ঈদের দিন কালবৈশাখী ঝড়ের শঙ্কা

- আপডেট সময় : ১২:৩৯:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬
- / 84
বছর ঘুরে আবারও দুয়ারে পবিত্র ঈদুল ফিতর। আনন্দ আর উৎসবের এই সময়ে বাগড়া দিতে পারে বৈরী আবহাওয়া। কালবৈশাখীর মৌসুম হওয়ায় ঈদের আগে ও পরে দেশজুড়ে ঝড়-বৃষ্টির প্রবল শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ঈদের দিন আবহাওয়া সবথেকে বেশি বৈরী থাকতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি)।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে এবং মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।
আজ শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল ৯ টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎচমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
এদিকে বিডব্লিউওটি বলেছে, ঈদের আগের দিন শুক্রবার থেকে শুরু করে পরবর্তী তিন দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দফায় দফায় ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে ঈদের নামাজের সময় বৃষ্টির কারণে বিঘ্নিত হতে পারে উন্মুক্ত স্থানের জামাত।
বজ্রসহ শিলাবৃষ্টি নিয়ে আবহাওয়ার নতুন বার্তা
ঈদের দিনের আবহাওয়ার বিষয়ে সংস্থাটি বলেছে, আবহাওয়া নিয়ে সবথেকে বেশি উৎকণ্ঠার খবর থাকছে ঈদের দিনের জন্য। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঈদের আগের রাতেই দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল দিয়ে একটি শক্তিশালী কালবৈশাখী প্রবেশ করতে পারে।
বিশেষভাবে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ, সিলেট, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু এলাকায় ঈদের জামাতের সময় ঝড়-বৃষ্টির উচ্চ সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে সকালে ঈদগাহ বা খোলা ময়দানে নামাজ আদায়ে বিঘ্ন ঘটতে পারে।
সংস্থাটি জানায়, সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে ঝড়টি রংপুর ও রাজশাহী হয়ে সকালের মধ্যে খুলনা, বরিশাল, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে ছড়িয়ে পড়তে পারে। দুপুরের মধ্যে এটি চট্টগ্রাম বিভাগেও পৌঁছাতে পারে। এছাড়া বিকেলে সারা দেশে দ্বিতীয় দফায় আরেক দফা ঝড়-বৃষ্টি হতে পারে। ফলে ঈদের দিন দেশের আবহাওয়া দীর্ঘ সময় বৈরী থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
ঈদের আগের ও পরের দিনের পরিস্থিতির বিষয়ে বিডব্লিউওটি জানায়, শুক্রবার (২০ মার্চ) ঈদের আগের দিন সকালে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও দুপুরের পর থেকেই পাল্টে যেতে পারে আবহাওয়া। রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং দেশের অন্যান্য বিভাগের বেশ কিছু এলাকায় কালবৈশাখীসহ ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে ঈদের পরের দিন থেকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। ভোরের দিকে উপকূলীয় কিছু বিভাগে বৃষ্টির প্রবণতা থাকলেও দিনের বেলা দেশের অন্যান্য এলাকায় আবহাওয়া অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
শনিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎচমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
রোববার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎচমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
সোমবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎচমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎচমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।























