাগর, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের ৫টি বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ এবং শত শত রণতরী টহল দিয়ে বেড়াচ্ছে।

গত জানুয়ারির শেষ দিকে ওমানের রাজধানী মাস্কাটে ইরানের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করছে মার্কিন প্রতিনিধি দল, প্রধান ইস্যু ইরানের পরমাণু প্রকাল্প। এ বৈঠকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে মাস্কাটে ইরান ও মার্কিন প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক এখন পর্যন্ত ইতিবাচক দিকেই যাচ্ছে। সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি