সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে দেশের বিভিন্ন জেলায় আগাম ঈদ উদযাপন
- আপডেট সময় : ০৩:৩৮:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬
- / 50
সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে আজ শুক্রবার (২০ মার্চ) দেশের বেশ কয়েকটি জেলার বিভিন্ন গ্রামে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। উৎসবমুখর পরিবেশে এসব এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা আজ সকালে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন।
সবচেয়ে বড় পরিসরে ঈদ উদযাপন হয়েছে মাদারীপুর, শরীয়তপুর, চাঁদপুর, বরগুনা ও পটুয়াখালী জেলায়। মাদারীপুরে ২৫টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ এবং শরীয়তপুরের সুরেশ্বর দরবার শরীফ কেন্দ্রিক ৩০টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করেন। চাঁদপুরে অর্ধশতাধিক গ্রামে এবং বরগুনা ও পটুয়াখালীতেও হাজারো মানুষ আগাম ঈদ উদযাপন করেন।
প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে ডেস্ক রিপোর্ট: সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে এক দিন আগেই পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন লক্ষ্মীপুরের ১১ গ্রামের মানুষ। শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল সাড়ে ৭টায় রামগঞ্জ উপজেলার খানকায়ে মাদানিয়া কাসেমিয়া মাদ্রাসায় ঈদের প্রধান জামাতে নামাজ আদায় করেন শতাধিক মুসল্লি। এতে ইমামতি করেন মাওলানা মোহাম্মদ রুহুল আমিন। এছাড়া রামগঞ্জ উপজেলার ৪টি ও রায়পুর উপজেলার একটি মসজিদে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
এর মধ্যে রামগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও, জয়পুরা, বিঘা, বারোঘরিয়া, হোটাটিয়া, শরশোই, কাঞ্চনপুর ও রায়পুর উপজেলার কলাকোপাসহ ১১টি গ্রামের সহস্রাধিক মুসল্লি আজ ঈদুল ফিতর উদযাপন করেন। এসব গ্রামের মুসল্লিরা পৃথকভাবে নিজ নিজ ঈদগাহ মাঠে ঈদের নামাজ আদায় করেন।
ভোলা জেলার ৫টি উপজেলার ১৪টি গ্রামের প্রায় ৩ হাজার পরিবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টায় বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী গ্রামে মরহুম খলিফা মজনু মিয়ার বাড়ির আঙিনায় ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে জেলার বিভিন্ন স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে তজুমদ্দিন উপজেলার ছালাম মেম্বার বাড়ি, আব্দুল্লাহ মাঝি বাড়ি ও লালমোহন উপজেলার লাঙ্গলখালীর পশ্চিম পাশে পাটোয়ারী বাড়ির জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে মাদারীপুর জেলার ২৫টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আগাম পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের চর কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক।
জানা যায়, সুরেশ্বর দরবার শরীফের অনুসারীরা প্রায় দেড়শ বছর ধরে সৌদির সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদ পালন করে আসছেন। নামাজ শেষে মুসল্লিরা কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ মোতায়েন ছিল এবং সার্বিক পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ ছিল।
নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলায় সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৮টায় নজিপুর পৌরসভার কলোনিপাড়া গ্রামে এ জামাত হয়। এতে প্রায় ৬০-৭০ জন মুসল্লি অংশ নেন। ইমামতি করেন মাওলানা কামারুজ্জামান। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
বগুড়ার গাবতলী, ধুনট ও সোনাতলা উপজেলায় পৃথক স্থানে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে অনুষ্ঠিত এসব জামাতে নারী-শিশুসহ দেড় শতাধিক মুসল্লি অংশ নেন। গাবতলী রেলস্টেশন সংলগ্ন মসজিদে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিছু মুসল্লি ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তিতে আগাম ঈদ পালন করেন। পুলিশ জানায়, সব অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
কুড়িগ্রামের পাঁচ উপজেলার ৬টি গ্রামে সহস্রাধিক মুসল্লি সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন। শুক্রবার সকাল ৯টায় বিভিন্ন স্থানে জামাত অনুষ্ঠিত হয়। মুসল্লিরা জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এর মতাদর্শ অনুসরণ করে একই দিনে রোজা ও ঈদ পালন করেন। নামাজ শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় দোয়া করা হয় এবং উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদ উদযাপন করা হয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ ও সদর উপজেলার কয়েকটি গ্রামে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত জামাতে ১০০-২০০ জন মুসল্লি অংশ নেন। মুসল্লিরা জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে এই নিয়মে ঈদ পালন করে আসছেন এবং এটিকে ধর্মীয়ভাবে সঠিক মনে করেন।
মুন্সীগঞ্জ সদর ও সিরাজদিখান উপজেলার প্রায় ১৫টি গ্রামে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৮টায় আনন্দপুর গ্রামে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় ৭ হাজার মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন। স্থানীয়রা জানান, তারা চাঁদ দেখার হিসাব অনুযায়ী রোজা ও ঈদ পালন করেন। নামাজ শেষে উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করা হয়।
ফেনীর সদর ও পরশুরাম উপজেলার তিনটি স্থানে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে কিছু মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। শুক্রবার সকালে পৃথক জামাতে এ নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়রা জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে ধর্মীয় আচার পালন করে আসছেন। নামাজ শেষে মুসল্লিরা কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
লক্ষ্মীপুরের ১১টি গ্রামে সহস্রাধিক মুসল্লি সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করেছেন। শুক্রবার সকালে রামগঞ্জে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। মুসল্লিরা জানান, তারা বহু বছর ধরে সৌদির সঙ্গে মিল রেখে ধর্মীয় আচার পালন করে আসছেন। নামাজ শেষে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার শশীনাড়া গ্রামে ৪০টি পরিবার সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করেছে। শুক্রবার সকাল ৮টায় স্থানীয় মসজিদে জামাত অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়রা জানান, ২০১২ সাল থেকে তারা এই প্রথা অনুসরণ করছেন। নামাজ শেষে দোয়া ও শুভেচ্ছা বিনিময় করা হয়।
শেরপুরের ৭টি গ্রামে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আগাম ঈদ উদযাপন করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে ১১টার মধ্যে বিভিন্ন স্থানে জামাত অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়রা জানান, এটি তাদের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় বিশ্বাসের অংশ। নামাজ শেষে উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদ উদযাপন করা হয়।
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় সীমিত পরিসরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৮টায় ২৩ জন মুসল্লি এতে অংশ নেন। নামাজ শেষে তারা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করেন। স্থানীয়রা জানান, এটি তাদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে আয়োজন করা হয়।
পিরোজপুরের তিন উপজেলার ১০টি গ্রামের প্রায় ৮০০ পরিবার সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ পালন করেছে। বিভিন্ন স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়রা জানান, তারা বহু বছর ধরে এই প্রথা অনুসরণ করে আসছেন। নামাজ শেষে দোয়া করা হয়।
বরগুনার প্রায় অর্ধশত গ্রামের অন্তত ২০ হাজার মানুষ সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করেছেন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়রা জানান, এটি বহু বছরের প্রচলিত রীতি। নামাজ শেষে উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদ পালন করা হয়।
পটুয়াখালীর ৩৫টি গ্রামের প্রায় ২৫ হাজার মানুষ সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করেছেন। শুক্রবার সকাল ৯টায় বদরপুর দরবার শরীফে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়রা জানান, তারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই নিয়ম অনুসরণ করে আসছেন। নামাজ শেষে মুসল্লিরা কোলাকুলি করে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন।
সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে জামালপুরের সরিষাবাড়ী, ইসলামপুর ও মাদারগঞ্জ উপজেলার ২০টি গ্রামে আগাম ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় সরিষাবাড়ীর বলারদিয়া মধ্যপাড়া মাস্টার বাড়ি জামে মসজিদ মাঠে প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন আজিম উদ্দিন মাস্টার।
জামাতে প্রায় ৩০০ মুসল্লি অংশ নেন, যেখানে নারীদের উপস্থিতিও ছিল। মুসল্লিরা জানান, তারা চাঁদ দেখার ভিত্তিতে রোজা ও ঈদ পালন করেন। নামাজ শেষে কোলাকুলি ও দোয়ার মাধ্যমে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন তারা।
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর দরবার শরিফের পীরের মুরিদ মরহুম খলিফা মজনু মিয়ার ছেলে মো. রাশেদ জানান, আজ ভোলা জেলার ৫ উপজেলার ১৪ গ্রামের প্রায় ৩ হাজার পরিবার ঈদুল ফিতর উদযাপন করছে। ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের পুণ্যভূমি সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে বরগুনার অর্ধশত গ্রামের অন্তত ২০ হাজার মানুষ পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন। উৎসবমুখর পরিবেশে এসব গ্রামের মুসল্লিরা ঈদের জামাতে অংশ নেন।
সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে মৌলভীবাজারে পবিত্র ঈদুল ফিতরের একটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঈদের জামাত শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও কোলাকুলি করেন।
সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ফরিদপুরের বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলার ১২ গ্রামে ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এদিন সকাল ৮টায় বোয়ালমারী উপজেলার মাইটকুমড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রথম ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সকাল সাড়ে ৮টায় মাইটকুমড়া জামে মসজিদ মাঠে আরেকটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এছাড়া দিনাজপুর, গাইবান্ধা, চাঁদপুরসহ আরও কয়েকটি জেলার নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। নামাজ শেষে এসব এলাকার মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন এবং দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় বিশেষ মোনাজাত করেন। এসব এলাকায় আজ রীতিমতো উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। ঘরে ঘরে সেমাই, পায়েসসহ ঈদের নানা বিশেষ খাবার তৈরি করা হয়েছে। দেশের অন্যান্য স্থানে যখন মানুষ ঈদের চাঁদ দেখার অপেক্ষায়, তখন এসব গ্রামে আজই বইছে ঈদের আনন্দের বন্যা।


























নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পালনে বদ্ধপরিকর সরকার: বিএনপি মহাসচিব