মার্চের ২২ দিনে চট্টগ্রাম বন্দরে ২৫ জাহাজ থেকে জ্বালানি খালাস

- আপডেট সময় : ০৯:২০:২১ অপরাহ্ন, রোববার, ২২ মার্চ ২০২৬
- / 80
ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরুর প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেও চট্টগ্রাম বন্দরে জ্বালানি খালাস কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। মার্চের প্রথম দিন থেকে ২২ মার্চ পর্যন্ত ২২ দিনে বন্দরে মোট ২৫টি জাহাজ থেকে জ্বালানি খালাস করা হয়েছে।
রোববার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম।
তিনি জানান, মার্চ মাসে এখন পর্যন্ত মোট ২৫টি জাহাজ থেকে জ্বালানি খালাস সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে ওমান থেকে আসা একটি জাহাজে এলপিজি গ্যাস খালাস কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া থাইল্যান্ড থেকে বেস অয়েল নিয়ে আসা একটি জাহাজ বহির্নোঙরে খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে।
বন্দরের কর্মকর্তারা জানায়, বর্তমানে ‘বিক বরনহলম’ এবং ‘মর্নিং জেন’ নামের দু’টি জাহাজ বন্দরের পথে রয়েছে। জাহাজ দু’টি ২৫ মার্চের মধ্যে বন্দরে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে ওমান থেকে আসা ‘এলপিজি সেভান’ জাহাজে গ্যাস খালাস চলছে। অন্যদিকে থাইল্যান্ড থেকে বেস অয়েল নিয়ে আসা ‘এবি অলিভিয়া’ জাহাজটি বহির্নোঙরের ব্রাভো পয়েন্টে অবস্থান করছে এবং খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে।
সচল থাকছে শিল্প ও পরিবহন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ট্রাফিক ও মেরিন বিভাগের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১ থেকে ২২ মার্চের মধ্যে খালাস হওয়া ২৫টি জাহাজে মূলত ডিজেল, ফার্নেস অয়েল, জেট ফুয়েল ও অকটেন আনা হয়েছে। সেচ মৌসুম এবং কলকারখানার চাকা সচল রাখতে এই জ্বালানিগুলো মূল ভূমিকা পালন করছে।
যুদ্ধের কারণে দেশের অর্থনীতিতে চাপ বাড়ছে: অর্থমন্ত্রী
শিপিং সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি আমদানিকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে বন্দরে কোনো ধরনের জাহাজ জট বা খালাসে স্থবিরতা নেই।
গ্যাস ও বেস অয়েলের সরবরাহ বর্তমানে জেটি ও বহির্নোঙরে দুটি গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ অবস্থান করছে। এর মধ্যে ওমান থেকে আসা ‘LPG SEVAN’ জাহাজটি বর্তমানে খালাস পর্যায়ে রয়েছে, যা গৃহস্থালি গ্যাসের চাহিদা মেটাতে সহায়ক হবে।
অন্যদিকে, থাইল্যান্ড থেকে বেস অয়েল নিয়ে আসা ‘AB OLIVIA’ জাহাজটি বহির্নোঙরের ‘ব্রাভো’ পয়েন্টে অবস্থান করছে, যা দেশের লুব্রিকেন্ট খাতের চাহিদা পূরণ করবে।
আসছে আরও বিপুল জ্বালানি শিপিং এজেন্টদের তথ্যমতে, আগামী ২৫ মার্চ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে ‘BWEK BORNHOLM’ ও ‘MORNING JANE’ নামের আরও দুটি বড় ভেসেল। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই জাহাজগুলোর জ্বালানি জাতীয় গ্রিড ও মজুতে যুক্ত হলে চলমান সেচ মৌসুমে বা বিদ্যুৎ উৎপাদনে কোনো ধরনের সংকটের আশঙ্কা থাকবে না।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, একটি জাহাজ সময়মতো খালাস হওয়া মানে দেশের বড় অঙ্কের অর্থ সাশ্রয় এবং বাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষা। মাত্র ২২ দিনে ২৫টি জাহাজ খালাস করা আমাদের লজিস্টিক সক্ষমতারই প্রমাণ। আমদানির এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, এক মাসের কম সময়ে এতগুলো জাহাজের খালাস প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনার জন্য একটি বড় ইতিবাচক দিক। এর ফলে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির সুযোগ অনেকাংশেই কমে আসবে।




















